অমর একুশে : সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার সুনিশ্চিত করা জরুরী 🇧🇩 ফজল আহমেদ

লেখক : প্রবন্ধকার ও মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড, চট্টগ্রাম। সাবেক যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

অমর একুশের এই দিনে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


২১ শে ফেব্রুয়ারি যুগে যুগে বাঙালি জাতির জন্য প্রেরণার উৎস। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর পাকিস্তান সরকার ঊর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করলে পূর্ব বাংলার জনগণের মনে গভীর ক্ষোভের দানা বাঁধতে শুরু করে এবং মাতৃভাষা বাংলাকে সম-মর্যাদার দাবিতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ মিছিল করে ১৪৪ ধারা ভাঙলো। এসময় পুলিশ মিছিলের উপর গুলি ছুড়লে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকেই শহিদ হন। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বুকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ। শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারারুদ্ধ।

তীব্র ভাষা আন্দোলনের মুখে পড়ে বাংলা ভাষাকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তানী সরকার এবং ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিলে ২৩ তারিখ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু, সংসদের দৈনন্দিন কার্যাবলী বাংলায় চালু প্রসঙ্গে আইন সভায় তুলে ধরেছিলেন এবং ১৯৫৩ সালে একুশের প্রথম বার্ষিকী পালনেও বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাীধনতা লাভ করে বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর মহান সংবিধানে বাংলাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন। এটাই পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম বাংলা ভাষায় প্রণীত সংবিধান। ১৯৭৪ সালের জাতিসংঘে ভাষণটিও বঙ্গবন্ধু বাংলায় দিয়েছিলেন।

যেটি বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষাকে ও বাঙালি জাতিকে আত্মমর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সকল অফিসের কাজে বাংলা ভাষা প্রচলনের প্রথম সরকারী নির্দেশ জারি করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারী এই দিনটি জাতীয় শহীদ দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ২০০০ সালে ইউনেস্কো বাংলা ভাষা আন্দোলন, মানুষের ভাষা এবং কৃষ্টির অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা এখন বিশ্বের বহু দেশে গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সাথে প্রতি বছর উদ্যাপিত হয়। মাতৃভাষার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অবদান বাংলা ভাষাবাসীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্ম বাংলা ভাষার প্রতি চরম উদাসীন। তারা শুদ্ধরূপে বাংলা ভাষার চর্চাকে গুরুত্ব না দিয়ে ইংরেজি-হিন্দি ভাষা মিশিয়ে ফরমালিনের থেকে বেশি বিষাক্ত করে তুলছে আমাদের মাতৃ ভাষা বাংলাকে। যেখানে পুরো বিশ্বে একমাত্র জাতি হিসেবে বাঙালিই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে ও বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই বাঙালির মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তি বা হুমকির মুখে। যত্রতত্র দেয়ালে, ফ্যাস্টুনে, ব্যানারে, আলাপচারিতার মধ্যে বাংলা ভাষাকে ছোট করে ভাষার অপব্যবহার বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলা নামটি ছোট করে লিখে ইংরেজিতে নামটি বড় করে লিখা হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা বিধায় সেটিকে আয়ত্ত করতে হবে ভালো কথা কিন্তু সেক্ষেত্রে বাংলাকে করতে হবে মূখ্য ভাষা এবং ইংরেজিকে করতে হবে গৌণ ভাষা এই বিষয়টিকে তরুণ প্রজন্মের খেয়াল রাখতে হবে।

পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে পারিবারিকভাবেও সন্তানদের বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ শিক্ষায় পারদর্শি করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বাধীনতা-পরবর্তীতে বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারীর একুশ দিনটি আসলে সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের রুল জারি সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও দুঃখের বিষয় দিবস চলে গেলে সেই প্রক্রিয়াটি স্তবির হয়ে পড়ে। কিন্তু এত কিছুর পরও সব জায়গায় এখনো বাংলা ভাষা ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি।

আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে যেমন তথ্যপ্রযুক্তির ওপর জোর দিতে হবে তেমনি বাংলা ভাষার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে শিল্প-সাহিত্য, সংগীত, স্থাপত্য, ঐতিহ্য ও নিদর্শন সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের বাংলা ভাষার দুয়ার খুলতে হবে। স্মরণে রাখতে হবে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, শরৎচন্দ্র, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন, দীনবন্ধু মিত্র, গিরিশ চন্দ্র সেন, বঙ্কিমচন্দ্র, মীর মোশাররফ হোসেন, কামিনী রায়, রজনীকান্ত সেন, প্রমথ চৌধুরী, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, যতীন্দ্রমোহন বাগচী, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সুকুমার রায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অসংখ্য গুণ্য সাহিত্যিকরা বাংলা ভাষায় লিখনীর মাধ্যমে বিশ্ব সভায় সুখ্যাতি অর্জন করেছেন।

আমাদের ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ঔপনিবেশিক অসংস্কৃতি এখনো বাংলাদেশে বিরাজমান। এই অপসংস্কৃতিকে দূর করে শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের মাতৃভাষাকে পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী। বাংলাদেশে বসবাসরত প্রতিটি নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা থাকলেও এদের মধ্যে বেশির ভাগের ভাষারই নেই নিজস্ব বর্ণমালা। লিখিত রূপ না থাকায় তাদের ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেন শুধু আবেগতাড়িত না হয়ে অমর একুশের কথা না বলি। একুশ তখনই সার্থক হবে, যখন প্রতিটি জনগোষ্ঠী তার নিজের মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারবে। শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারবে।

বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের এই আত্মত্যাগ তখনই স্বার্থক হবে যখন আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে পুরোপুরিভাবে সব জায়গায় প্রচলন করতে পারবো। অমর একুশের এই দিনে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
f

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের কয়েকটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে ক্যান্টিন-ওষুধের দোকান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বেসরকারি হাসপাতাল ল্যানসেটে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, পার্কিংয়ের জায়গায় বসেছে ক্যান্টিন ও ওষুধের দোকান, নেই বিকল্প অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্গমন ব্যবস্থা। সোমবার (২৪ আগস্ট) বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম তদন্তে যায় সংস্থাটি। শুধু ল্যানসেট নয়, শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল হিদায়াহ স্কুলেও অভিযান চালিয়েছে সিডিএ। অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানে নকশা ও বিধিবিধান না মানার বিভিন্ন চিত্র উঠে আসে। অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের সময় দিয়েছে সংস্থাটি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিকরা বলছেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নকশাবহির্ভূত ব্যবহার দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই শুধু অভিযান নয়, নির্ধারিত সময় শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মানছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং জরুরি।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম, হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থার কারণে যানজট এবং নকশাবহির্ভূত ভবন ব্যবহারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আবাসিক ভবনে পরিচালিত হাসপাতালগুলোকে এক মাসের মধ্যে বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আবাসিক ভবনে পরিচালিত একটি স্কুলকেও এক মাসের মধ্যে বিকল্প স্থানে যাওয়ার অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর কিছু পার্কিং-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, অভিযানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব পরিবর্তন কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা দেখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

এদিকে ল্যানসেট হাসপাতালের পরিচালক মহসীন হোসেন বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন আমাদের রয়েছে। মানুষের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে অনেক কর্মচারীর জীবিকা নির্ভরশীল। আমাদের লাইসেন্সসহ অন্যান্য অনুমোদনও আছে। তবে পার্কিংয়ের জায়গায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। সিডিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা সরকারের সহযোগী হিসেবে তাদের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি আবাসিক হিসেবে কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে, সেটি ভবন মালিকের বিষয়। আমরা ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। অতীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেই বিভিন্ন অনুমোদন দিয়েছে। তবে সিডিএ এখন যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছে, সেগুলো সমাধানে আমরা সহযোগিতা করব।
সিডিএ জানিয়েছে, এক মাসের সময়সীমা শেষে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। নিয়ম না মানলে সিলগালা ও উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাছ ধরার অবৈধ জাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাগরে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল বসানোর ফলে লাইটার জাহাজের প্রপেলারে জাল জড়িয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পাশাপাশি জাহাজ শ্রমিক ও জেলেদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ ও অপসারণ এবং জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, বিভিন্ন নৌ-চ্যানেলে জাল বসানো বন্ধ হচ্ছেনা। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙরসহ বিভিন্ন নৌপথে অবৈধভাবে এই মাছ ধরার জাল বসানো পুরোপুরি বন্ধ না হলে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লাইটার জাহাজের শ্রমিকরা।

এদিকে ধারাবাহিক অভিযানের পরও জাল বসানো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ লাইটার জাহাজের শ্রমিকদের। জেলে পাড়া-পারকি বিচ, শিপ চ্যানেল-কুতুবদিয়া, সি বিচ-ভাসানচরসহ বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন নৌ-চ্যানেলে অবৈধ জাল বসানো বন্ধ না হলে ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে শিপিং চ্যানেল থেকে জেলেদের জাল ক্লিয়ার না করলে কর্ম বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।

লাইটার জাহাজের মাস্টার সবুজ মিয়া বলেন, মাদার ভ্যাসেলের চারপাশে এবং চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া রুটে লাইটার জাহাজ চলাচলের পথে যেভাবে অবাধে জাল পেতে রাখা হয়, ক্যামেরার ফ্রেমে তা পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়। সাগরে একটি লাইটার জাহাজ চালানো কতটা কষ্টের, তা জাহাজি ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত প্রপেলারে জাল পেঁচিয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকিতে পড়ছি আমরা। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আজ পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। নাবিকদের নিরাপত্তা এবং নৌপথ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। নৌ চ্যানেল নিরাপদ রাখতে অবৈধ জাল অপসারণ করা হচ্ছে। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি সহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্য নিয়ে চলাচল করে লাইটার জাহাজ। কিন্তু নৌ-চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল পেতে রাখায় ঝুঁকিতে পড়ছেন এসব জাহাজের মাস্টার, সুকানি ও শ্রমিকরা। চলন্ত জাহাজের প্রপেলারে জাল জড়িয়ে গেলে মাঝপথে জাহাজ থামিয়ে জাল কেটে বা খুলে এগোতে হয়। এতে একদিকে যেমন জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে জাল নষ্ট হওয়ার অভিযোগে জেলেদের সঙ্গে জাহাজ শ্রমিকদের বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে। কোথাও কোথাও জাহাজের মাস্টার, সুকানি ও শ্রমিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।বন্দর সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট বন্দরের মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ২৮ জনকে আটক করা হয়।

তাদের মধ্যে ২৪ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এরপর ১৫ আগস্ট মূল শিপিং চ্যানেল ও নেভিগেশনাল রুটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও বিপজ্জনকভাবে স্থাপিত বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল এবং জাল স্থাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম শনাক্ত, জব্দ ও অপসারণ করা হয়। ২০ আগস্ট তৃতীয় দফায় অভিযান চালিয়েও বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।সর্বশেষ ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দরের প্রধান শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নৌ-চলাচল নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও ঝুঁকিমুক্ত রাখা এবং জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়।

লাইটার জাহাজের নাবিক সোহেল রানা বলেন, নাবিকদের আন্দোলনের কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের ঘুম ভেঙেছে। ইতোমধ্যে অভিযানও হচ্ছে। তবে নৌযান চলাচলের চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ