শিশু ও নারী সহিংসতার ঘটনাগুলো যেভাবে ভাইরাল হচ্ছে সেগুলো দেখে আমাদের সন্তানেরা আজ হতাশ।

আমাদের সন্তানেরা আজ হতাশ :চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

কেন আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদ নয়-বিষয়গুলো প্রত্যেকের ভেবে দেখা দরকার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ও চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে শিশু ধর্ষণের কয়েকটি ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত।

আমাদের সন্তানেরা কিভাবে নরপশু হলো, কা-কে দেখে হলো, কেন আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদ নয়-বিষয়গুলো প্রত্যেকের ভেবে দেখা দরকার। আজকে রহিম-করিমের (ছদ্মনাম) সন্তান আহত হচ্ছে, কালকে আমাদের সন্তান আহত হবে-এটা আর হতে দেব না। যেখানে এ ধরণের ঘটনা ঘটবে সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। এখন থেকে শিশু ও নারীদেরকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন জরুরী। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিশু ও নারীদের প্রতি সহিংসতা এবং ক্ষতিকর প্রথা প্রতিরোধ’-বিষয়ক পিভিএইচপি প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের ইনসেপশন কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্মশালার আয়োজন করেন।

ডিসি বলেন, শিশু ও নারী সহিংসতার ঘটনাগুলো যেভাবে ভাইরাল হচ্ছে সেগুলো দেখে আমাদের সন্তানেরা আজ হতাশ। এ ধরণের ঘটনা আমরা কখনো প্রত্যাশা করি না। বিবেকের কাছে পরাজিত না হয়ে আমরা নিরাপদ রাষ্ট্র গড়তে চাই, নারী-শিশুদেরকে সুরক্ষিত রাখতে চাই। কর্মকর্তাদের উপর নিজ নিজ অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে বা সকলে আত্মশুদ্ধ হলে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।

কর্মশালায় অন্যান্য ঊক্তারা বলেন, ইদানিং শিশুদের ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের মত ঘটনা আমরা সহ্য করতে পারি না। শিশু ও নারী নির্যাতনের মত ঘটনাগুলো যেভাবে ভাইরাল হচ্ছে তা দেখে আমাদের সন্তানেরা হতাশ। তাদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসার পাশাপাশি জনসচেতনা খুবই জরুরী। সন্তানের প্রতি পিতা-মাতাকে আরও দায়িত্ববান হতে হবে, তাদেরকে নীতি-নৈতিকতা শিখাতে হবে। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সকল ধরণের সহিংসতা, শোষণ, অপব্যবহার ও অবহেলা থেকে শিশু-নারীদেরকে রক্ষা করা এবং এ ধরণের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ‘শিশু ও নারী সুরক্ষা এবং এর মূলনীতি’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পিভিএইচপি প্রকল্পের প্ল্যানিং কর্মকর্তা মোঃ আবু সালেহ। বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিন উদ্দিন (আনোয়ারা), ফারহানুর রহমান (পটিয়া), মোঃ আবদুর রহমান (চন্দনাইশ), সজীব কান্তি রুদ্র (কর্ণফুলী), ফখরুল ইসলাম (সীতাকুন্ড), মোঃ নাজমুল হাসান (রাঙ্গুনিয়া), খোন্দকার মাহমুদুল হাসান (সাতকানিয়া), মেহেদী হাসান ফারুক (বোয়ালখালী), সাঈদ মোঃ ইব্রাহিম (ফটিকছড়ি), এসএম রাহাতুল ইসলাম (রাউজান), জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ, জেলা পুলিশ পরিদর্শক কবির হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা থোয়াইনু মং মার্মা, আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের পেশ ঈমাম মুফতি এহসানুল হক জিলানী, ব্র্যাক’র রিজিওনাল ম্যানেজার হামিদুল হক প্রমূখ। বিভিন্ন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গণমাধ্যমকর্মী ও স্টেকহোল্ডারগণ কর্মশালায় অংশ নেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের স্ত্রী -সন্তানসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রংপুর শহরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।
নিহতদের প্রত্যেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানায় রংপুর শহরের মাছুয়াপাড়ার ওই বাড়িটি দীর্ঘ সময় ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটির দরজা ও তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হবে।তদন্ত শেষ হওয়ার পর চারজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

চিকিৎসকের উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক কান গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকরা। শনিবার (২২ আগষ্ট) চমেক প্রাঙ্গণে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

চমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ফোরামের চট্টগ্রাম সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্মস্থলে একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়। এটি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের কর্মপরিবেশ এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কর্মস্থলে হামলা, হুমকি ও হয়রানির কারণে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রোগীসেবায়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুর রব, অধ্যাপক ডা. আনিসুল হোসেন বাবুল, অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা, অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, ডা. ফয়েজুর রহমান, ডা. নুরুল করিম চৌধুরী ও ডা. ফাহমিদা রশিদ স্বাতী।
বক্তারা অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালকে নিরাপদ কর্মস্থল হিসেবে নিশ্চিত করতে জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, সিসিটিভি ও জরুরি নিরাপত্তা সহায়তা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় একটি বাধ্যতামূলক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন জারি এবং হাসপাতালের দৃশ্যমান স্থানে নিরাপত্তা ও আচরণবিধি প্রদর্শনেরও দাবি জানান চিকিৎসকরা।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ