প্রত্যেক দপ্তরকে সংস্কারের আওতায় এনে কার্যক্রমগুলো সুনিশ্চিত করবো-জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছেন -জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম বলেছেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সকলে মিলে জেলার সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারী প্রত্যেক দপ্তরকে সংস্কারের আওতায় এনে মেধা, দক্ষতা ও সততা দিয়ে আমাদের কার্যক্রমগুলো সুনিশ্চিত করবো। আমরা একটি পরিবার। যতদিন পর্যন্ত চট্টগ্রামে থাকবো, একটি পরিবার হিসেবে কাজ করতে চাই। এজন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে যাদেরকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদেরকে পরিষদের কার্যক্রমগুলো সুচারুভাবে করতে হবে। জণগণের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্থা ও বন্যা পুর্নবাসন কমিটি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তালিকা জমা দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
আনোয়ারা-বাশঁখালী প্রান্তে তৈলারদ্বীপ সেতু প্রসঙ্গে সওজ’র দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, এ সেতু দিয়ে গাড়ি পারাপারে টোল আদায় করা হতো। এ সেতু থেকে সরকার বছরে ১০ থেকে ১১ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ছাত্র সমন্বয়কদের আন্দোলনের কারণে এ সেতু পারাপারে আপাততঃ টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন-এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডিসি বলেন, এ সেতুতে এক সময় টোল নেয়া হতো। সরকারের রাজস্ব বাড়াতে গিয়ে দেশের যাতে ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি দেখা জরুরী। এ জন্য ছাত্র সমন্বয়কদের সাথে উপজেলা প্রশাসন আলোচনা করবে এবং তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের বিষয়ে সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের কাছে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চাওয়া হবে। জানমাল রক্ষায় কর্ণফুলী ও অন্যান্য স্থানে বন্য হাতির উপদ্রব রোধে বন বিভাগ, আইওসিআর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
সভায় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দিদারুল আলম বলেন, জেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলছে। কোন প্রকল্পে যাতে অনিয়ম না হয় সে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
সভায় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে। সকলের সহযোগিতা পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সভায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতায় সর্বত্র লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুর হট স্পট ভাগ করে রেড ও ইয়েলো জোন চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রামে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮১ জন, মৃত্যুবরণ করেছে ৭ জন ও গত আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০২ জন, মৃত্যুবরণ করেছে ২ জন। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।
সভায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ তাজবিল্লাহ বলেন, কোন ধরণের ভোগান্তি ও হয়রানি ছাড়াই গ্রাহকেরা পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে। তবে কোন রোহিঙ্গা নাগরিক যাতে এখানে এসে ভোটার হতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।
সভায় পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, জেলার ১৫ উপজেলা ও নগরীর পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কর্মস্থলে আগমন ও দায়িত্ব থেকে প্রস্থানের বিষয়টি মোবাইল অ্যাপ্সের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হয়।
সমন্বয় সভায় জেলা খাদ্য অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, পরিসংখ্যান অফিস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাবার বিভাগ, বন বিভাগ, সওজ, এলজিইডি ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাদি-উর রহিম জাদিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দিদারুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম গোলাম মোরশেদ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ, জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ তাজবিল্লাহ, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইনামুল হাছান (লোহাগাড়া), মাসুমা জান্নাত (কর্ণফুলি), জেসমিন আক্তার (বাঁশখালী), অংগ্যজাই মারমা (রাউজান), দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আলী, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অয়ন কুমার ত্রিপুরা, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ ফখরুল আলম, উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস.এম কায়চার, দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন, উপকুলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, বীজ পিনন ও সিডিসি’র উপপরিচালক মোহাম্মদ নাইমুম আরিফ, নিরাপদ খাদ্য অফিসার মুহাম্মদ মুনতাসির মাহমুদ, রাবার বিভাগের মহা ব্যবস্থাপক হাসান মোঃ আবদুল ওয়াজিদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক রিংকু শর্মা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক, প্রতিবন্ধী বিসয়ক কর্মকর্তা সিতারাই ফেরদৌস প্রমূখ। বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর প্রশাসক, জেলার সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে বিক্রি হচ্ছে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ৪৪২ কনটেইনার পণ্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমে নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। কাস্টমসের আগস্ট মাসের নিলাম কার্যক্রমে দুটি ই-অকশনের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এ ১০১ লটে ২৯০ কনটেইনার এবং ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এ ১০৯ লটে ১৫২ কনটেইনার রয়েছে। বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর ২৯০ কনটেইনারে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক বর্জ্য, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, সুতা, কাপড়, সৌর মডিউল, বিভিন্ন ধরনের লবণ, কাগজ, টাইলস ও গৃহস্থালি পণ্য রয়েছে।

বন্দরের কনটেইনার জট কমানো, সক্ষমতা ও কর্ম উপযোগিতা বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে এসব পণ্য নিলামে তোলা হচ্ছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, এ নিলামে ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনারও রাখা হয়েছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো সংরক্ষিত মূল্য রাখা হয়নি।অন্যদিকে, ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর ১৫২ কনটেইনারে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারি, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসির যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট, এলিভেটর ও লবনসহ বিভিন্ন পণ্য।

কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, পুরো নিলাম কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করা যাবে।আগ্রহী ক্রেতারা ২৭ আগস্ট থেকে অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন।

ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর শেষ সময় ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা।অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দর মূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এর প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পণ্য খালাস নিতে হবে। ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর দরপত্র ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর দরপত্র ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় উন্মুক্ত করা হবে।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ই-অকশনের মাধ্যমে বন্দরে পড়ে থাকা অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি কনটেইনার জট কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বন্দরের ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাছ ধরার অবৈধ জাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাগরে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল বসানোর ফলে লাইটার জাহাজের প্রপেলারে জাল জড়িয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পাশাপাশি জাহাজ শ্রমিক ও জেলেদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ ও অপসারণ এবং জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, বিভিন্ন নৌ-চ্যানেলে জাল বসানো বন্ধ হচ্ছেনা। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙরসহ বিভিন্ন নৌপথে অবৈধভাবে এই মাছ ধরার জাল বসানো পুরোপুরি বন্ধ না হলে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লাইটার জাহাজের শ্রমিকরা।

এদিকে ধারাবাহিক অভিযানের পরও জাল বসানো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ লাইটার জাহাজের শ্রমিকদের। জেলে পাড়া-পারকি বিচ, শিপ চ্যানেল-কুতুবদিয়া, সি বিচ-ভাসানচরসহ বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন নৌ-চ্যানেলে অবৈধ জাল বসানো বন্ধ না হলে ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে শিপিং চ্যানেল থেকে জেলেদের জাল ক্লিয়ার না করলে কর্ম বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।

লাইটার জাহাজের মাস্টার সবুজ মিয়া বলেন, মাদার ভ্যাসেলের চারপাশে এবং চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া রুটে লাইটার জাহাজ চলাচলের পথে যেভাবে অবাধে জাল পেতে রাখা হয়, ক্যামেরার ফ্রেমে তা পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়। সাগরে একটি লাইটার জাহাজ চালানো কতটা কষ্টের, তা জাহাজি ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত প্রপেলারে জাল পেঁচিয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকিতে পড়ছি আমরা। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আজ পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। নাবিকদের নিরাপত্তা এবং নৌপথ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। নৌ চ্যানেল নিরাপদ রাখতে অবৈধ জাল অপসারণ করা হচ্ছে। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি সহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্য নিয়ে চলাচল করে লাইটার জাহাজ। কিন্তু নৌ-চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল পেতে রাখায় ঝুঁকিতে পড়ছেন এসব জাহাজের মাস্টার, সুকানি ও শ্রমিকরা। চলন্ত জাহাজের প্রপেলারে জাল জড়িয়ে গেলে মাঝপথে জাহাজ থামিয়ে জাল কেটে বা খুলে এগোতে হয়। এতে একদিকে যেমন জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে জাল নষ্ট হওয়ার অভিযোগে জেলেদের সঙ্গে জাহাজ শ্রমিকদের বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে। কোথাও কোথাও জাহাজের মাস্টার, সুকানি ও শ্রমিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।বন্দর সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট বন্দরের মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ২৮ জনকে আটক করা হয়।

তাদের মধ্যে ২৪ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এরপর ১৫ আগস্ট মূল শিপিং চ্যানেল ও নেভিগেশনাল রুটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও বিপজ্জনকভাবে স্থাপিত বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল এবং জাল স্থাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম শনাক্ত, জব্দ ও অপসারণ করা হয়। ২০ আগস্ট তৃতীয় দফায় অভিযান চালিয়েও বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।সর্বশেষ ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দরের প্রধান শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নৌ-চলাচল নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও ঝুঁকিমুক্ত রাখা এবং জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়।

লাইটার জাহাজের নাবিক সোহেল রানা বলেন, নাবিকদের আন্দোলনের কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের ঘুম ভেঙেছে। ইতোমধ্যে অভিযানও হচ্ছে। তবে নৌযান চলাচলের চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ