চট্টগ্রামে আরজেএ’র প্রকৃতি-আনন্দ ও বন্ধনের মিলনমেলা

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেঘে ঢাকা পাহাড়, আঁকাবাঁকা পথ আর সবুজের অবারিত সমারোহ বান্দরবান যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস। এখানে প্রতিটি ভোর শুরু হয় কুয়াশার চাদরে, আর প্রতিটি সন্ধ্যা মুঠো ভরা প্রশান্তিতে। নীলগিরির চূড়া থেকে দূরে মেঘের ভেলা ভাসতে দেখা, ঝর্ণার ছন্দে মন হারানো সব মিলিয়ে এক অনন্য অনুভূতি।

এই ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো বন্ধুত্বের উষ্ণতা। পথচলার ক্লান্তি ভাগ করে নেওয়া, হাসি-আড্ডায় সময় কাটানো, স্মৃতির অ্যালবামে নতুন গল্প যোগ হওয়া—সবকিছু মিলেই বান্দরবান আরজেএ’র ট্যুর হয়ে ওঠেছে শুধু ভ্রমণ নয়, জীবনের এক টুকরো আনন্দ। প্রকৃতির কোলে বন্ধুত্বের এই মেলবন্ধন বারবার ডাক দেয় আবার ফিরতে।

বার্ষিক পিকনিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনদিন দুই রাতের বান্দরবান ভ্রমণ-সফলতার সাথেই সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (আরজেএ)। রোমাঞ্চকর পিকনিকের পরিকল্পনায় মুগ্ধ সাংবাদিকরা। মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি, ঝর্ণার শীতলতা এবং আদিবাসী সংস্কৃতি উপভোগ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়েছে সংগঠনটির একঝাক গণমাধ্যমকর্মী। প্রথম দিনের শুরুতেই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল বাসের টিকেট কেটে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা।

দুপুর সাড়ে ১২টায় বান্দরবান শহরের বাস স্টেশনে পৌছে হালকা নাস্তা করে সাংবাদিকদের বহর ছুটে যায় বালাঘাটা বাজারের দিকে। সেখানে আগে থেকেই আয়োজকদের ঠিক করে রাখেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজের পুরো ভবন। ভবনে পৌছে যে যার পছন্দ মতো রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। সবাই ফ্রেশ হতে হতে দৈনিক আইনবার্তার বান্দরবান প্রতিনিধি সাংবাদিক কাজী জুয়েল দুটি জিপ গাড়ি নিয়ে রেস্ট হাউজের সামনে এসে হাজির। বিশ্রামের আর সময় নেই, এবার শুধু ছুটে চলা। এরপর, রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষ করে নিলাচল ও প্রান্তিক লেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। প্রান্তিক লেকের শান্ত এবং নিরিবিলি পরিবেশে সাংবাদিকরা প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ পান।

আর অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মনোরম পরিবেশের জন্য বিখ্যাত নিলাচল, ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। সেই সময়ের সৌন্দর্য, মেঘে ঢাকা পাহাড়, শান্ত জলাশয় এবং সবুজের মাঝে ঘুরে বেড়ানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। এদিনের ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় সদস্যরা রেষ্ট হাউজে ফিরে এসে দিনটি শেষ করেন। সেখানে রাতে একদিকে চলে ঘরোয়া পরিবেশে রান্নার আয়োজন। অন্যদিকে সবাই একত্রিত হয়ে আলোচনা ও মনোজ্ঞ সময় কাটান। এরইমধ্যে সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে খোজ খবর নিয়েছেন ব্যারিস্টার কাজী ইসতিয়াক হোছাইন জিসান। এসময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সাংবাদিক সংগঠন আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, “এ ধরনের প্রকৃতি ভ্রমণ আমাদের কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে। বান্দরবানের অপূর্ব সৌন্দর্য আমাদের অনেক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।” পিকনিকের প্রথম দিনটি ছিল শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটিয়ে একযোগভাবে সম্পর্ক গড়ার এক অমূল্য সুযোগ। প্রথম দিনটির সফলতার পর, দ্বিতীয় দিন সকাল শুরু হয় একটি সুস্বাদু নাস্তায়। এরপর, সংগঠনের সদস্যরা জিপ ভাড়া করে বান্দরবানের এক ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্থান নীলাগিরির উদ্দেশে রওনা দেন।

দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় মেঘ ছোঁয়ার স্থান নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে এসে থামেন গাড়ি। এর পর দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিক সংগঠনটির সদস্যরা প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যান। সেখানকার অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়ি অঞ্চল এবং সবুজের ছায়ায় ঘুরে বেড়ানো এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। দুপুরে সেখানকার স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে, সদস্যরা আবার বান্দরবান শহরে ফিরে আসেন। আসার পথে তাদের বহনকারী জিপ গাড়িটি থামেন শৈলপ্রভাতের দর্শনীয় স্থানে। শৈলপ্রপাত ঝর্ণা-র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ ও শান্ত পরিবেশ সকলের মনকে আরও গভীর প্রশান্তি দিয়েছে। তাছাড়া সেখানে পাহাড়ি আদিবাসিদের ছোট্ট মার্কেট ঘুরে যে যার পছন্দমতো বাজার করার সুযোগ পেয়েছে। একইদিন বান্দরবান শহরে যখন গাড়ি দাঁড়ায় তখন সন্ধ্যা ৭টা। বান্দরবানের অভিজাত রিসোর্ট মেঘদূত এ আবারও এক জাঁকজমকপূর্ণ ভোজনের আয়োজন করা হয়।

এসময় আরজেএ নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন বান্দরবান সেনা জোন এনসিও মঞ্জুরুল ইসলাম ও সোহান। এরই মধ্যে নেতৃবৃন্দের সাথে চা চক্রের অঅগ্রহ প্রকাশ করে গাড়ি পাঠিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলাম চৌধুরী। পওে তাঁর অফিস ও বাসায় ২ দফা চলে চা আড্ডা ও ফটো সেশন। রাত ৯টার মধ্যে আবারও রেষ্ট হাউজে ফেরা এবং আগের দিনের মতোই হরেক রকম পদের ঘরোয়া রান্নায় হাত ও জিপ চেটে খাওয়া দাওয়া। সবশেষে সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আনন্দ-আড্ডায় মেতে ওঠে।

পরদিন ভ্রমনের শেষ শনিবার সকালে নাস্তা করে দুপুর ১২টায় বাসে করে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দ্যেশে যাত্রা। এভাবেই প্রকৃতির মাঝে কাটানো দুটো দিন এবং একে অপরের সাথে সময় কাটিয়ে সবাই সত্যিই নবোদ্যম ও সজীব হয়ে ফিরে আসে। এ বিষয়ে আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহের পেছনে ছুটতে ছুটতে অনেক সময়ই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু এমন একটি ভ্রমণ আমাদের সকলকে একত্রিত করে, একে অপরের সাথে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ দেয় এবং আমাদের মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।” এভাবে, এই তিন দিনের ভ্রমণটি শুধু একটি প্রকৃতিভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল সাংবাদিকদের জন্য একটি পরিপূর্ণ রিফ্রেশমেন্ট, যেখানে প্রকৃতি, বন্ধুত্ব এবং আনন্দের সম্মিলন ঘটেছিল।

সংগঠনের সভাপতি দৈনিক সকালের সময়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস এম পিন্টুর নেতৃত্বে তিনদিনের বান্দরবান ভ্রমণে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন,দৈনিক দেশবার্তার স্টাফ রিপোর্টার এম আর আমিন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের নাছির উদ্দিন রকি, সকালের সময়ের সেলিম চৌধুরী, ফয়েজ রেজা, শেখ মোরশেদ আলম, দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন ও জয় নিউজের বার্তা সম্পাদক রাজীব সেন প্রিন্স, দৈনিক আইন বার্তার ব্যুরো প্রধান আব্দুল মতিন চৌধুরী রিপন, দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের মোস্তফা জাহেদ, দৈনিক সাঙ্গুর মো. আলমগীর, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক জনবানী মো. এরশাদ,ডেইলি মনিং গ্লোরি রাকিব উদ্দিন,সিটিজি পোস্ট হাসান সৈকত, দৈনিক সোনালী কন্ঠ,পরিতোষ বড়ুয়া রানা,সময়ের কন্ঠস্বর গাজী গোফরান, আনিসুর রহমান ও মো. তৈয়ব চৌধুরী। সাংবাদিক কাজী জুয়েল শুরু থেকেই আমাদের সঙ্গে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সময় ও শ্রম দিয়ে পাশে ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবহৃত দুটি মোবাইল চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে আ’লীগ নেত্রীর উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নুর নাহার নামে ওই নারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশের ভাষ্য, তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন কিংবা অস্বাভাবিক কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নুর নাহারের মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে সন্দেহ পুলিশের। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মাঝিরঘাট এলাকার নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছিলেন, নুর নাহারের বয়স প্রায় ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছেন। স্বামী আগেই মারা গেছেন। ৪৫ দিন আগে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বড় ছেলে মারা যান। ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকতেন। ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বাবার বাড়িতে ছিলেন। তিনি পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।

সদরঘাট থানার ওসি একরাম উল্লাহ বললেন, মহিলার বাড়ির সামনে-পেছনে দুই গেট। পেছনের গেটের সঙ্গে লাগোয়া তিনটি ভাড়া ঘর আছে। সেগুলোতে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক ও কয়েকজন পোশাককর্মী ভাড়া থাকেন। উনার ছোট ছেলে কেএসআরএম গ্রুপে চাকরি করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি অফিসে চলে যান। সন্ধ্যার পরও পেছনের গেট খোলা দেখে ভাড়াটিয়া কয়েকজন বাসায় প্রবেশ করেন।

তারা মহিলার বেডরুমের দরজাও খোলা পান। ভেতরে গিয়ে দেখেন মহিলা বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে বলে জানালেন ওসি একরাম। বললেন, শরীরে আমরা কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছুই পাইনি। আমাদের কাছে নরমাল ডেথ বলে মনে হয়েছে। তবে উনার দুইটা মোবাইল মিসিং। এজন্য আমাদের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। পুলিশ নুর নাহারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ছেলে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন বলে ওসি জানালেন।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ বছরের পথচলা: ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, মানবকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে প্রত্যেক স্তরে সৎ মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে আর্দশ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে ১৯৭৮ সালের ২৭শে অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার হাতে গড়া যুবদল আজ ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছরে পদার্পন করছে।


এদেশের যুবসমাজের প্রাণের সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। যুব, ঐক্য ও প্রগতির মূলমন্ত্রে যুবদল সগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে আপন মহিমায়।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে যুবদলের প্রথম কমিটি গঠন করা হয়। এর পর আবুল কাশেমকে সভাপতি ও সাইফুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়।

১৯৮৭ সালের ২৩ মার্চ যুবদলের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ১৯৯৩ সালের ৮ অক্টোবর কাউন্সিলে আব্বাস-গয়েশ্বর আবারো নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে যুবদলের কাউন্সিলে বরকত উল্লাহ বুলু সভাপতি ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাইফুল আলম নীরব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন।

এরপর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া কমিটিতে সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঠিক দিক নির্দেশনায় সারদেশে যুবদল আজ যুবসমাজের আস্হার প্লাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। একটি সুতায় গাঁথা হয়ে উঠেছে, সকল ইউনিট একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করে়ছে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। এই সংগ্রামের পথে অনেকের জীবন গেছে, অনেকে আহত হয়েছে, আর কতজন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে—এই দুঃখের চিত্র আমাদের হৃদয়ে গভীর আঁচড় কেটে গেছে। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৭৯ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন।

আহত হয়েছেন অসংখ্য যুবদল নেতা-কর্মী। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য জাতীয়তাবাদী যুবদলের জিয়ার সৈনিকেরা। গায়েবি মামলা আর জেলহাজতের ইতিহাস তো যুবদলের প্রতিটি নেতা-কর্মীর ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের দুঃসহ স্মৃতি। অতীতের সকল আন্দোলন সংগ্রামে যুবদল সন্মুখ যোদ্ধা হিসেবেই রাজপথে ছিলো।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন সংগ্রামে যুবদলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে জীবন দিয়েছে। বর্তমান সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি’র নেতৃত্ব জাতীয়তাবাদী যুবদল সারাদেশের প্রত্যেক ইউনিটেই সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের ভালো উদ্যোগ জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তির প্রপাগাণ্ডার বিরুদ্ধেও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংবাদ নির্বাচনে যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দিন-রাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। নির্বচানে

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি )। দেশ পুনর্গঠনে কাজ করে যাচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে । আমাদের সহযোদ্ধারা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছে, কিন্তু তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদেরকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দেশগড়ার নতুন যুদ্ধে তাদের চেতনা ও আদর্শের বিজয় হবে, এবং তারা সেই জয় অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তি ও পলাতক ফ্যাসিস্ট লীগের বিরুদ্ধে যুবদলের সংগ্রাম চলবে। সবার আগে বাংলাদেশ হ্নদয় ধারণ করে দেশ পরিচালনা করছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে যুবদল নিরবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশবিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে যুবদলের নেতা-কর্মীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

গতো বছর ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুবদলের নেতাকর্মীরা সত্যিকার অর্থে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছেন। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তারা ছুটে গেছেন দূরবর্তী গ্রামে, যেখানে বিপদের মধ্যে নিপতিত মানুষগুলো সাহায্যের জন্য অসহায় হয়ে পড়েছিল। ঝড়, ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস—কিছুরই আমাদের সাহসকে দমাতে পারেনি। কারণ আমাদের সাহসের আঁধার, প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান শিখিয়েছেন কিভাবে অকুতোভয় হয়ে এগিয়ে যেতে হয়। যুবদল সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত, মানবতার সেবায় কখনো পেছনে ফিরে তাকায়নি।

বর্তমানে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে। যুবদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশ্বস্ত হাতিয়ার হয়ে, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি পরিবর্তন আনতে তারা কখনো পিছপা হবে না। তাদের এই যাত্রা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং মানবতার, ভালোবাসার এবং সমতার একটি মহান অভিযাত্রা। জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত কর্মসূচি পালন করবে কেন্দ্রীয় যুবদল। নয়াপল্টনস্হ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় রক্তদান কর্মসূচি এবং ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পও পরিচালনা করা হবে। নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সারা দেশেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হবে পূর্বের ন্যায়।

যুব, ঐক্য ও প্রগতি’র মূলমন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল এগিয়ে যাক আপন মহিমায়, গৌরব ও সাফল্যের পথে।৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সকল নেতা-কর্মীদের জানাই রক্তিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ