চট্টগ্রামে মানবিক ডিসির সহায়তায় এগিয়ে গেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর শিক্ষার পথ ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার খটেশ্বর গ্রামের রিকশাচালক আমজাদ ফকির ও গৃহকর্মী ছামেনা বেগম দম্পত্তির কন্যা মাফিয়া খাতুন। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও তার স্বপ্ন দেখার চোখ কখনো অন্ধ হয়নি। চরম প্রতিকূলতার মাঝেও মাফিয়া খাতুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সে ভর্তিও অপেক্ষায়। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন আজ থমকে যাওয়ার মুখে। মাফিয়ার বাবা আমজাদ ফকির রিকশা চালিয়ে আর মা ছামেনা বেগম বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানোর চেষ্টা করতেন। ২০২০ সালে আমজাদের মৃত্যুর পর পরিবারটির জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। একা ছামেনার পক্ষে চার সন্তানের ভরণপোষণই হয়ে পড়ে প্রায় অসম্ভব। সেখানে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন ছিল কল্পনাতীত। মাফিয়ার সংগ্রাম শুধু তার একার নয়। তার আরেক ভাই মোহাম্মদ আশিকও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আশিক বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি কলেজে এইচএসসি পর্যায়ে পড়াশোনা করছে বলে জানিয়েছে পরিবার। সীমাহীন দারিদ্র্যের মাঝেও দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সন্তানের শিক্ষার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে রেখেছেন মা ছামেনা বেগম। তবে একার আয়ে সেই স্বপ্ন টিকিয়ে রাখা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবু থেমে যাননি মাফিয়া। মানুষের কাছে ধার-দেনা করে কোনোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু মাস্টার্সে ভর্তির ফি ও আনুষাঙ্গিক শিক্ষা ব্যয় জোগাড় করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয়ে উঠছিল না। কেবল অর্থাভাবে একজন মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে মাফিয়া বৃহস্পতিবার হাজির হন সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার কার্যালয়ে। সেখানে নিজের জীবনের করুণ বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মাফিয়ার কাহিনি শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন,‘একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, তাও আবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন—টাকার অভাবে মাস্টার্স শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না, এটা জেলা প্রশাসক হিসেবে মেনে নেওয়া কষ্টকর।’
নির্বাচনী কাজে চরম ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মাফিয়াকে কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান। সরকারি নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও তার পাশে দাঁড়ান, যেন সে বুঝতে পারে-রাষ্ট্রঅসহায় মানুষের পাশেই থাকে।

মাফিয়া খাতুন জানান, তিনি বরিশালের এ.আর.এস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মাফিয়া। তিনি বলেন, ‘এত ব্যস্ততার মাঝেও ডিসি স্যার আমাকে সময় দিয়েছেন। উনি মানবিক না হলে নিশ্চয়ই আমার মতো মানুষের পাশে দাঁড়াতেন না।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ