৬ষ্ঠ সংসদে তিনি মন্ত্রী থাকাকালে ছুটি নিয়ে নিজ জেলা ভোলায় গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে সাড়া জাগিয়েছিলেন

কথাসাহিত্যিক ও গণমানুষের রাজনীতিক মোশারেফ হোসেন শাজাহান

রিপন শান

জনসেবার মাধ্যমেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার লীন রিড, শ্রীলঙ্কার আর্যরত্ন এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহিয়সী নারী মাদাম তেরেসা প্রমুখের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য পেয়েছিলেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণমানুষের জন্য রাজনীতি, পলিমাটি নিষিক্ত কথাসাহিত্য, সাংবাদিকতার ঐকতান আর উদার বুদ্ধিদীপ্ত সাংস্কৃতিক বিস্তরণে স্বকালজয়ী অবদানের জন্য, দেশ ও দেশের মানুষ- বিশেষ করে নদীবিধৌত ভোলার মানুষ কোনো দিন তাঁকে ভুলতে পারবে না । তিনি গণমানুষের রাজনীতিবিদ মোশারফ হোসেন শাজাহান।

বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম রূপকার মোশারেফ হোসেন শাজাহান তার জীবদ্দশায় কখনোই ব্রাকেটবন্দী মানসিকতায় বেষ্টিত থাকেননি । শুভকাজে দেশের কাজে সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে পথ চলতে পছন্দ করতেন তিনি । তাঁর সময়ে ভোলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল নানাবিধ প্রতিভার জৌলুশে মুখরিত । হৃদয়ের সমস্ত সুরভী দিয়েই সেকালের তরুণ সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী শাজাহান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভোলা প্রেসক্লাব । তারসময়ে ‘ব্যক্তিবিবাদ’ ‘গোষ্ঠীবিবাদ’ ভোলা প্রেসক্লাবকে গ্রাস করতে পারেনি। তিনি দল করতেন কিন্তু কখনোই দলকানা ছিলেন না ।

তাঁর স্বপ্নের দ্বীপ প্রলয়ের দ্বীপ ( when paradise becomes inferno ) যারা পড়েছেন তারা নিঃসন্দেহে স্বীকার করবেন- মোশারফ হোসেন শাজাহান একজন আন্তর্জাতিক মানের লেখক। অন্তর জাগানিয়া কথাসাহিত্যিক। শফিক রেহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক যায়যায়দিন এর ‘জোনাকি মন’ কলাম টি যারা নিয়মিত পড়েছেন- তারা স্বীকার করবেন মোশারফ হোসেন শাজাহান শুধু একজন কথাসাহিত্যিক নন, কথাসৃজক কথাশিল্পী। চরকলমীর সুখদুঃখে তিনি বেঁচে থাকবেন হাজার বছর । বেঁচে থাকবেন এষণায় । আপন মহিমায় । স্মৃতিকাতর যেকোনো পাঠকই কথাশিল্পের বিকাশ ও বিন্যাসে আটকে যাবেন তাঁর স্মৃতির ধূলায় পথিকে ।

প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ভোলারত্ন মোশারেফ হোসেন শাজাহান এর জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, ভোলায়। পিতা বনেদি ব্যবসায়ী মরহুম আলতাজের রহমান। মা পরলোকগত মাসুমা খানম চৌধুরাণী।
বস্তুত মোশারেফ হোসেন শাজাহানের কর্মমুখর জীবন ভোলার ভাগ্যাহত ও অশিক্ষিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন প্রচেষ্টায় নিবেদিত ছিল আমরণ। বন্ধুজনের ব্যানারে তাঁর জনসেবা ভোলার মানুষ যুগ যুগ মনে রাখবে। ১৯৭০ সালের ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ও প্লাবনে ভোলার হাজার হাজার মানব সন্তান নিহত ও আহত হয় । বহু গবাদি পশু হাঁস-মুরগি সম্পদ বাড়িঘর ধ্বংস হয়। দূর্গত মানবতার ডাকে তৎক্ষণাৎ মোশারেফ হোসেন শাজাহান বন্ধু-বান্ধব ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মৃতদের সৎকার, মহিলা ও শিশুদের উদ্ধারকার্য পরিচালনা করেন। অনুরূপভাবে ১৯৮৬ সালে দুর্ঘটনায় পতিত সামিয়া লঞ্চের যাত্রীদের উদ্ধার করেন, যা ছিল তাৎক্ষণিক উদ্যোগ । তাঁর এই উদ্যোগের কথা মানুষ আজও ভুলতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে জনসেবার মাধ্যমেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার লীন রিড, শ্রীলঙ্কার আর্যরত্ন এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহিয়সী নারী মাদাম তেরেসা প্রমুখের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য পেয়েছিলেন।
১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি তাঁর সতীর্থদের নিয়ে চর শশীভূষণ থেকে এক মানবিক যাত্রা শুরু করেন। সুদীর্ঘ ১১০ মাইল যাত্রাপথে অন্তত ৫০টি জন সমাবেশে বক্তব্য রেখে মানুষকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করেন। একশ’ অনাথ শিশুকে সরকারি সাহায্য ব্যতিরেকে আশ্রয় প্রদানে সক্ষম হন। ১৯৮২ সালে বনায়ন প্রকল্প হাতে ‘নিয়ে অনাথ শিশুদের কাজের সংস্থান করেন। এতে ৬ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়। দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সরকারি রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপন শুরু করেছিলেন। এতে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি পরিবেশের উপর সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ে । তাঁর এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ এবং ১৯৯৭ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেন।
১৯৮৩ সালে তিনি তাঁর কিছু অনুসারীসহ, শ্রীলঙ্কার পল্লী অঞ্চলে গিয়ে সেখানকার গণশিক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। দেশে ফিরে তিনি জাতীয় বন্ধুজন পরিষদ- বাংলাদেশ, গঠন করেন। এরপর শিশুস্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তুলে ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দশ সহস্রাধিক দুস্থ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করেন । এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের বিনামূল্যে খাবার স্যালাইন বিতরণ করেন ।
কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে
মোশারেফ হোসেন শাজাহান এক অকুতোভয় যোদ্ধা। এই সংগ্রামে তিনি ৬০০০ দরিদ্র কৃষককে পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন। পুলিশ কর্তৃক নির্মমভাবে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র রুবেল হত্যার প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘট পালন করে তিনি বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। শিবপুর,ভেলুমিয়া, ইলিশা, ভেদুরিয়া ইত্যাদি এলাকায় কোন সরকারি সাহায্য ছাড়াই কৃষি জমিতে তিনি পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জন সাধারণকে নিয়ে সুদীর্ঘ খাল খনন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ১৯৯৪ সালে সুদূর উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাটে স্বাক্ষরতা অভিযানের নেতৃত্ব দেন মোশারেফ হোসেন শাজাহান।
৬ষ্ঠ সংসদে তিনি মন্ত্রী থাকাকালে ছুটি নিয়ে নিজ জেলা ভোলায় গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে সাড়া জাগিয়েছিলেন। যে কর্মসূচির মাধ্যমে ৪ হাজার ৬শ’ ১৬টি কেন্দ্র চালু করেন এবং সমসংখ্যক পুরুষ ও মহিলা প্রশিক্ষক নিযুক্ত করেন। ১৯৯৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এই শিক্ষা কার্যক্রম ১ লাখ ১ হাজার ৬শ’ ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বাংলাদেশের দৈনিক সমূহের সাংবাদিক, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সনদপত্র প্রদানের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এই সফল কর্মসূচির পরবর্তী এক সরকারি জরিপে এক থানার স্বাক্ষরতার হার পাওয়া যায় ৯৭%।
মোশারেফ হোসেন শাজাহান যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান অর্থ যোগানদাতা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. জাতীয় বন্ধুজন পরিষদ, ২. আলতাজের রহমান কলেজ, ভোলা, ৩. মাসুমা খানম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ভোলা; ৪. বন্ধুজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা; ৫. দক্ষিণ চরনোয়াবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা; ৬. চরনোয়াবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়; ৭. পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়; ৮. লামসিপাতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দৌলতখান ইত্যাদি।

রাজনীতি ছাড়াও সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবস্থান ঈর্ষণীয়। ছাত্রাবস্থায় তাঁর ‘নীড়-ভাঙ্গা ঝড়’ নাটক ভোলা ও বরিশাল ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে মঞ্চস্থ হয়। এ সময়ে তার ‘অনন্য ইতিহাস’ নাটকও জনপ্রিয় ছিল। ১৯৬৫ সালে তাঁর প্রথম গল্পের বই ‘ঝরা পালকের গান’ (মোস্তফা হারুণের উদ্যোগে) প্রকাশিত হয়। ‘৯০-এর পর তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা এষণা, স্মৃতির ধূলায় পথিক, ভাগ্যবান, চর কলমীর সুখ-দুঃখ, স্বপ্নের দ্বীপ প্রলয়ের দ্বীপ (এটি ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছিল), টিভিতে তাঁর নাটক ‘অকস্মাৎ’ (১৯৬৮), ‘সমান্তরাল’ (১৯৯২) ও ‘বহতা এষণা’ (১৯৯৩) খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাঁর ‘চর কলমীর সুখ-দুঃখ’ উপন্যাস নিয়ে একুশে টেলিভিশনে সিরিজ নাটক হয়েছে। লন্ডনের পেঙ্গুইন থেকে তাঁর একটি গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ‘জোনাকী মন’ তাঁর সর্বশেষ প্রকাশনা। জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার তিনি একজন জনপ্রিয় কলামিষ্ট ছিলেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ৬ বার নির্বাচিত এমপি। ১৯৮০ সালে উপমন্ত্রী, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তিনি বেশ কয়েকবার ফ্রান্স, চীন, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। যায়যায় দিন-এ প্রকাশিত তাঁর কলাম ‘জোনাকী মুন’ খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ তিনি বিগত ১ল অক্টোবর ২০০১-এ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন এবং সরকার প্রতিষ্ঠার পর তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ হোসেন শাজাহান ৫ মে ২০১২ সালে ইউনাইটেড হাসপাতালে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন । দেশ ও দেশের মানুষ কোনো দিন ভূলবেনা তাঁকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষ নিয়ে বিক্ষোভ , পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের হামলা ও মারধর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যম কর্মীদেী উপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা ও জেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান মাদবরসহ বেশ কয়েকজন এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১০টার দিকে

ভুক্তভোগী সাংবাদিকবৃন্দ জনান, জেলা প্রশাসন জেলা প্রেসক্লাবকে লিখিত নোটিশ না দিয়ে প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার দুপুরে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ করেন।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি হয়েছে এমন আখ্যা দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করছিলো বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কিছু লোকজন। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যায় নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন, জাগো নিউজ ও খবরের কাগজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি।

এসময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান মাদবরসহ বেশ কয়েকজন তাকে মারধর করে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর সেখানে সংবাদ সংগ্রহকালে পূণরায় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত উল্লাহকে একই কায়দায় মারধর করেন জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন।

এমনকি সেখানে জাহিদ হাসান রনির মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা প্রেস ক্লাব সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিধান মজুমদার অনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে কয়েকজনের সহযোগিতায় কোনোমতে ঘটনাস্থল থেকে নিজেকে রক্ষা করে সরে আসি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে দৈনিক এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ বলেন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোল্লা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ও সাংবাদিক, ওকে ধর।’ এরপর তার নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের আমান মাদবরসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে আমার ওপর হামলা চালান। তারা আমাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার সময় আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছি।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ঘটনায় শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফ মোল্লার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে সংবাদ কর্মীর সাথে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, অনেকেই লিস্টে আছে সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে যাবে। তুমি নিজেও তৈরি থাকো , আছো কোথায়, থাকো আসতেছি। তোমরা লেখবা আর আমরা তো তোমাদের পিটাবো।

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সাথে অন্যায় আচরণ করেছেন। তারা এভাবে তার প্রত্যাহার চাইতে পারে না। সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসরা বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এমন কাজ করেছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। সেখানে কোন সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কিনা তা আমার জানা নেই।এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের কয়েকটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে ক্যান্টিন-ওষুধের দোকান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বেসরকারি হাসপাতাল ল্যানসেটে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, পার্কিংয়ের জায়গায় বসেছে ক্যান্টিন ও ওষুধের দোকান, নেই বিকল্প অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্গমন ব্যবস্থা। সোমবার (২৪ আগস্ট) বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম তদন্তে যায় সংস্থাটি। শুধু ল্যানসেট নয়, শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল হিদায়াহ স্কুলেও অভিযান চালিয়েছে সিডিএ। অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানে নকশা ও বিধিবিধান না মানার বিভিন্ন চিত্র উঠে আসে। অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের সময় দিয়েছে সংস্থাটি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিকরা বলছেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নকশাবহির্ভূত ব্যবহার দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই শুধু অভিযান নয়, নির্ধারিত সময় শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মানছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং জরুরি।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম, হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থার কারণে যানজট এবং নকশাবহির্ভূত ভবন ব্যবহারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আবাসিক ভবনে পরিচালিত হাসপাতালগুলোকে এক মাসের মধ্যে বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আবাসিক ভবনে পরিচালিত একটি স্কুলকেও এক মাসের মধ্যে বিকল্প স্থানে যাওয়ার অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর কিছু পার্কিং-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, অভিযানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব পরিবর্তন কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা দেখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

এদিকে ল্যানসেট হাসপাতালের পরিচালক মহসীন হোসেন বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন আমাদের রয়েছে। মানুষের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে অনেক কর্মচারীর জীবিকা নির্ভরশীল। আমাদের লাইসেন্সসহ অন্যান্য অনুমোদনও আছে। তবে পার্কিংয়ের জায়গায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। সিডিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা সরকারের সহযোগী হিসেবে তাদের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি আবাসিক হিসেবে কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে, সেটি ভবন মালিকের বিষয়। আমরা ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। অতীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেই বিভিন্ন অনুমোদন দিয়েছে। তবে সিডিএ এখন যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছে, সেগুলো সমাধানে আমরা সহযোগিতা করব।
সিডিএ জানিয়েছে, এক মাসের সময়সীমা শেষে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। নিয়ম না মানলে সিলগালা ও উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ