কক্সবাজার:

চকরিয়ার এমপি জাফরের ৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৭ গুণ, ২ মামলায় পেয়েছেন খালাস

বিশেষ প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজার ১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সরকার দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম জাফর আলম। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করার সময় তাঁর বাৎসরিক আয়, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৩ টাকা। যেখানে তাঁর নিজের নামের ছিল ৯৭ লাখ ৪০ হাজার ৪৯৩ টাকার সম্পদ আর স্ত্রীর নামে ছিল ৬২ হাজার ৪০ টাকার ৫ শত টাকার সম্পদ।
৫ বছর আগে এমপি জাফর আলমের যৌথ মালিকানা বা তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের কোন আয় ছিল না। ২০১৮ সালের নির্বাচন চলাকালিন সময় এমপি জাফর আলমের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধিন ২ টি মামলা ছিল।

কিন্তু ৫ বছরে বদলে গেছে এমপি জাফর আলমের সম্পদ। ২০২৩ সালে এসে তাঁর বাৎসরিক আয়, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ দাঁড়িয়ে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৫ টাকা। যেখানে রয়েছে তাঁর নিজের নামে ১০ কোটি ৭৮ লাখ ৬৩ হাজার ৮৯ টাকার সম্পদ। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৭১ হাজার ২৫৪ টাকা, যৌথ মালিকানায় রয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের রয়েছে ৩৩ লাখ ৯ হাজার ৬০৩ টাকার সম্পদ। তবে বিচারাধিন ২ টি মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালেরর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশন বরাবরে এমপি জাফর আলমের জমা দেয়া হলফনামায় মিলেছে এসব তথ্য। আর সেই হলফনামার তথ্য বলছে, এমপি জাফর আলমের ৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৭ গুণ।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় এমপি জাফর আলম উল্লেখ করেছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং মৎস্য চাষী। তিনি কৃষিখাত থেকে বছরে আয় করেছেন ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০১ টাকা, একই খাত থেকে তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ৭ লাখ ২২ হাজার ৭ শত টাকা। বাড়ি, দোকান ও এপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বছরে আয় ৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৬০ টাকা, এই খাত থেকে তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ব্যবসায় থেকে তাঁর বছরে আয় ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮০ টাকা, তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে আয় ২ লাখ ৭ হাজার ৮৮২ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানতের ক্ষেত্রে বছরে মুনাফা ১৮৩ টাকা, তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে মুনাফা ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫১ টাকা। পেশাগত ক্ষেত্রে বছরে আয় ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা, তাঁর আয়ের উপর নির্ভরশীলদের বছরে আয়৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭০ টাকা।

এমপি জাফর আলমের বর্তমানে অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নগদ রয়েছে ৪০ লাখ টাকা, স্ত্রীর নগদ রয়েছে ২০ লাখ টাকা, নির্ভরশীলদের নগদ রয়েছে ৫ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৪৮ টাকা, স্ত্রীর জমা রয়েছে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০১ টাকা। এমপি জাফরের রয়েছে ১ হাজার টাকা দামের একটি শেয়ার।

নিজের নামের কোন এফডিআর না থাকলেও স্ত্রী নামে রয়েছে ১৮ লাখ টাকার এফডিআর। গাড়ি রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের ২ টি। নিজের কাছে স্বর্ণ রয়েছে ১০ ভরি, স্ত্রী রয়েছে ৩০ ভরি আর নির্ভরশীলদের রয়েছে ৩০ ভরি। ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিজের রয়েছে ২ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, নির্ভরশীলদের রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার সামগ্রী। আসবার পত্র নিজের নামে ১ লাখ টাকা, স্ত্রী নামে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার, নির্ভরশীলদের রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এমপি জাফর আলম তাঁর স্থাবর সম্পদ বিবরণীতে লেখেছেন, তাঁর নামে ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৬২৫ টাকা মূল্যের ১৫০.৩৪ শতক, স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা মূল্যে ৬১৯ শতক কৃষি জমি রয়েছে। একই সঙ্গে যৌথমালিকানাধিন কৃষি জমি রয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৫৭ টাকার জমি। একই সঙ্গে নিজের নামে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৬২ টাকা মূল্যের ২৪৩.৯১ শতক, স্ত্রীর নামে ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৪২ হাজার ৪৩৩ টাকা মূল্যে ৫৩.২৭ শতক অকৃষি জমি রয়েছে। এমপি জাফর আলমের রয়েছে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের নিজ বাড়ি ও দালান, ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের মৎস্য খামার, ১ কোটি ৮৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬ শত টাকা মূল্যের নিমার্ণাধিন কমপ্লেক্স।

যার বিপরীতে এমপি আফর আলম ব্যাংক থেকে ৭০ লাখ টাকা ঋণ এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৫ টাকা ধারে মালামাল ক্রয় করেছেন।

কিন্তু ৫ বছর আগে ২০১৮ সালে এমপি জাফর আলমের কৃষিখাত থেকে বছরে আয় ছিল ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে বছরে আয় ছিল ৩ লাখ টাকা, ব্যাংক আমানত ছিল ২৪ হাজার ৬৪৬ টাকা। যেখানে স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের কোন আয়ই ছিল না।

৫ বছরে আগে অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের কাছে নগদ ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৫১ টাকা, স্ত্রীর কাছে নগদ ১০ হাজার টাকা ছিল। ব্যাংকে নিজের নামে ১ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ টাকা জমা ছিল। নিজ ও স্ত্রীর নামে ৫ শত করে ১ হাজার টাকা শেয়ার ছিল। নিজের নামে বীমা সঞ্চয় ছিল ২৪ হাজার ৬৪৬ টাকা, ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি, ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য, ১ লাখ টাকার আসবার পত্র ছিল। স্ত্রীর ছিল ১০ ভরি স্বর্ণ। যেখানেও ছিল না নির্ভরশীলদের নামে কিছুই।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের নামে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যে .০২৪০ শতক এবং ৪০ হাজার টাকা মূল্যের .০২০ শতক কৃষি জমি ছিল। নিজের নামে ১৬ লাখ ৫ হাজার ১৫০ টাকা মূল্যের .০৬৯৫ শতক ও স্ত্রী নামের ৩০ লাখ টাকা মূল্যের .০৩০ শতক অকৃষি জমি ছিল। আবাসিক বাড়ি ছিল ২ লাখ টাকা মূল্যের আর মৎস্য চাষ থেকে আয় ছিল ৪০ হাজার টাকা।

পাঁচ বছর আগে জাফর আলমের বাড়ি থেকে আয় ছিল না। তখন ব্যবসা থেকে তাঁর আয় ছিল তিন লাখ টাকা। এবার বাড়ি ও দোকান ভাড়া দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৬০ টাকা, নির্ভরশীলদের আয় ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে জাফর আলমের আয় ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮০ টাকা। স্ত্রীর আয় ২ লাখ ৭ হাজার ৮৮২ দশমিক ৬৩ টাকা দেখানো হয়।

পাঁচ বছর আগে ব্যাংক আমানত থেকে জাফর আলমের আয় ছিল ২৪ হাজার ৬৪৬ টাকা। নগদ টাকা ছিল ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ৫১১ টাকা। স্ত্রীর নামে নগদ টাকা দেখানো হয় ১০ হাজার টাকা। জাফর আলমের নামে তখন ব্যাংকে জমা ছিল ১ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে জমা ছিল ৩০ লাখ টাকা। জাফর আলমের বিমা সঞ্চয় ছিল ২৪ হাজার ৬৪৬ টাকা। ছিল ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের পাজেরো জিপ একটি। স্ত্রীর নামে সোনা ছিল ১০ ভরি।

এবারের হলফনামায় জাফর আলমের নগদ টাকা দেখানো হয় ৪০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকা। আর নির্ভরশীলদের নামে পাঁচ লাখ টাকা।

জাফর আলমের নামে ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৪৮ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০১ টাকা। জাফর আলমের নিজের নামে চিরিঙ্গা বহুমুখী সমবায় সমিতির শেয়ার আছে ১ হাজারটি। স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র, এফডিআর আছে ১৮ লাখ টাকার। জাফর আলমের নিজের নামে ১ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের গাড়ি আছে দুটি। সোনা আছে ১০ ভরি, স্ত্রীর নামে সোনা দেখানো হয়েছে ৩০ ভরি, নির্ভরশীলদের নামে ৩০ ভরি।

পাঁচ বছর আগে জাফর আলমের কৃষি জমি ছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের দশমিক ০২৪০ শতক। স্ত্রীর নামে ছিল ৪০ হাজার টাকা দামের দশমিক ০২০ শতক জমি। জাফর আলমের নিজের নামে অকৃষি জমি ছিল ১৬ লাখ ৫ হাজার ১৫০ টাকা দামের দশমিক ০৬৯৫ শতক। স্ত্রীর নামে ছিল ৩০ লাখ টাকা দামের দশমিক ০৩০ শতক। জাফর আলমের নিজের নামে ২ লাখ টাকার একটি আবাসিক বাড়ি, ৪০ হাজার টাকা দামের ২০ একরের ইজারাপ্রাপ্ত একটি চিংড়ি খামার দেখানো হয়। দায়দেনাও ছিল না।

এবার এই সংসদ সদস্যের নামে কৃষি জমি দেখানো হয়েছে ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৬২৫ টাকা দামের ১৫০ দশমিক ৩৪ শতক জমি। স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা দামের ৬১৯ শতক জমি। যৌথ মালিকানায় জাফর আলমের মূলধন (শেয়ার অংশ) দেখানো হয় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জাফর আলম। গত ৫ বছরে এমপি জাফর আলম তাঁর সম্পদ বাড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩৭ গুণ। এনিয়ে ইতিমধ্যে নানা অভিযোগও উঠেছে।

এ নিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ আগস্ট জাফর আলম, তাঁর স্ত্রী শাহেদা বেগম, ছেলে তানভীর আহমদ সিদ্দিকী তুহিন ও মেয়ে তানিয়া আফরিনকে তলব করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কক্সবাজার জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম। গত ৪ সেপ্টেম্বর জাফর আলমসহ অভিযুক্ত চারজন দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে সম্পদের বিবরণ তুলে ধরেন।

এরপর দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগের ভিত্তিতে করা অনুসন্ধানে শুরু করেন। অনুসন্ধানে এমপি জাফর আলম ও তার স্ত্রীসহ সন্তানদের বিরুদ্ধে ২০০ শতাধিক জমি দলিলের সত্যতা পেয়েছে দুদক। তবে এসব দলিলের সিংহভাগই ‘পাওয়ার অব এ্যাটর্নি’ মূলে এমপি জাফরের মালিকানা বলে জানান দুদক।

কিন্তু অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় এখনো এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করা যাবেনা বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।

এমপি জাফর আলম বলেন, আমি জায়গা জমির ব্যবসা করি, অনেক জমি কিনে সেটা আবার বিক্রি করে দিয়েছি। তাই যে সকল জমি বিক্রি করেছি সেটা হলফনামায় তুলে ধরিনি। তবে, আমার সম্পদের পরিমাণ আয়কর বিবরণীর সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে।

হলফনামায় সম্পদ ও নগদ অর্থ বৃদ্ধির বিষয়ে জাফর আলম বলেন, জমি-জমার দামও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে আমার আয়ও বেড়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে এবং তাদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে সিআরবি-তে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস, প্রধান প্রকৌশলী মো: তানভিরুল ইসলাম,

প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক শওকত জামিল মোহসী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামান, যন্ত্র প্রকৌশলী আমীর উদ্দিন, ডেপুটি সিওপিএস তারেক মুহাম্মদ ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মুরসালীন রহমান, টিএসও আহসান উদ্দিন, ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার রিয়াসাদ ইসলাম, ডেপুটি সিসিএম মো: হারুনুর রশিদসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, আন্ত:নগর ট্রেনগুলোতে কিছু বিনা টিকিটের যাত্রী এসি শ্রেণির কোচ ও কেবিনে ভ্রমণ করে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন। তারা কখনোই টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করেন না। টিকিট দেখতে চাইলে ৮-১০ জন একত্র হয়ে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টিকিট চেকিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেন। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এদের বিনা টিকিটে ভ্রমণ ছাড়াও সরকারি কাজে বাধা সহ চলন্ত ট্রেনে হামলা করে ফৌজদারি অপরাধ করছে।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, ৪ আগস্ট ২৬ বনলতা এক্সপ্রেস এবং ২৫ জুলাই ২৬ সুন্দরবন ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীরা সন্ত্রাসী হামলা করেন। এ ছাড়া গত ৭ আগস্ট ২৬ ৭৫৩ সিল্কসিটি ট্রেন আব্দুলপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর এসি কোচে কয়েকজন বিনা টিকিটের যাত্রী পাওয়া যায়। তাদের ন্যূনতম ভাড়া ও জরিমানা আদায় করে নন-এসি কোচে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রটি রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- এসব ঘটনার ফলে টিকিট চেকিং কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর কারণে টিকিট চেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারি রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মানববন্ধনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর এ ধরনের অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদান একটি ফৌজদারি অপরাধ। গত ৭ আগস্ট ২৬ বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।এছাড়া, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অফিস কক্ষেও কিছু সন্ত্রাসী দ্বারা হেনস্তা ও হুমকির শিকার হচ্ছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

একই বিষয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় কার্যালয়েও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তৌষিয়া আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।মানববন্ধন থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সবুজে-সৌন্দর্যে বদলে গেল অক্সিজেন চত্বর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার চিত্র পেছনে ফেলে নান্দনিক সৌন্দর্যে নতুন রূপ পেয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন চত্বর। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চত্বরটি সাজানো হয়েছে সবুজ গাছপালা, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক বিভিন্ন উপকরণে।

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত অক্সিজেন মোড়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত এই এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। চত্বরের মাঝের অংশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও ফুলের গাছ লাগানোর পাশাপাশি নান্দনিক নকশায় সাজানো হয়েছে পুরো এলাকা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগ ও নির্দেশনায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও সড়ক ডিভাইডারে সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অক্সিজেন চত্বরও পেয়েছে নতুন নান্দনিক রূপ।

এ বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সবুজায়নের আওতায় এনে নাগরিকদের জন্য সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে চট্টগ্রামকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি অক্সিজেন চত্বরের সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে ব্যস্ততম এই মোড়টি ভবিষ্যতে নগরীর অন্যতম নান্দনিক ও সবুজ স্থান হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

আলোচিত খবর

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন, যোগ দেবেন ৫ কর্মসূচিতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চট্টগ্রাম আসছেন তারেক রহমান। বন্দরনগরীর বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় করারও সুযোগ পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস উদ্দিপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিতে চট্টগ্রামে আসবেন। এ সফরে দলের নেতাকর্মীদের বাইরে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তিনি একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বললেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী একদিনের সফরে চট্টগ্রামে আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পৌঁছাবেন। বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

দুপুর ১টায় ফটিকছড়ি উপজেলায় আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর শাহ আহমদ শফির কবর জেয়ারত করবেন।
এরপর হাটহাজারী উপজেলায় যাবেন তারেক রহমান।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে দেবেন ১০ হাজার টাকা করে।
হাটহাজারী থেকে নগরীতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী উঠবেন পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে। সন্ধ্যায় হোটেলের হলরুমেই হবে বিএনপির সাংগঠনিক সভা। রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তিনি।


চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানালেন, ‘সভায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সবাই থাকবেন। থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রতিটি থেকে তিন থেকে পাঁচজন করে নেতা উপস্থিত হবেন। আহ্বায়ক কমিটিতে নেই এমন কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্য যোগ দেবেন এতে।’
প্রত্যেক সহযোগী সংগঠনের নগর কমিটি থেকে দুইজন করে নেতাকে সভায় যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতারা সভায় অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ