
বাংলা সংগীতের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও শুদ্ধ সংগীতচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো পঞ্চকবির গানের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সুকণ্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদ বাংলাদেশ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অরুণ নাথ।
‘আজি গাও মহাগীতি’ সমবেত সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর একে একে পঞ্চকবির কালজয়ী গান পরিবেশন করেন শিল্পী সুবর্ণা দাশ, জয়শ্রী ধর, ডা. স্বাগতা নন্দী ও শ্যামলী পাল। তাঁদের সুরেলা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।সংগীত পরিবেশনায় যন্ত্রসংগতে ছিলেন কিবোর্ডে রিপন শীল, অ্যাকুস্টিক গিটারে মলয় কুমার ইন্দু, বেহালায় শ্যামল দাশ, বাঁশিতে সুজন দাশ, মন্দিরায় মো. ফারুক হোসেন এবং তবলায় উৎপল দে মিঠু ও সানি দে। তাঁদের সম্মিলিত বাদন সংগীত পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত ও সুরমণ্ডিত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে আলোকিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীতগুণী, গবেষক ও ফুলকির সর্বাধ্যক্ষ শীলা মোমেন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের সংগীত পরিচালক, সুরকার ও শিল্পী সুব্রত দাশ অনুজ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাচিক শিল্পী প্রবীর পাল।
শীলা মোমেন বলেন তাঁর বক্তব্যে বলেন পঞ্চ কবির গান আমাদের নৈতিকতা, আর্দশ, ধারন করতে শেখায়। নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলতে হবে।
সুব্রত দাশ অনুজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন ও অতুলপ্রসাদ সেন—এই পাঁচ কবির গান বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীত জগতের অমূল্য সম্পদ। পঞ্চকবির গানের চর্চা ও প্রসারের মাধ্যমে আমাদের সংগীতের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে অরুণ নাথ বলেন, পঞ্চকবির গান আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুদ্ধ সংগীতচর্চা, সংগীতের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি এবং আগামী প্রজন্মের কাছে বাংলা গানের ঐশ্বর্য তুলে ধরাই সুকণ্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদের অন্যতম লক্ষ্য।
জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমের আবহে সমবেত কণ্ঠে ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা’ গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা, সুরের বৈচিত্র্য ও সংগীতপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পঞ্চকবির গানের এ আয়োজন হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।