উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে গ্রামীণ জনপদ বোয়ালখালী হারগাজী খাল ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ ও রাস্তার কাজ সম্পন্ন

নয়ন কান্তি দে, বোয়ালখালী, প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ১০নং আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আহ্লা (ধলঘাট) গ্রামে হারগাজী খাল পানির স্রোতে বিলীন হয়ে যাওয়া ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ জিও ব্যাগ ও রাস্তার উন্নয়নের কাজ গত বৃহস্পতিবার সকালে পরিদর্শনে আসেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান ও ইউপি সদস্য হারুনুর রশীদ চৌধুরী অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়নের ফলে বদলে গেছে সার্বিক চিত্র। দীর্ঘদিনের কাঁচা রাস্তাগুলো এখন ইটের সোলিং ও খাল ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ সাধারণ মানুষের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আহলা শ্রী শ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির থেকে লোকনাথ মন্দির পর্যন্ত প্রায়ই হাফ কিলোমিটার ১০ ফুট পাকা রাস্তা ও ২১০ মিটার খাল ভাঙ্গন রোধে তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পন্ন হয় ৪ জুন ২০২৬। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এলাকার উৎপল দাশ বলেন, “বৃষ্টির দিনে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা হতো। চলাচলের খুব কষ্ট ছিল। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য চলমান কাজ সব সময় তদারকি করায় এখন আমরা শান্তিতে চলাচল করতে পারছি। আমাদের ভোগান্তি শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি ছিলো, কয়েক বছর ধরে খাল ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তা বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। এবার তীর সংরক্ষণ ও রাস্তার উন্নয়ন কাজের ফলে এলাকার মানুষ ভাঙনের ভয় কাটিয়ে স্বত্বি ফিরে পেয়েছে। “আগে এই রাস্তায় কোনো ভ্যান-রিকশা সিএনজি আসতে চাইত না। রাস্তাটি সংস্কার হওয়ার পর এখন খুব সহজেই ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে এবং আমরা প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে যেতে পারছি। রাস্তা করে দেওযায় এলাকার চেহারাটাই এখন সুন্দর হয়ে গেছে।

চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান বলেন, “আমরা জনগণের প্রতিনিধি, কোথায় কি কি প্রয়োজন তা মাথায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি কাজের মান নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত তদারকি করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠুভাবে সব কাজ শেষ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

খুব দ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু হবে : প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) ও চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে তিনি কেইপিজেড পরিদর্শন করেন।

এ সময় জোনটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে দেশি-বিদেশি দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শন শেষে বিজন কান্তি সরকার জানান, খুব দ্রুত চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের কার্যক্রম শুরু হবে। এ জোনে ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কারখানাটি চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নুর জাহান খানম এবং পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৩৬ দিন পর চুয়েটে ক্লাস শুরু, অচলাবস্থা নিরসনে ইউজিসির বৈঠক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আংশিকভাবে শুরু হয়েছে একাডেমিক কার্যক্রম। বুধবার নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের কয়েকটি বর্ষের ক্লাস অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে অন্য কোনো বিভাগে ক্লাস হয়নি। এদিকে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট নিরসনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি। আলোচনার ভিত্তিতে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে সুপারিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল ৯টায় নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ক্লাস শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে। বিভাগটির ২১, ২২ ও ২৩ ব্যাচের ক্লাস অনুষ্ঠিত হলেও উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুটিন অনুযায়ী ল্যাব ক্লাস থাকার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

বিভাগটির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ তালবী বলেন, ‘আজ স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী ল্যাব হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগে আলোচনা করে সেটি স্থগিত করা হয়েছে।’
বিভাগীয় প্রধান ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা বলেন, তিনটি ব্যাচেরই ক্লাস হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। ২১ ও ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের সমাধান হয়নি। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অবস্থান, একাডেমিক কার্যক্রম চলার পাশাপাশি দাবি আদায়ে আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল বলেন, শুরু থেকেই তাঁরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড় রয়েছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে আন্দোলন করছেন। ইউজিসির পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে গঠিত ইউজিসির ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। বিকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য শোনারও কর্মসূচি ছিল।

কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। সদস্যসচিব ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান। অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী।

শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকদের বক্তব্য মৌখিকভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি লিখিত নথিপত্রও কমিটির কাছে দেওয়া হয়েছে। কমিটি এসব বক্তব্য শুনেছে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। এর মধ্য দিয়ে অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

বৈঠক শেষে ইউজিসির সদস্য ও পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, চুয়েটের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম দিনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যও শোনা হবে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ছাত্রদলের ছয় থেকে সাতজন নেতাকর্মী পরামর্শক কমিটির সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন।

পরে সাংবাদিকদের ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে তাঁরা কাজ করেন। উপাচার্য নিয়োগ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও একটি সার্বিক প্রক্রিয়ার বিষয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে তাঁরা প্রতিপক্ষ হিসেবে আসেননি; অচলাবস্থা নিরসনে নিজেদের মতামত তুলে ধরতেই কমিটির সঙ্গে দেখা করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসা কয়েকজনকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়েও তাঁরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই প্রতিবাদে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩৬ দিন অচলাবস্থার পর বুধবার সীমিত পরিসরে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও উপাচার্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের অবসান হয়নি।

এ অবস্থায় ইউজিসির পরামর্শক কমিটির মতবিনিময় ও সুপারিশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ