গীতিকবি এম আর মনজু’র ৭০ তম জন্মদিন।

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কবি , গীতিকার, সংগঠক , সমাজসেবী, শিশুসাহিত্যিক এম. আর. মনজুর ৭০ তম জন্মদিন পালিত হয়ে গেল ১০ নভেম্বর ২০২৫। সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলার অদম্য ক্ষমতা সম্পন্ন সাহসী মানুষ কবি এম আর মনজু । একজন গানের মানুষ সুরের মানুষ তিনি । একাধারে কবি, গীতিকার, ছড়াকার ও সংগঠক । এম আর মনজুর পুরো নাম মাকসুদুর রহমান মনজু । জন্ম ১০ নভম্বর ১৯৫৬, তার পিতার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুর গ্রামেই। স্থায়ী নিবাস গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার মৈশন গ্রামে। বড় বোন নাহার খন্দকারের দেখাদেখি ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির সাথে যুক্ত হন । তার প্রথম লেখা প্রকাশ পায় ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে প্রকাশিত কাকলি নামক ছড়া সংকলনে । এরপর থেকেই নিয়মিত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তার লেখা ছড়া কবিতা প্রকাশ হতে থাকে । এছাড়া তার লেখা অসংখ্য গান বিভিন্ন শিল্পীদের কণ্ঠে প্রচার হয় বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে । ১৯৯৩ সালে সর্বপ্রথম তার লেখা গান মানবজনমে আর হবে না বিশিষ্ট সুরকার আবু তাহের চিশতীর সুরে শিল্পী মিনা বড়ুয়ার কণ্ঠে রেকর্ড করে প্রচার করা হয় । সাম্য দর্শন এই গানের মানুষটি গান, কবিতা ও ছড়া রচনায় এ পর্যন্ত শতাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন দেশে বিদেশে এ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভারতের কলকাতা থেকে পশ্চিমবঙ্গের অতন্দ্র সংগঠনের কবি গোবিন্দ হালদার স্মৃতি পদক-২০০৯, ভারতের চব্বিশ পরগনা থেকে আলো আভাষ সাহিত্য সম্মাননা, নেপালের ক্রিয়েটিভ রাইটার্স সম্মাননা এবং বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পদক , ভাসানি স্মৃতি পদক ,জিয়া সাহিত্য পদক,সরগম ললিত কলা একাডেমী সম্মাননা,কবি সংসদ বাংলাদেশ সম্মাননা পদক,মায়ের আঁচল সম্মাননা পদক এবং শুভজন গুণীজন সম্মাননা পদকসহ আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা । বাংলাদেশ রোদসী কৃষ্টিসংসারের অন্যতম উপদেষ্টা কবি এম আর মনজু”র বিভিন্ন সাহিত্য রচনার মধ্যে সময়ের কাছে নামক একটি কবিতার বই, হাউ কাউ , কড়রা কড়রা ছড়া , কাড়াকাড়ি , ও রোমান্টিক ছড়ার বই সন্ত্রাসী বউ এবং লক্ষ্মী বউ সহ ৭ টি ছড়ার বই এবং শিশুদের জন্য গল্পের বই ‘বাজারের ব্যাগ’সহ মোট ৯ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে । কবি ও ছড়াকার এম আর মনজু একসময় স্বনামধন্য পত্রিকা দৈনিক আজদের সাহিত্য সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন । একই পদে ছিলেন দৈনিক জনপদ ও দৈনিক সমাচার পত্রিকায় এবং দৈনিক সমাচারের শিশুদের পাতা ফুলকলিদের আসর এর পরিচালক ছিলেন তিনি ।তাছাড়া দৈনিক আজাদ পত্রিকার শিশুদের পাতা মুকুলের মাহফিল এর পরিচালক হিসাবে দীর্ঘদিন ।যেটির সর্বপ্রথম পরিচালক ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন । বর্তমানে এম আর মনজু জাতীয় গীতিকবি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং এম আর মনজু সাংস্কৃতিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন । একই সাথে শুদ্ধ ধারার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সংগঠন শুভজনের সাংগঠনিক উপদেষ্টা এবং মায়ের আঁচল এর উপদেষ্টা। তিনি সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডবাঙলার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন । বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার, ছড়াকার এম আর মনজু’র সাহিত্য ও গান রচনায় অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন তার মা মরহুমা রাবিয়া খাতুন , বাবা মরহুম সাহাবুদ্দিন এবং বড় বোন নাহার খন্দকার । আর বর্তমানে তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে চলছেন তার জীবনসঙ্গিনী মমতাজ রহমান।

ছড়া ও ছন্দের মানুষ এম আর মনজু’র ৭০তম জন্মদিনের তাঁকে কথা কবিতা গানে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানাবে কবি সংসদ বাংলাদেশ,বাংলাদেশ রোদসী কৃষ্টিসংসার , জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলা , জলসিঁড়ি সাহিত্য আসর সহ বিভিন্ন সংগঠন।কবি ও কবিতার জয় হোক । জীবন সুন্দর হোক রজনীগন্ধা ফুলের মতোন ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ