চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

দলের হাইকমান্ডের আস্থা ইদ্রিস মিয়া- হেলাল- আব্বাসে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ মাস যাবত কমিটি ছাড়া স্থবির হয়ে যাওয়া  চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন আহবায়ক কমিটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নতুন এই কমিটিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। 

দীর্ঘ পাঁচ মাস নেতৃত্বহীন থাকার পর অবশেষে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র এই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলো। নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে পটিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান  আলহাজ্ব ইদ্রীস মিয়াকে আহবায়ক ও লায়ন মো. হেলাল উদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।  আজ রোববার ( ২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ সদস্যের আহবায়ক  কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টানা ৬ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটিতেই বন্দি ছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির রাজনীতি। বিপরীতে জেলার মতো ৮টি উপজেলা ও পৌরসভারও চলছে আহ্বায়ক কমিটি নির্ভর বিএনপির রাজনীতি। এতে দলটির চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে হ য ব র ল অবস্থা সৃস্টি হয়।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট এলাকার একটি ওয়্যারহাউস থেকে একে একে ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি বের হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আলোচিত-সমালোচিত শিল্প গ্রুপ এস আলমের গাড়িগুলো পার করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দক্ষিণ জেলা বিএনপির তখনকার তিন নেতার বিরুদ্ধে। তাঁরা হলেন আগের কমিটির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক ও সদস্য মামুন মিয়া। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওই তিন নেতাকে দল থেকে শোকজ করা হয়। পরে তাঁদের তিনজনের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অভিযুক্ত ওই নেতাদের কাউকে পদে রাখা হয়নি।

সংকটে দলের হাইকমান্ড আস্থা রেখেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ইদ্রিস মিয়ার উপর।  পটিয়া উপজেলা পরিষদের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইদ্রিস মিয়াকে। আহবায়ক হিসেবে দলের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নিয়েছে দলটি। এছাড়া লায়ন হেলাল উদ্দিন আনোয়ারা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ছিলেন। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া লায়ন হেলালকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব করা হয়েছে। অবশ্য এরআগেই তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিলো।

জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আলী আব্বাসকে পুনরায়  সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। সাবেক যুগ্ম আহবায়ক লেয়াকত আলীকে আবারও যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে।  এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চেয়েছেন নতুন নেতৃত্বে এমন রাজনৈতিক ব্যক্তি আসুক যারা সত্যিকারের সাচ্চা শহীদ জিয়ার আদর্শের কর্মী। এবং যারা বিগত ১৭ বছরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। নতুন আহবায়ক কমিটিতে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা বিগত দিনের আন্দোলন  সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তৃণমূলের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে নতুন আহবায়ক কমিটিতে। ‘

নতুন আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃত্বের প্রশ্নে যে উত্তেজনা এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছিলো সেটি দুর হলো। এই কমিটি দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা যেসব দাবি করছেন, তা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘

দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের হাইকমান্ড যাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, তারা কীভাবে দলের সংকট মোকাবেলা করবে, তা আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব দলের জন্য সঠিক পথ নির্দেশ করবে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করবে।

প্রসঙ্গত,  দলের তিন নেতার বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে এস আলম গ্রুপের গাড়ি সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিলুপ্ত করা হয়েছিলো দক্ষিণ  জেলা বিএনপির ওই সময়ের আহবায়ক কমিটি। এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৯ সালে। সে কমিটিতে জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি এবং শেখ মো. মহিউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। এরপর ২০১১ সালে পুনর্গঠন করা হয় এবং জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি এবং গাজী শাহজাহান জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই কমিটি দীর্ঘ আট বছর পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৯ সালের অক্টোবরে বিলুপ্ত করেন কেন্দ্রীয় কমিটি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলার কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) রয়েছেন। অপর নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।আহতরা হলেন—লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মোটরসাইকেলচালক মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে অটোরিকশাচালক মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামসহ অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ ও বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমানকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন যোগদানের পথে দুর্ঘটনার শিকার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। কর্মস্থলে যোগ দিতে আসার সময় সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় কুমিরা এলাকায় তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটিকে একটি মিনিবাস ধাক্কা দেয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজেদুর বলেলেন, অ্যাম্বুলেন্সে করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। বড় কুমিরা নতুন সড়ক এলাকায় এলে পাশ থেকে একটি মিনিবাস আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে এক পাশের কাচ ভেঙে যায় এবং ওই পাশটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
তিনি জানান, গাড়ির ভাঙা কাচ মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এসে পড়ে। একটি ঝাঁকুনি লাগে। পরে দুর্ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সটি রেখে চট্টগ্রাম অফিসের গাড়িতে করে নতুন কর্মস্থলে আসেন।

এর আগে গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলমকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজেদুরকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলামের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি করা কর্মকর্তাদের ২৪ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে ২৫ আগস্ট থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন তারা।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ