বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু, আহত আরও ৫ জন

ডেস্ক নিউজ

Oplus_131072
সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিলা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপিনাথপুর এলাকার বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সোনাপাতিলা বিলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও পাঁচজন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশি মাছের সংকটে অস্তিত্বের লড়াই; ভাঙ্গুড়ার শুঁটকি শিল্পে দুর্দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এক সময় বর্ষা শেষে পাবনার ভাঙ্গুড়ার শুঁটকি চাতাল গুলোতে শুরু হতো কর্মব্যস্ততা।
নদী, খাল-বিল থেকে আসা দেশি মাছে ভরে উঠত চাতাল। মাছ পরিষ্কার, মাচায় শুকানো আর শুঁটকি প্রস্তুতের কাজে দিনভর ব্যস্ত থাকতেন শ্রমিকেরা। উৎপাদিত শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে পৌঁছে যেত বিদেশের বাজারেও। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। দেশি মাছের সংকট, জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া এবং নির্বিচারে মাছ শিকারের প্রভাবে এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ভাঙ্গুড়ার ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্প।
উপজেলার অধিকাংশ শুঁটকি চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। যে একটি চাতাল চালু রয়েছে, সেখানেও চলছে সীমিত পরিসরে উৎপাদন। মাছের অভাবে কাজ পাচ্ছেন না শ্রমিকেরা, আর উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। একসময়ের কর্মচঞ্চল শুঁটকি চাতালগুলো এখন হারাচ্ছে তাদের চিরচেনা আমেজ।
সম্প্রতি উপজেলার কলকতি এলাকার একটি শুঁটকি চাতালে গিয়ে দেখা যায়, সীমিত পরিমাণ মাছ নিয়ে শুকানোর কাজ করছেন শ্রমিকেরা। অন্যদিকে মাছের অভাবে অধিকাংশ চাতাল বন্ধ থাকায় কাজের সুযোগও কমে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর হিসেবে কাজ করা শ্রমিকেরা।

শ্রমিকদের মতোই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। মাছ সংগ্রহ করতে না পারায় অনেক কে চাতাল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে একদিকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে কমেছে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।
শুঁটকি ব্যবসায়ী রইচ উদ্দিন জানান, আগে নিয়মিত মাছ পাওয়া গেলেও চলতি মৌসুমে অনেক ব্যবসায়ী টানা দুই সপ্তাহেও মাছ পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে চাতাল বন্ধ রেখেছেন। তার মতে, বিখ্যাত চলনবিল এলাকায় অপরিকল্পিত পুকুর খনন, অবৈধ জাল ব্যবহার ও নির্বিচারে মাছ শিকারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ছালাম আলী ও আল-মাহবুদ সহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় বর্ষা মৌসুমে বিখ্যাত চলনবিল সহ ভাঙ্গুড়ার ছোট-বড় বিল পানিতে টইটম্বুর থাকত। নদী ও খাল দিয়ে মাছ চলাচল করত বিভিন্ন জলাশয়ে। স্থানীয় জেলেরা এসব জলাশয় থেকে প্রচুর দেশি মাছ আহরণ করতেন। সেই মাছের একটি বড় অংশ সরবরাহ করা হতো শুঁটকি চাতাল গুলোতে।
তারা জানান, এক সময় ভাঙ্গুড়ার শুঁটকির সুনাম ছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। স্থানীয়দের দাবি, দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই শুঁটকি বিদেশের অন্তত ২০টি দেশে রপ্তানি হতো। কিন্তু জলাশয়ে পানি কমে যাওয়া ও দেশি মাছের প্রাপ্যতা কমে আসায় সেই জমজমাট ব্যবসায় এখন ভাটা পড়েছে। আগের মতো মাছ না পাওয়ায় উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।

শুঁটকি চাতালের শ্রমিক আসমা খাতুন বলেন, “আগে চাতালে কাজের অভাব ছিল না। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতো। এখন মাছ না থাকায় অধিকাংশ দিন কাজই থাকে না। সংসার চালানো কষ্ট হয়ে গেছে।”

স্থানীয়দের মতে, নদী, খাল ও বিলের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া দেশি মাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। অপরিকল্পিত বাঁধ, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে অনেক জলাশয়ের পানি ধারণক্ষমতা কমেছে। কোথাও কোথাও বর্ষা মৌসুমেও বিল গুলো পর্যাপ্ত পানিতে পূর্ণ হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চায়না দুয়ারি, বাদাই জাল সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার।

এসব জালে মা মাছের পাশাপাশি রেণু ও পোনা মাছও ধরা পড়ছে। ফলে মাছের প্রজনন ও বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা না গেলে দেশি মাছের সংকট আরও বাড়তে পারে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার কলকতি এলাকার শুঁটকি চাতালের মালিক মোঃ দুলাল হোসেন বলেন, “দিলপাশার, মাগুড়া, পুঁইবিল, তারাপুর, আদাবাড়িয়া, হাট উধুনিয়া, বাঁশবাড়িয়া, উধুনিয়া, দেখলগ্রাম ও দত্ত খারুয়া বিলে এক সময় প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মা মাছ সহ সব ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে দেশি মাছের উৎপাদন ও প্রজনন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। শুঁটকি উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
দুলাল হোসেনের ভাষ্য, দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাতাল চালু রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া না গেলে শ্রমিকদের কাজ দেওয়া এবং ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

এক সময় ভাঙ্গুড়া ও বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের মুক্ত জলাশয়ে পাওয়া যেত দেশি মাছের বিপুল বৈচিত্র্য। মাগুর, চাপিলা, শিং, পাবদা, টাকি, চিতল, রিটা, গুজি, আইড়, কৈ, বোয়াল, খৈলসা, দেশি সরপুঁটি, গজার, বাইম, টাটকিনি, তিতপুঁটি, বাঘাইড়, গুলশা, কাজলি, গাং চেলা, টেংরা, মলা, কাল-বাউশ ও শোল সহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ ছিল স্থানীয় মানুষের খাদ্য ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
কিন্তু এখন এসব মাছের অনেক প্রজাতি আগের মতো সহজে পাওয়া যায় না।

স্থানীয় বাজারগুলোতেও দেশি মাছের সরবরাহ কমেছে। চাষের মাছের উপস্থিতি থাকলেও প্রাকৃতিক জলাশয়ের দেশি মাছের সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর দেশি মাছের ওপর নির্ভরশীল শুঁটকি শিল্পে পড়েছে এর সরাসরি প্রভাব।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল মোল্লা বলেন, “চায়না দুয়ারি সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জালে নির্বিচারে মাছ নিধন এবং বৃষ্টি কম হওয়ায় জলাশয়ে পানি ও মাছ দুটোই কমেছে। অন্যান্য বছর যেখানে তিনটি শুঁটকি চাতাল ছিল, সেখানে এবার রয়েছে মাত্র একটি। গত বছর ৭ টন শুঁটকি উৎপাদন হলেও এ বছর ৪ থেকে ৫ টন উৎপাদন করাও কঠিন।

তিনি আরও বলেন, দেশি ও বিদেশি বাজারে শুঁটকির চাহিদা থাকলেও জলাশয়ে পর্যাপ্ত মাছ না থাকলে এ শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা, জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
মৎস্য কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযান পরিচালনা করে ৭০৩ টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও একইদিন কাটিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। চক্ষু পরীক্ষায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী ও শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেফার করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. গোলাম ফারুক, চিকিৎসক ডা. অভিক দে ইমু, ডা. পূজা চৌধুরী, ডা. উম্মায় সালমা মুমু ও ডা. জনি পাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক (আইসিও) মোশরাফাতুল জান্নাত আখি, অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি)মো. মাইন উদ্দিন খান,
অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি) সনি দাস, অপটোমেট্রি প্রশিক্ষক (আইসিও) নিশিতা আফরিন, সহকারী ফিল্ড অফিসার বোরহান উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা ও ফটোগ্রাফার মো. আবু শহীদ ফারুকী প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি চক্ষু স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করার আহ্বান জানান।

এ কার্যক্রমটি এনায়েতপুর গণ পাঠাগার ও সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও চক্ষু স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, গ্রাম চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ