দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এখন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ড বিএনপির ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, পাকিস্তান আমলে এই আওয়ামী লীগ ২২ পরিবারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিত। সেই আওয়ামী লীগ এখন ২২ হাজার লুটেরা পরিবার তৈরি করেছে। সেই পরিবার বাংলাদেশের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছে এবং লুটের নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, তখনই তারা লুট করেছে, সন্ত্রাস করেছে। মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এখন একটি আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা শুনলেও মানুষ ততটা ভয় পান না, যতটা এখন দ্রব্যমূল্য নিয়ে পাচ্ছেন। পুষ্টিকর খাবার এখন দরিদ্র মানুষের কাছে রীতিমতো সোনার হরিণ।

তিনি শনিবার (২৩ মার্চ) বিকালে পূর্ব মাদারবাড়ী নছু মালুম লেইনে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে সেহেরী ও ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর ও আমীর খসারু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডামি ভোটে ক্ষমতায় এসে ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে সরকারি দলের লোকজন। তারা দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক থেকে গণহারে চাঁদা আদায় করছে। আর এর প্রভাব ভোক্তার উপর পড়ছে। নির্বাচিত সরকার না থাকায় সুবিধাভোগীরাই এসব ফায়দা লুটছে। যতদিন পর্যন্ত অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ দুর্ভোগ জনগণের উপর চেপে বসবে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় বসে আছে তাদেরকে সরকার বলা যাবে না। তারা জোর করে জনগণের ভোটের বাইরে ক্ষমতা দখল করেছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে শুধু লুটপাট করার জন্য। ডামি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ায় মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য।

ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সাবেক অর্থনৈতিক সম্পাদক মশিয়ুল আলম স্বপন, পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সদরঘাট থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ রিপন, কমল জৌতি বড়ুয়া, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম বাদল, নাসির উদ্দীন, হাজী আমির আহমেদ, হাজী আলী আহমদ, সিরাজ মিয়া মানু, তসলিম উদ্দিন, জামশেদ হায়দার, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আবু তালেব লিটন, সদরঘাট থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কায়সার হোসেন রাব্বি, ছাত্রদল নেতা মো. ইফতি প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্টিয়ারিং গিয়ারের ত্রুটি গোপন চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়া কোটি টাকা জরিমানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে একটি বিদেশী জাহাজকে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বন্দরে স্টিয়ারিং বিকল হওয়া সেই বিদেশি জাহাজ ‘সিএনসি ইউরেনাস’ ও শিপিং এজেন্ট আমেরিকান প্রেসিডেন্ট লাইনকে (এপিএল) এই জরিমানা করা হয়েছে। দেশের প্রধান চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ক্ষুন্ন করার দায়ে জাহাজটির মাস্টার ও শিপিং এজেন্টকে এই জরিমানা করেন হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম। যথাসময়ে বন্দরকে না জানিয়ে জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল, জাহাজ, পাইলট, বন্দর স্থাপনা এবং অন্যান্য নৌযানের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলার প্রমাণ পেয়ে এই জরিমানা করল বন্দর কর্তৃপক্ষ।গত সোমবার এ-সংক্রান্ত আদেশ শিপিং এজেন্টকে পাঠানো হয়।

স্টিয়ারিং গিয়ারের হাইড্রোলিক হর্ন বিকল হওয়া বিদেশি জাহাজটি তথ্য গোপন করে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ঢুকতে চেয়েছিল। বন্দরের পাইলটরা সেটি বুঝে ফেলেন। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর ও নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর গঠন করে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি। বন্দরের তদন্ত প্রতিবেদনে তথ্য গোপন করে ঝুঁকিতে ফেলার প্রমাণ মেলে। এরপরই করা হয় এই জরিমানা।
সিএনসি ইউরেনাস জাহাজটি এখন চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ১১ নম্বর জেটিতে ভিড়ে আমদানি পণ্য নামানো শেষ করে রপ্তানি পণ্য বোঝাইয়ের অপেক্ষায় আছে। বুধবার (১২ আগষ্ট)জাহাজ রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছাড়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, চীনের শিকো বন্দর থেকে আসা জাহাজটি গত ২ আগস্ট বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। পরদিন দুপুরে এনসিটিতে প্রবেশের সময় বন্দর জেটিতে ঢোকার পথে কর্ণফুলী চ্যানেলের একটু সামনে গিয়ে লাল বয়ার কাছে সেটির স্টিয়ারিং বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় পানির তীব্র স্রোত ছিল। স্রোত সামলে এগোতে না পেরে জাহাজটি একপাশ হয়ে ভাসতে ভাসতে পেছনে যেতে থাকে। একপর্যায়ে নেভাল একাডেমির পাশের রিটেইনিং দেয়ালের কাছাকাছি চরে আটকা পড়ে।

জাহাজটি যদি মূল প্রবেশপথে আটকা পড়ত বা ডুবে যেত, তাহলে অচল হয়ে পড়ত চট্টগ্রাম বন্দর, যা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ত। পরে ৩ আগস্ট রাতেই জাহাজটি সেখান থেকে টাগবোট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় টেনে বহির্নোঙরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে নেওয়া হয়। ৫ আগস্ট জাহাজটি ফের জেটিতে আনতে যান বন্দরের সিনিয়র তিন পাইলট। তখন স্টিয়ারিং গিয়ারের হাইড্রোলিক হর্ন বিকল থাকার বিষয় অফিসিয়ালি জানতে পারেন পাইলটরা। এরপর জাহাজ না নিয়েই বন্দর ভবনে ফেরত আসেন তারা। পরে সিঙ্গাপুর থেকে প্রকৌশলী এনে স্টিয়ারিং গিয়ারের ত্রুটি ঠিক করে গত শনিবার জাহাজটি জেটিতে ভেড়ানো হয়।
এদিকে আদেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে এপিএল বাংলাদেশের হেড অব অপারেশন এনামুল হক টিটু বললেন, বন্দর যেটা জরিমানা করেছে, সেটা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা জরিমানা পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছি। একই সঙ্গে এই জাহাজে ১৩শ একক রপ্তানি কনটেইনার বুকিং আছে। সেগুলো জাহাজীকরণের অনুমতিও চেয়েছি।

চট্টগ্রাম বন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের স্পেশাল অফিসার (মেরিন সেফটি) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী জরিমানার এই উদ্যোগকে বলছেন নৌযান চলাচলে শৃঙ্খলার দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, এখানে থামলেই হবে না। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আমদানি-রপ্তানির লাইফলাইন অচল হলে এই জরিমানা কোনো কাজে আসবে না।

নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রধান ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, সরেজমিনে গিয়ে ত্রুটি দেখে জাহাজ আটক (ডিটেইন) করেছিলাম। এই আটকই জাহাজের জন্য পানিশমেন্ট বা কলঙ্ক তিলক। প্রাথমিক তদন্তে হিউম্যান এরর নেভিগেশন ফেইলিউর বলে মনে হয়েছে। ফাইনাল রিপোর্ট দেবে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত রিপোর্ট আসার আগে জাহাজকে কেন বন্দর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হলো, তা জানতে চাইলে শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বললেন, তদন্ত রিপোর্টের জন্য জাহাজ আটকে থাকে না। জাহাজের কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আমাদের রিপোর্ট দিয়েছে। এরপরই রবিবার জাহাজটিকে নো অবজকেশন সনদ দিয়েছি।

সবুজে-সৌন্দর্যে বদলে গেল অক্সিজেন চত্বর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার চিত্র পেছনে ফেলে নান্দনিক সৌন্দর্যে নতুন রূপ পেয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেন চত্বর। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চত্বরটি সাজানো হয়েছে সবুজ গাছপালা, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক বিভিন্ন উপকরণে।

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত অক্সিজেন মোড়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে ব্যস্ত এই এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। চত্বরের মাঝের অংশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও ফুলের গাছ লাগানোর পাশাপাশি নান্দনিক নকশায় সাজানো হয়েছে পুরো এলাকা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগ ও নির্দেশনায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও সড়ক ডিভাইডারে সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অক্সিজেন চত্বরও পেয়েছে নতুন নান্দনিক রূপ।

এ বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সবুজায়নের আওতায় এনে নাগরিকদের জন্য সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে চট্টগ্রামকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি অক্সিজেন চত্বরের সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে ব্যস্ততম এই মোড়টি ভবিষ্যতে নগরীর অন্যতম নান্দনিক ও সবুজ স্থান হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ