ফ্রি-ল্যান্সিং বেকারত্ব সমস্যা দূর করে

ফ্রি-ল্যান্সিং করে প্রতিষ্ঠিত যুবায়ের প্রতিমাসে আয় করছেন লাখ টাকা

এস এম আলমগীর চাঁদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বেকারত্ব সমস্যা অন্যতম সমস্যা । দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে এসে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে । বাংলাদেশ ও এর ব্যাতিক্রম নয় ।বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও একটা কাজের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অনেক শিক্ষিত বেকার। অনেক কেই দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে চাকুরী নামক সোনার হরিণ টি হাতের নাগালে না পাওয়ার কারনে । মাগুরা জেলার বড়ো শলই এলাকার অধীবাসি আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস ও মমতাজ বেগম দম্পতির ছেলে যুবায়ের হোসেন তেমনি এক যুবক, যে সংসারের অভাব অনটনের কারনে চাকুরীর আশায় ঘুরেছেন দ্বারে দ্বারে । কিন্তু মেলেনি কোনও উপযুক্ত কাজ । দুই ভাই এক বোন সহ পাঁচ জনের পরিবারে দু বেলা দু মুঠো খাবার জুটত না । আর্থিক অনটনের কারনে এক সময় লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে যুবায়ের আলীর
এ সময় যুবায়েরের মনে পরিকল্পনা আসে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ফ্রি ল্যান্সিং করে অনেক বেকার যুবক যুবতী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।
কিন্তু কাজটা এতটা সহজ ছিল না । এর জন্য দরকার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার ।
কিন্তু সেটা কেনার সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না । অবশেষে যুবায়েরের মা তার গলার চেইন বিক্রি করে দেন ছেলের কম্পিউটার কেনার আবদার পুরনের জন্য । মায়ের স্বর্ণের চেইন বিক্রি করা টাকায় কেনা হয় কম্পিউটার । প্রথমে তিনি ইউটিউব দেখে এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বড়ো ভাইদের ধারনা নিয়ে তিনি শুরু করেন তার শখের ফ্রি ল্যান্সিং ।
পরবর্তীতে তিনি প্রশিক্ষণ এবং ইউটিউবের ভিডিও দেখে ফ্রি ল্যান্সার সম্পর্কে সব কিছু আয়ত্ত করেন ।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ফ্রি ল্যান্সার যুবায়ের বলেন, বড়ো ভাইদের সহযোগিতায় প্রথমে তিনি শত টাকার কাজ দিয়ে শুরু করি ।তারপর ধীরে ধীরে বড়ো বড়ো কাজ আমার ভাগ্যে জুটতে থাকে । তারপর এই শাখায় ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগে গেল ।
এখন তিনি দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত ফ্রি ল্যান্সার । মাসে আয় করেন লাখ টাকা । ফ্রি ল্যান্সিং থেকে আয়ের টাকায় যুবায়ের করেছেন বাড়ি, গাড়ি ।
জমিও কিনেছেন তিনি । যুবায়ের বর্তমানে মাগুরা বিহারীলাল শিকদার সরকারি মহাবিদ্যালযের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র । বেকার সমস্যা যেখানে প্রকট সেখানে যুবায়ের ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত যুবকের এক জীবন্ত উদাহারন ।
বর্তমানে শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে, তাদের দক্ষ জনসম্পদে পরিনত করার উদ্দেশ্যে, দক্ষ ফ্রি ল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম।
ইতিমধ্যেই তার থেকে কাজ শিখে অনেকে ভাল আয় করছেন ।সফল ফ্রি ল্যান্সার যুবায়ের বলেন, আমি চাই দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা শুধুমাত্র সরকারি চাকরির আশায় না ঘুরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রি ল্যান্সার হয়ে নিজে উদ্যোক্তা হয়ে কাজ করুক । তাহলেই বেকার সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে । এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ইপিজেডের ৫০১টি শিল্প প্লট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাহিদার সমান বিদ্যুৎ পেয়ে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৫০১টি শিল্প প্লটে। স্বস্তি ফিরেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়ে ইপিজেডের নিজস্ব ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে পিডিবি থেকে পাওয়া ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো যাচ্ছিল না চাহিদার অর্ধেকও। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল কারখানাগুলোতে। গত শনিবার থেকে ইপিজেডের চাহিদা অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ইপিজেডে কর্মসংস্থান প্রায় দুই লাখ মানুষের। এখানে আছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০১টি শিল্প প্লট। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া ও ভারতের বিনিয়োগকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।বছরে প্রায় ২৩৭ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় ইপিজেড থেকে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে শনিবার থেকে সব শিল্প প্লট চাহিদা অনুযায়ী ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে। পুরো বিদ্যুৎই পিডিবি সরবরাহ করছে। এতে স্বাভাবিক হয়েছে উৎপাদন।

জানা গেছে, ইপিজেডের কারখানাগুলো পুরোদমে চালাতে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এর মধ্যে ১৫ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করে বেসরকারি ইউনাইটেড গ্রুপের ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। গ্যাস সংকটের কারণে ওই কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় ইপিজেড কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিডিবি ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। বাকি ৩৫ মেগাওয়াট না পাওয়ায় ৫০১টি শিল্প প্লটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিনিয়োগকারীরা সাপ্তাহিক ছুটি পরিবর্তন, কর্মঘণ্টা কমানো, ওভারটাইম বন্ধ এবং ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারের মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

পিডিবি দক্ষিণ জোনের প্রধান কামাল উদ্দিন বললেন, চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুত দেয়ার সক্ষমতা আমার ছিল না। এরপরও আমি দেশের স্বার্থে বিকল্প চেষ্টা করেছি। সফলও হয়েছি। দেশের অগ্রাধিকার এই খাতে বিদ্যুত দিতে পেরে আমারও ভালো লাগছে।হেমপেল রি ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। উৎপাদন স্বাভাবিক করতে কারখানাগুলো পুরোদমে কাজে নেমেছে। এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের অস্থিরতায় দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

আজ বুধবার(১২ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেন।

ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার দরে এসব এলএনজি কেনার সুপারিশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ