অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা অফিস:

জাতীয়:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা: আধুনিক-প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষিত-দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউই অশিক্ষার অন্ধকারে থাকবে না।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের দেশের মানুষকে শিক্ষিত, দক্ষ, আধুনিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি।
সামনে আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কাজেই কেউই অশিক্ষার অন্ধকারে থাকবে না।
সবাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেন শিক্ষিত হয়ে বা তাদের দক্ষতা, কর্মশক্তিটা বিকশিত করতে পারে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।
টানা চার বারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের পথ চলায় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো সে ঘোষণা আমরা দিয়েছি।
সেই প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা তৈরি করেছি, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সেগুলো আমরা সংযুক্ত করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাবো।
একুশের চেতনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা শুধু আমাদের স্বাধীনতাই দিয়ে যাননি। সেই সঙ্গে একটা মর্যাদাবোধ দিয়ে গেছেন। আমরা বিজয়ী জাতি হিসেবে সারা বিশ্বে আমি মাথা উঁচু করে চলতে চাই। এই কথাটা সকলকে মনে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পরে বিজয়ী জাতি হিসেবে মর্যাদাটা বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলেছিল। আজকে অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি আবার বাঙালি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। সেই মর্যাদা আমরা ফিরিয়ে এনেছি। এই মর্যাদা সমুন্নত রেখেই আগামী দিনে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কারো কাছে হাত পেতে নয়, ভিক্ষা করে নয়। আত্ম মর্যাদা নিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। আমরা মাথা নত করে আর চলবো না, মাথা উঁচু করেই চলবো।
গুণীজনদের সম্মাননার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যারা জনগণের সেবা করে তাদের সেবা করতে পারাটা এটা নিজেকে ধন্য মনে করি। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখেছেন বা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যারা অবদান রেখেছেন, ক্রিড়া-সংস্কৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সম্মাননা দিলে আমাদের নতুন প্রজন্ম (অনুপ্রেরণা পাবে)।
তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন জায়গায় যারা অবদান রাখছেন অবশ্যই তাদের খুঁজে বের করে সম্মাননা দেওয়া হবে।
এ বছর একুশে পদক পেয়েছেন ২১ জন। যাদের একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তঘেঁষা ভোলাহাট উপজেলার মুসরিভূজা গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক (৯১)। দই বিক্রির টাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন লাইব্রেরি। এছাড়া স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেওয়াসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অনুদান দেন সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত জিয়াউল হক।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জিয়াউল হকের সমাজ সেবামূলক কাজের প্রশংসা করেন এবং পাঠাগারের জন্য একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগে ২১ বিশিষ্টজনের হাতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এবার ভাষা আন্দোলন ক্যাটাগরিতে মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন দুজন। তারা হলেন- আশরাফুদ্দীন আহমদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া (মরণোত্তর)।
শিল্পকলার বিভিন্ন শ্রেণিতে ১১ জন পেয়েছেন এই পদক। সংগীতে পেয়েছেন জালাল উদ্দীন খাঁ (মরণোত্তর), বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, বিদিত লাল দাস (মরণোত্তর), এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর) ও শুভ্র দেব। অভিনয়ে ডলি জহুর ও এমএ আলমগীর, আবৃত্তিতে খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (শিমুল মুস্তাফা) ও রূপা চক্রবর্তী, নৃত্যকলায় শিবলী মোহাম্মদ এবং চিত্রকলায় শাহজাহান আহমেদ বিকাশ।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিংয়ে কাওসার চৌধুরী, সমাজসেবায় মো. জিয়াউল হক ও আলহাজ রফিক আহামদ।
ভাষা ও সাহিত্যে এবার একুশে পদক পেয়েছেন চার জন। তারা হলেন—মুহাম্মদ সামাদ, লুৎফর রহমান রিটন, মিনার মনসুর ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (মরণোত্তর)। এছাড়া শিক্ষায় প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু রয়েছেন এ তালিকায়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্বর্ণপদক, সম্মাননা সনদ ও নগদ অর্থ দেয়।
পদক প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব খলিল আহমদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চিফ প্রসিকিউটরের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি রেজাউল করিম। আজ ১৭ আগস্ট ২০২৬ সোমবার চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ চিঠি দেন তিনি। চিঠিতে রেজাউল করিম উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় কর্মী।

পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান চট্টগ্রামে সংঘটিত জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার একজন তালিকাভুক্ত সাক্ষী। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, এ মামলার আসামি সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত, প্রশ্নবিদ্ধ ও বাধাগ্রস্ত করার হীন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত।

রেজাউল করিম চিঠিতে অভিযোগ করেন, এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি প্রদানে বিরত রাখার অসৎ উদ্দেশ্যে আসামিপক্ষ প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বিদেশ থেকে এ মামলার সাক্ষী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের টেলিফোনের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

লাইনের ওপর ৮ ইঞ্চি পানি, চার ঘণ্টা স্টেশনে দুই শাটল ট্রেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারেননি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু করা যায়নি।সোমবার (১৭ আগষ্ট) সকালে বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম-নাজিরহাটগামী রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ট্রেন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ষোলশহর স্টেশন মাস্টার মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, বটতলা রেলস্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিট ও ৭টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি শাটল ট্রেন ষোলশহর স্টেশনে এসে আটকে যায়। অতিবৃষ্টির কারণে রেললাইনের ওপর প্রায় ৮ ইঞ্চি পানি জমেছে। দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্টেশন ছেড়ে বিকল্প পরিবহনে ক্যাম্পাসে যাওয়ার চেষ্টা করে।

তবে কিছু শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে ট্রেনের ভেতরেই অপেক্ষা করেন। এদিকে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিকল্প বাসের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়।বিশেষ করে একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্লাস ও পরীক্ষা চলমান থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, চট্টগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শাটল ট্রেনই তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। হঠাৎ শাটল বন্ধ হয়ে গেলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পক্ষে সড়কপথে ক্যাম্পাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল সালমান বলেন, শাটল ট্রেন বন্ধ থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাস-পরীক্ষাও বন্ধ রাখা উচিত। কারণ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের ক্যাম্পাসে আসার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম শাটল ট্রেন।

তিনি বলেন, শাটল বন্ধ থাকলে বিকল্প লোকাল পরিবহনের মাধ্যমে সব শিক্ষার্থীর পক্ষে ক্যাম্পাসে আসা সম্ভব নয়। কিছু শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারলেও অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আসতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নামে বৃহত্তর একটি অংশকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।

জানা গেছে, ট্রেন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, সমাজত্ত্ব বিভাগ ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল সাড়ে ১০টায়। পরে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে সাংবাদিকতা বিভাগের পরীক্ষা ৪০ মিনিট দেরিতে শুরু করা হয়।

রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মোহাম্মদ আবিদ জানান, পরীক্ষা সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ট্রেন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারেননি। পরে বাসে করে ক্যাম্পাসে যান তিনি। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে পরীক্ষা কিছুটা দেরিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

চবির প্রক্টরিয়াল অফিস থেকে জানা গেছে, ভারীর বৃষ্টির কারণে রেললাইন পানিতে ডুবে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বা অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম রয়েছে, তাদের বিকল্প পথে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয় অফিস থেকে।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ