নোয়াখালী:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভূমিহীনদের জায়গা দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন।

রিপন মজুমদার নোয়াখালী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা সূবর্ণচরে বহিরাগত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের জায়গা বন্দোবস্ত দেয়ার দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে অসহায় দরিদ্র সহস্রাধিক ভুক্তভোগী ভূমিহীন পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় চরজুবলী ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের চর জিয়া উদ্দিন গ্রামের ভূমিহীন সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে ভূমিহীনরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার চর বাগ্যা গ্রামের ৫০ একর সরকারি খাস জমি কাগজপত্র করে ভূমিহীনগণ নথি সীজন পূর্বক ঘরবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন দখলে থাকা ভূমিহীনদের বাড়ি ঘর, মসজিদ, মোক্তব, ডোবা, নালা, খাল-বিল অবৈধভাবে দখল করার চষ্টা চালিয়ে আসছে এজি গ্রুপ।

ভুক্তভোগী ভূমিহীনরা আরো বলেন, ২০০২ চর বাগ্যা গ্রামের বাগান পরিস্কার করে সরকারি খাস জায়গায় বসবাস শুরু করেন তারা। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে সিডিএসপি মাঠ জরিপে দখল প্রমাণিত হওয়ায় ভূমিহীন শতাধিক পরিবারকে টোকেন স্লিপ প্রদান করে। কিন্তু বহিরাগত একটি ভূমিদস্যু চক্র ভূমিহীনদের নামে খতিয়ান হওয়ার পূর্বেই তাদের উপর নির্যাতন ও হামলা করে ওইসব ভূমি দখল করে নেয়।

ওই জায়গাতে ফ্যাক্টরী, মিল-কারখানা হবে এবং ভূমিহীন পরিবারের কর্ম সংস্থানের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও ফ্যাক্টরী করা না হওয়ায় আমরা সকল ভূমিহীন একত্র হয়ে পূনরায় আমাদের জায়গাতে ফিরে আসি।

এরপর থেকে বিদেশী প্রকল্পের নাম ভাঙ্গিয়ে আগের মত ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে একটি মহল আমাদেরকে গুম-খুনের হুমকি দিয়ে আসছে। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, প্রতিবাদ সমাবেশ করলে বহিরাগত ভূমিদস্যুরা আমাদের নামে মিথ্যা গুজব রটিয়ে আবারও উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের জায়গা বুঝিয়ে দিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই করে দেয়ার জন্য ভূমিহীনরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানান।

এ সময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ভুমিহীন নেতা জয়নাল আবেদিন, আব্দ্লু গণি, ভূমিহীন নেত্রী নার্গিস বেগম, মনোয়ারা বেগম, মায়া বেগম, মহিমা বেগম, মো. ইসমাইল, প্রতিবন্ধী আব্দুল হাফেজ, মাকছুদ আহম্মদ, জুলেখা আক্তার প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা গুনল চার প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম। নানা অনিয়মের অভিযোগে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরের ঝাউতলা বাজারের অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝাউতলা বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং অননুমোদিত পণ্য বিক্রির মতো অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব অপরাধে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রয়ের দায়ে বিসমিল্লাহ ফার্মেসি ও নাসির ফার্মেসি ১০ হাজার টাকা করে জারিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইলিয়াস ব্রাদার্সকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৬ হাজার টাকা এবং নরু সওদাগর জেনারেল স্টোরকে অননুমোদিত পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের দায়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিভিন্ন এলাকায় চুলা জ্বলছে না, রান্না না করতে পেরে বিপাকে মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় রাস্তায় নেমেছে কমসংখ্যক অটোরিকশা। যেগুলো চলছে, তারাও বাড়তি ভাড়া হাঁকছে। একই সঙ্গে গ্যাসচালিত গণপরিবহনেও গাড়ির সংখ্যা কমেছে। ফলে মোড়ে মোড়ে গাড়ির অপেক্ষায় মানুষের জটলা বেড়েছে। কোনো কোনো রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।


তবে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়েও সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেনা চালকরা। একেক জন চালক ছয় সাত ঘণ্টা ধরে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, হালিশহর ও ষোলশহর এলাকায় সকাল থেকে যাত্রীরা যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ে।
কোথাও বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ সারি, কোথাও সিএনজি অটোরিকশার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন যাত্রীরা। গ্যাসচালিত বাসে উঠতে পারলেও অনেক যাত্রীর অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে বাড়তি টাকা চাওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাইফুল ইসলাম বললেন, বাসে উঠতে পারছি না, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিলে বেশি ভাড়া। অফিসে যেতে দেরি হচ্ছে, খরচও বাড়ছে। গ্যাসের সংকট যে এভাবে রাস্তায় এসে পড়বে, ভাবিনি।ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনের চিত্রও একই। এখানে যাত্রী নয়, গন্তব্যের অপেক্ষায় সারিবদ্ধ অটোরিকশা। কয়েকটি স্টেশনে দেখা গেছে সড়কজুড়ে দীর্ঘ লাইন, চালকদের কেউ দুই ঘণ্টা, কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন।

ষোলশহরের একটি ফিলিং স্টেশনে কথা হয় চালক জাকির হোসেনের সঙ্গে। সকাল সাড়ে সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্তও গ্যাস পাননি। জাকির বলেছেন, এক জায়গায় গ্যাস নেই, আরেক জায়গায় চাপ কম। ঘুরতে ঘুরতে এখানে এসেছি। এখন চার ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এই সময়টায় তো যাত্রী নিয়ে রাস্তায় থাকার কথা।
স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ বা প্রেসার মারাত্মকভাবে কমে গেছে। চাপ যখনই সামান্য বাড়ে, তখনই পাম্প চালু করা হয়, আবার কমে গেলে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।

চালকদের হিসাবে, গ্যাস নিতে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা চলে যাওয়ায় তাঁদের ট্রিপ কমে গেছে। আয় কমলেও গাড়ির জমা, খাবার ও অন্যান্য খরচ কমেনি। ফলে বাড়তি ভাড়া না নিলে সংসার চালানো কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে। চালক সেলিম বলেছেন, আগে দিনে যত টাকা আয় হতো, এখন তার অর্ধেকও হচ্ছে না। গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে যাত্রী পাব কোথায়? আবার মালিকের জমা তো দিতেই হবে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও। নগরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চুলা জ্বলছে না। কর্মজীবী মানুষকে রান্না না করেই বের হতে হচ্ছে, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনছেন।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কর্ণফুলী গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণীর গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। ফলে আবাসিক গ্রাহকের পাশাপাশি পরিবহন ও শিল্প খাতেও সংকট তৈরি হয়েছে। কেজিডিসিএলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের বরাদ্দও কমেছে, আর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাপ কমিয়ে লোড ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। যাতে দেশের পূর্বাঞ্চলে সংকট তীব্র হয়েছে।

এদিকে গ্যাসের এই সংকট কবে নাগাদ কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজকে ভাসমান টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করা না গেলে সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে চট্টগ্রামের শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি, গণপরিবহনের সংকট ও বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তিও আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে গ্যাসের সংকট এখন আর শুধু চুলার আগুন বা কারখানার উৎপাদনের বিষয় নয়, এর প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর প্রতিদিনের যাতায়াত, আয়-ব্যয় ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ