
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের নবম দিনেও কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। প্রশাসনের নীরবতার প্রতিবাদে বুধবার চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শাটডাউনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কর্মবিরতিতে রয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও স্টাফরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

বুধবার দুপুর পৌনে ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়। চিকিৎসাকেন্দ্র সংলগ্ন সড়ক হয়ে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি আবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই’ এবং ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, প্রায় নয় দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করা হয়েছে।
এদিকে সকাল থেকে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। বন্ধ রয়েছে ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা। ফলে একাডেমিক ক্যালেন্ডারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনরত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন। দাপ্তরিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। উচ্চশিক্ষাগামী শিক্ষকরা জটিলতায় পড়ছেন। মাসের শেষ দিনেও বেতন-ভাতা না আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূজার বোনাস নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে মধ্যরাত থেকে অধ্যাপক ড. আবু শাহ বিক্ষোভ, শাটডাউন, গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি, স্মারকলিপি, মশাল মিছিল, রেড কার্ড প্রদর্শন, প্রতিবাদী গ্রাফিতি, শ্বেত শাড়িতে গণসাক্ষ্য, পরিচয়পত্রসহকারে মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন তাঁরা।টানা নবম দিনেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না আসায় আন্দোলন আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের এই স্থবিরতা দ্রুত নিরসন না হলে এর প্রভাব পুরো একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পড়তে পারে।