ফের সার উৎপাদনে ফিরেছে সিইউএফএল আট মাসে ক্ষতি ১৮৩৭ কোটি টাকার উপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে। সোমবার রাত ১টা থেকে চট্টগ্রাম আনোয়ারায় অবস্থিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত এ কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয় বলে জানান সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ১৮৩৭ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সিইউএফএল কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়। কারখানা সচল অবস্থায় হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় প্লান্টের রিসাইকেল সলিউশন পাম্পে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে কারখানার জন্য আমেরিকা থেকে ৫ কোটি টাকার ২৮টি স্পেয়ার পার্টস ক্রয় করে কারখানায় লাগানো সহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে গ্যাসের জন্য উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। চলতি মাসের ৩ অক্টোবর থেকে গ্যাস পাওয়া গেলেও যান্ত্রিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাত থেকে উৎপাদন শুরু হয়।
সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে কারখানায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন আট মাস বন্ধ ছিল। রবিবার রাত ১টা থেকে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। আশা করছি, কারখানা এবার পুরোদমে চালু করা যাবে। তবে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় সার উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন এ কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়। ইউরিয়া সারের বাইরে এই কারখানায় দৈনিক ৭০০ টন অ্যামোনিয়াও উৎপাদিত হয়। কারখানার উৎপাদিত এসব সার ২৫টির মতো জেলার চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেওয়া হয়। বিসিআইসির ডিলারদের মাধ্যমে প্রতি টন ইউরিয়া সার ২৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয়।
সে হিসাবে ইউরিয়া সার থেকে প্রতিদিন আয় হয় পৌনে তিন কোটি টাকা। আর প্রতি টন অ্যামোনিয়া ৫৪ হাজার টাকা করে মোট ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার দৈনিক অ্যামোনিয়া উৎপাদন হয়। এই হিসাবে দিনে ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদিত হয়। রবিবার পর্যন্ত (১৩ অক্টোবর) ২৪৮ দিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় মোট ৮৩৩ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ইউরিয়া সার ও ১ হাজার ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সমাজ আছে, মানুষ আছে—শুধু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে মানবিকতা?

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, আত্মীয়তা, প্রতিবেশী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই মানুষের সামাজিক জীবন গড়ে ওঠে। একে অপরের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের সামাজিকতার অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র যেন অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, হিংসা, ঈর্ষা ও আত্মকেন্দ্রিকতা।

আজ একজনের উন্নতি অন্যজনের আনন্দের কারণ হওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ভালো কিছু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়ার বদলে তার সফলতার পেছনে নেতিবাচক কারণ খোঁজা হয়। অন্যের ভালো থাকা যেন অনেকের কাছেই নিজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

একটি এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু এখন এমনও দেখা যায়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কিংবা সামাজিক কোনো কাজে এগিয়ে এসে উল্টো নিজের সম্মান ও ইজ্জত নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাহলে মানুষ একসময় অন্যের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহটাই হারিয়ে ফেলবে। আর তখন সমাজে মানুষের সংখ্যা বাড়লেও কমতে থাকবে মানবিকতা।

ভালো মানুষ প্রয়োজন, কিন্তু ভালো মানুষ তৈরি হয় একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশে। যেখানে সত্য কথা বললে অপমানিত হতে হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে শত্রু তৈরি হয় এবং মানুষের উপকার করতে গেলেও সমালোচনার শিকার হতে হয়—সেখানে অনেক ভালো মানুষও একসময় নীরব হয়ে যায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, অর্থ-সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় না। একজন মানুষ কতটা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, কতটা সহানুভূতিশীল হয়েছে এবং অন্যের সম্মান কতটা রক্ষা করেছে—সেখানেই তার প্রকৃত পরিচয়।

সমাজকে সুন্দর করতে হলে আগে আমাদের নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে হবে, বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং অকারণে কারও সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সমাজ বদলের শুরুটা অন্য কারও কাছ থেকে নয়, শুরুটা হতে হয় নিজের কাছ থেকেই।

খুব ইচ্ছে করে—মসজিদে আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ি। এরপর বাবার কবরে কিছুক্ষণ বসি, নীরবে কথা বলি, তারপর কবরের পাশে একটু হাঁটাহাঁটি করি। বাবা নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর ভালোবাসা আর তাঁর রেখে যাওয়া শূন্যতা প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভব করি।

ত্যাগী বিএনপি নেতা পাইচিং মং মারমা পেলেন জেলা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গঠিত হয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। নবগঠিত ১৪ সদস্যের পরিষদে নতুন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া পশ্চিম সোনাইছড়ির সন্তান এবং বিএনপি নেতা পাইচিং মং মারমা।

রাজনৈতিক জীবনে পাইচিং মং মারমা ১৯৮৮ সাল থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। তৎকালীন সময়ে কাউখালী উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় থেকে তিনিই প্রথমদিকের একজন হিসেবে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন।

বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে বিগত সরকারের সময়ে তাঁকে একাধিক মামলার আসামি হতে হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কারাবরণ করতে হয়েছে বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। কারাবন্দি থাকার সময় তাঁর একমাত্র ছেলে ও আপন ছোট ভাইকে হারাতে হয়। পরিবারের এই মর্মান্তিক শোকও তাঁকে রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি বলে স্থানীয়রা জানান।
পাইচিং মং মারমার জেলা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব পাওয়ার খবরে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, নির্যাতন ও প্রতিকূলতার পর তাঁর এই মূল্যায়ন প্রাপ্য ছিল।

তাঁকে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কাউখালী উপজেলাবাসী।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে পাইচিং মং মারমা বলেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে আশীর্বাদ চাই এবং আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি—সেই প্রার্থনা করি। সবসময় জনগণের পাশে থাকতে চাই। জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে পাওয়া দায়িত্বটি আমি রাঙ্গামাটির সাধারণ মানুষের প্রতি উৎসর্গ করলাম।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে পাইচিং মং মারমা রাঙ্গামাটির সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন এবং বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ