পতিত জমিতে সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছে হাকালুকি হাওর।

তিমির বনিক মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের সুর্যমুখীর হাসিতে দিগন্তে জুড়ে হলুদের হাঁসি ছড়িয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা হাওরের সুর্যমুখী ফুল নিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষের ছবি জায়গা পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কৃষি অফিস সূত্রের বরাতে জানা যায়, হাকালুকি হাওর তীরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় প্রণোদনার আওতায় ২৩০ জন কৃষক ২৩০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। চাষকৃত সূর্যমুখীর ফুলের মধ্যে হাইসান-৩৩, আরডিএস ২৭৫ জাতের আবাদ করা হয়েছে। বিনোদনের পাশাপাশি মূলত তেল উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের প্রণোদনাসহ বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিচ্ছে।

সকালের সূর্যোদয় থেকে বিকেলের সূর্যাস্ত পর্যন্ত পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে ঠিক তখনই হাকালুকির সৌন্দর্য যেন ফুটে উঠে সূর্যমুখীর হাসিতে। মৃদু রৌদ্র দূর থেকে মনে হয় যেন সূর্য যেন হাট বসিয়েছে। সূর্যমুখীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন হাওর পাড়ে ভিড় করছেন পর্যটকরা। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সূর্যমুখী ফুলের সাথে জুড়ে নিজের ছবি ছড়িয়ে দিতে টিনেজ ছেলে-মেয়েরাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। হাকালুকি হাওরে হলুদ ফুলের মন মাতানো সৌরভ আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের মায়ার ফসলি জমি।

চাষিরা জানান, সূর্যমুখী চাষ করার পদ্ধতি একদম সহজ। প্রতি বিঘা জমিতে তিন কেজি বীজ, সামান্য সার ও কীটনাশক হলেই আর কোনোকিছুর প্রয়োজন হয় না। সবকিছু মিলিয়ে খরচ হয় ৪-৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলেও তেল সংগ্রহ করার কোনো মেশিন স্থাপন করা হয়নি। ফলে ফুল থেকে তেল সংগ্রহ করা নিয়ে কৃষকরা দুঃশ্চিন্তায় আছেন।

হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখীর বাগান দেখতে আসা পর্যটক নন্দিনী মল্লিক ও নিখিল মালাকার বলেন, পড়ন্ত বিকেলে সূর্যমুখীর সৌন্দর্য্য সত্যি অসাধারণ। সূর্যমুখীর সৌন্দর্য উপভোগ করতেই আমরা হাকালুকি হাওরে এসেছি। যদি ফুল থেকে তেল সংগ্রহ করা যায়, তাহলে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে। অল্প ব্যয়ে বাম্পার ফলন হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ আছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে এশিয়ার বৃহত্তম এই হাওরে সূর্যমুখী চাষে ভাগ্য পরিবর্তনে খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার নতুন দ্বার।

চাষি কামরুল ইসলাম বলেন, হাকালুকি হাওরের পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলনও খুবই ভালো হয়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সূর্যমুখী চাষে আরও সম্প্রসারণ করবো। সরকারের কাছ থেকে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ পেয়েছি।

হাওর তীরের জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা যাতে লাভবান হয় সেই লক্ষ্যে সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। সূর্যমুখী ভোজ্যতেল হিসেবে গুণগতমানের দিক থেকে বেশ ভালো। বাজারে সূর্যমুখীর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় এবং হাওরের মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের উপযোগী হওয়ায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে আমরা নিয়মিত উঠান বৈঠক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি ফুল থেকে তেল বের করার প্রক্রিয়া কোন দুঃশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। সরিষা থেকে তেল বের করার মেশিন দিয়েই সূর্যমুখীর তেল সংগ্রহ করা সম্ভব। জুড়ীতে এ ধরনের মেশিন না থাকলেও কুলাউড়া উপজেলার স্কুল চৌমুহনী এলাকায় একটি মেশিন আছে। সেখানে কৃষকদের সুর্যমুখীর বিজ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে রশি ছিঁড়ে পাইলট আহত, বিদেশি জাহাজ আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একটি বিদেশি জাহাজ থেকে পড়ে বন্দরের নিজস্ব পাইলট আহত হয়েছেন। ‘বক্স এনডেভার’ জাহাজ থেকে মই (ল্যাডার) বেয়ে নিচে নামার সময় রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান তিনি। আহত ব্যক্তির নাম ক্যাপ্টেন আ জ ম রবিউজ্জামান। গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগষ্ট) সকাল থেকে তদন্ত শুরু করেছে কমিটি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজের পাশে থাকা বোটে না পড়ে গভীর সাগরে পড়ে গেলে রবিউজ্জামানের মৃত্যুঝুঁকি ছিল। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। ডান হাতে ও পিঠে আঘাত পেয়েছেন তিনি। তাকে বন্দর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর জাহাজটি আটক করে বন্দরের বহির্নোঙরে চার্লি অ্যাংকরেজে নোঙর করে রাখা হয়েছে। বহির্নোঙর থেকে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল জাহাজটির। এ ঘটনায় দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগষ্ট) সকাল থেকে তদন্ত শুরু হয়।

চট্টগ্রামে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জামাল খান রোড সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, মশক নিধন, মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৩টায় নগরীর চেরাগী পাহাড় চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে জামাল খান রোডকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন, দখলমুক্ত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন এবং হকারমুক্ত ফুটপাতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, জামাল খান রোডকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাখা, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ, দখলমুক্ত ফুটপাত নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।কর্মসূচিতে “একটি গাছ, একটি প্রাণ—সবুজ হোক জামাল খান”, “মশক নিধন করি, সুস্থ সমাজ গড়ি” এবং “মাদককে না বলি, সুন্দর সমাজ গড়ি”—এমন বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেওয়া হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চেরাগী পাহাড় চত্বরে বৃক্ষরোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জামাল খান রোড সমাজ কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক মনজুর রহমান চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ আকতার উদ্দিন ডালিম। এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ নুর উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, শেহতাব আহম্মেদ, আজাদ হোসেন,অ্যাডভোকেট ওসমান গনি, জনাব আরিফ, জনাব ওসমান গনি, জিয়া উদ্দিন আহমেদ, মনছুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহীন আকবর খান, সরোয়ার আলম, রাশেদুল ইসলাম, শৈবাল পারিয়াল, মোহাম্মদ আমিন,সাদ, ইফতু ও সামি।

বক্তারা বলেন, সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগর গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা দখলমুক্ত ফুটপাত, সুস্থ ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন এবং সবুজ-পরিচ্ছন্ন জনবান্ধব জামাল খান রোড গড়ে তোলার আহ্বান জানান। কর্মসূচির সঙ্গে জামাল খান রোড দোকান মালিক সমিতি একাত্মতা প্রকাশ করে। সমিতির পক্ষে বক্তব্য রাখেন দীপঙ্কর কিশোর চৌধুরী ও ইকবাল। কর্মসূচির শেষে চেরাগী পাহাড় চত্বর থেকে জামাল খান রোড হয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।“ঐক্য, সেবা ও মানবতায়—সমৃদ্ধ হোক জামাল খান”—এই প্রত্যয়ে একটি সুন্দর, সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জামাল খান রোড গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ