চট্টগ্রাম মহানগরীতে দুটি সরকারি অফিসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মেরেছে দুর্বৃত্তরা। ষোলশহর এলাকায় রাতের আঁধারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভবন ও চান্দগাঁও ভূমি কার্যালয় লক্ষ্য করে এই বোমা হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহত বা বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতির না হলেও ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে ফ্লাইওভার ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করে তদন্ত এগোচ্ছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টার পর ষোলশহর ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে অবস্থানরত এলজিইডি ভবন ও চান্দগাঁও ভূমি অফিস লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়।তবে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত এ হামলায় জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেফতারের খবর মেলেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, এলজিইডি ভবনের সামনে নিক্ষিপ্ত দুটি পেট্রোল বোমা মাটিতে পড়ে ভেঙে গেলেও তাতে আগুন ধরেনি। অন্যদিকে চান্দগাঁও ভূমি অফিসের সামনে ছোড়া একটি বোমায় আগুন জ্বললেও তাৎক্ষণিকভাবে চত্বরে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তা নিভিয়ে পাশের নালায় ফেলে দেন। এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় অফিস দুটি। তবে অদূরেই কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল), চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন অবস্থিত হওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে দুই সরকারি ভবনে হামলার এ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে, দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। হামলার পেছনে কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আটক করার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে সিএমপির সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, ফ্লাইওভারের ওপর সুবিধাজনক স্থান থেকে হামলাকারীরা নিচে বোমা ছুড়ে মারে। বিভিন্ন পয়েন্টের ভিডিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এলাকাটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।