৬৯ এর গণঅভূত্থানের শহীদ হারুনের রাষ্ট্রীয়স্বীকৃতির দাবি

ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৯৬৯ সালের গণঅভূত্থ্যানে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শহীদ আজিজুল হক হারুনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন গণআন্দোলনের তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ বলেন, ২৭ জানুয়ারি আসলেই আমরা একটা অনুষ্ঠান করি। একটা আলোচনা হয়, শহীদ হারুন বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও দোয়ার মধ্যে দিয়ে হারুনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কিন্তু আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে তার কোন গেজেট হয় নাই। আগামী হারুন দিবসের পূর্বেই শহীদ হারুনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও গেজেটের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় হারুন পার্কে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের আলোচনা সভায় অতিথি থেকে তিনি এসব দাবি জানান।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে শহীদ হারুনবেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ হাইয়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শহীদ আজিজুল হক হারুনের ছোট ভাই শফিকুল আলম চাঁন মিয়া, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ খান পাঠান সেলভী, অচিন্তপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ উল্লাহ আঃ হাই, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আঃ মুন্নাফ, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল গফুর, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট জসীম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রহিম উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান মজনু, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শিউলী চৌধুরী, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ মিলন ও শহীদ হারুন স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি ফজলুল হকের সন্তান রাজিবুল হক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা আন্দোলনের সময় ঢাকা নবকুমার ইনস্টিটিউটের ছাত্র মতিউর রহমান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে সারাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নতুন মাত্রা তুঙ্গে ওঠে। আর এই বিক্ষোভের জের ধরেই ২৭ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১১টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তৎকালীন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ফজলুল হকের নেতৃত্বে গৌরীপুর কলেজ থেকে ছাত্ররা একটি বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের মধ্যবাজার ধানমহালের কাছে আসামাত্রই তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এম. এ সামাদের নির্দেশে আন্দোলনরত ছাত্রদের মিছিলের ওপর দাঙ্গা পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ওই সময় মিছিলের অগ্রভাগে থাকা পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন ছাত্রনেতা গৌরীপুর কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আজিজুল হক হারুন।
শহীদ হারুনের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ছামারুল্লাহ্ গ্রামের মৃত মিয়া বক্স ও মাতা খাতুন্নেছার পুত্র। শহীদ হারুনরা ছিলেন ৬ ভাই ও ৩ বোন। তার মাঝে এক ভাই বেঁচে আছেন। নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশেই ৬৯’র গণ-আন্দেলনে শহীদ আব্দুল আজিজুল হক হারুন চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন। তার জরাজীর্ণ কবরটি এলাকার লোকজনের সহায়তায় কিছু ইট দিয়ে বেষ্টনী করে টাইলস করে রাখা হলেও এখন আর কেউ এর খোঁজ রাখে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে রশি ছিঁড়ে পাইলট আহত, বিদেশি জাহাজ আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একটি বিদেশি জাহাজ থেকে পড়ে বন্দরের নিজস্ব পাইলট আহত হয়েছেন। ‘বক্স এনডেভার’ জাহাজ থেকে মই (ল্যাডার) বেয়ে নিচে নামার সময় রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান তিনি। আহত ব্যক্তির নাম ক্যাপ্টেন আ জ ম রবিউজ্জামান। গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগষ্ট) সকাল থেকে তদন্ত শুরু করেছে কমিটি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজের পাশে থাকা বোটে না পড়ে গভীর সাগরে পড়ে গেলে রবিউজ্জামানের মৃত্যুঝুঁকি ছিল। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। ডান হাতে ও পিঠে আঘাত পেয়েছেন তিনি। তাকে বন্দর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর জাহাজটি আটক করে বন্দরের বহির্নোঙরে চার্লি অ্যাংকরেজে নোঙর করে রাখা হয়েছে। বহির্নোঙর থেকে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল জাহাজটির। এ ঘটনায় দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগষ্ট) সকাল থেকে তদন্ত শুরু হয়।

চিকিৎসকের উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক কান গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকরা। শনিবার (২২ আগষ্ট) চমেক প্রাঙ্গণে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

চমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ফোরামের চট্টগ্রাম সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্মস্থলে একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়। এটি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের কর্মপরিবেশ এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কর্মস্থলে হামলা, হুমকি ও হয়রানির কারণে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রোগীসেবায়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুর রব, অধ্যাপক ডা. আনিসুল হোসেন বাবুল, অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা, অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, ডা. ফয়েজুর রহমান, ডা. নুরুল করিম চৌধুরী ও ডা. ফাহমিদা রশিদ স্বাতী।
বক্তারা অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালকে নিরাপদ কর্মস্থল হিসেবে নিশ্চিত করতে জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, সিসিটিভি ও জরুরি নিরাপত্তা সহায়তা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় একটি বাধ্যতামূলক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন জারি এবং হাসপাতালের দৃশ্যমান স্থানে নিরাপত্তা ও আচরণবিধি প্রদর্শনেরও দাবি জানান চিকিৎসকরা।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ