গাউছে ছমদানী কুতুবে রব্বানী চেরাগে চাটগাম হজরত আল্লামা সৈয়দ গাজী ঈমামউদ্দীন পীর বদর শাহ (রহ.) অ্যাডভোকেট শাহাজাদী মুক্তা।

প্রেস রিলিজ

আগামীকাল ২৯ মার্চ পীর বদর শাহ (রহ.)’র বার্ষিক ওরশ শরীফে উপলক্ষে প্রকাশের জন্য...

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহান রাব্বুল আলামিন তার সৃষ্টি জগতকে সুন্দর ও নিজস্ব চলার গতিতে পরিচালিত করে থাকেন তার সুনিপুণ দিকনির্দেশনা মাধ্যমে। সৃষ্টি জগতে কোথাও কোন ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয় না। রাত-দিন, সূর্য চন্দ্র , গ্রহ, নক্ষত্র নিজ নিজ অক্ষে এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে সদা পরিচালিত। রহস্যময়তায় ভরা আমাদের এই পৃথিবী এবং জীবজগৎ। এই পৃথিবীর সৃষ্টির শুরু থেকে আজ এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগ পর্যন্ত যা কিছু দৃশ্যমান সবই মহান রব্বুল আলামীনের কুদরতের বহিঃপ্রকাশ পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তোলা এবং আবাদ করার পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন এবং যাচ্ছেন নবী-রাসুল,অলি আবদাল গাউস কুতুব মোজাদ্দেদ তথা মহান অলি আল্লাহগণ। তেমনি যুগ সংস্কারক মহান অলি হলেন হযরত আল্লামা সৈয়দ গাজী ইমামুদ্দিন পীর বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি।

বাংলাদেশ ছোট একটি বদ্বীপ অঞ্চল।আল্লাহ তার অপার মহিমায় সাজিয়েছেন এই দেশকে। নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন-জঙ্গল এ বেষ্টিত পাহাড়ি কন্যা বা ঝর্ণাধারিনী’ চট্টগ্রাম’সে আদিকাল থেকে আকৃষ্ট করতো বিভিন্ন জাতিকে। এই ভূমিটি পবিত্র হয়েছে আল্লাহর ওলীদের পবিত্র কদমের ছোঁয়ায়। কিন্তু এই পাহাড়ি কন্যা বর্তমান রূপে আসতে প্রথমত যার অবদান অনস্বীকার্য তিনি হলেন গাউসে সামদানী কুতুবেরাব্বানি হযরত আল্লামা সৈয়দ পীর বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি। বাংলাদেশের মানচিত্রে চট্টগ্রাম এক সুপ্রাচীন জনপথ প্রাগৈতিহাসিক দলিল পেরি প্লাস অফ দা ইরিথ্রিয়ান সি এর স্কেচ চিত্রে চট্টগ্রাম শহরের চিহ্ন সুস্পষ্ট। মহাভারতে বর্ণিত কিরাত রাজা বা গ্রিক পর্যটকদের উল্লেখিত কিরা দি রাজা যে চট্টগ্রাম তা ম্যাক্রিন্ডন ও পাজীরটারের মতো পণ্ডিতরা ও স্বীকার করেন। আরাকানের প্রাচীন ইতিহাস রাজো আং এ উল্লেখ আছে চট্টগ্রাম একসময় ব্রহ্মদেশ রূপে গণ্য ছিল। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের মধ্যভাগে অর্থাৎ ১৪৬ সালে চন্দ্র সূর্য নামে মগদের এক সামন্ত ভূস্বামী চট্টগ্রাম থেকে আরাকান পর্যন্ত এলাকা দখল করে আরাকানের ধান্য বতিতে রাজধানী স্থাপন করে একটি রাজ্য গঠন করেন এবং রাজা হন। তারা চন্দ্র-সূর্য রাজবংশ নামে পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত একটানা শাসন করেন। পরবর্তীতে তাদের অন্ত দ্বন্দ্ব এর সুযোগে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে চট্টগ্রাম সমতটের খড়খ রাজবংশ সপ্তম শতকে সমতটের দেবরাজ বংশের অধীনে চলে যায়। অষ্টম শতকে চট্টগ্রাম ধর্ম পালের রাজ্য ভুক্ত হয়। তখন বঙ্গোপসাগর কে বলা হত হরিকেল সমুদ্র। দশম শতকে আরাকানের চন্দ্র সূর্য রাজবংশ পুনরায় চট্টগ্রাম জয় করে নিজ এলাকাভুক্ত করেন।এই সময় প্রতিষ্ঠিত বিজয়স্তম্ভে ,” চেত্তগং”বা যুদ্ধ করা অনুচিত কথাটি উল্লেখ করা হয়। আরাকান রাজবংশীয় উপখ্যান “রন্দজাতুয়ে,” সূত্রে জানা যায় ৯৫৩ সালে আরাকান রাজ সুলতইঙ্গ চন্দয়ত মূর্তন বিজয় করে সেই দেশে একটি বিজয় স্তম্ভ স্থাপন করে তার উক্তি অনুসারে সেই দেশের নাম হয় চেত্তগং (জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল কলকাতা ১৮৪৪ পৃষ্ঠা নম্বর: ৩৬)

চট্টগ্রাম ব্রহ্মদেশের পগাঁ রাজ, প্যাট্রিক রাজ, সমদর দেব রাজ বংশ আরাকান রা সহ বিভিন্ন শাসকদের পরাধীন ছিল। জঙ্গল আকীর্ণ নদী বিধৌত এই অঞ্চল অরাজকতার শীর্ষে পৌঁছে ছিল। তখন আল্লাহ রাববুল আলামীনের বেলায়তের প্রতিনিধি মোজাদ্দেদ হিসেবে হজরত পীর বদর আউলিয়া (রহঃ) আগমন ঘটে এই অঞ্চলে। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের সাথে সুফি সাধক পীর আউলিয়া, আলেম গণের নাম অঙ্গা অঙ্গি ভাবে জড়িত। আরব, ইরান, ইয়েমেন,খোরাসান,মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে সুফি ও আলেমগণ বাংলাই আগমন করেন।
গাউছে ছামদানি মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানী সুলতানুল অলি গাজী ইমাম উদ্দিন হযরত সৈয়দ পীর বদর রহমাতুল্লাহ আলাইহি ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে চট্টগ্রাম শহরে আগমন করেন। হযরত পীর বদর শাহ ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে মুসলমান কর্তৃক সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাংলা প্রথম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের আমলে (১৩৩৮-১৩৫০) তার সেনাপতি কদলখান গাজী (রহঃ) এর সহায়তায় শাহ বদর (রহঃ) ও তার সহচরগণ মগদের পরাজিত ও বিতাড়িত করে চট্টগ্রামে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। সপ্তদশ শতকের শেষার্ধে শিহাব উদ্দিন তালিস লিখিত ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি যে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের আমলে ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দ চট্টগ্রাম মুসলমানদের দ্বারা সর্বপ্রথম বিজিত হয়। পর্যটক ইবনে বতুতা (১৩৪৬ থেকে ১৩৪৭) সালে যখন বাংলা সফর করেন তখন তিনি চট্টগ্রাম শহর ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ এর শাসনাধীন দেখেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচারের প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় সপ্তদশ শতকের চট্টগ্রামের কবি মুহাম্মদ খানের মুকতল হুসেন কাব্যে (রচনাকাল ১৬৪৬ খ্রিস্টাব্দ)কবিতার পিতা মাতার বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে সর্বপ্রথম মুসলমানদের চট্টগ্রাম বিজয় কাহিনী বর্ণনা দিয়েছেন এবং চট্টগ্রামের বার আউলিয়ার কথাও বলেছেন।

“এক মনে প্রণাম করি বারে বার কদলখান গাজী পীর ত্রিভুবন সার যার রণে পড়িল অক্ষয় (অসংখ্য)রিপুদল,
ভয়ে কেহ মজ্জি গেল সমুদ্রের তল,
এক মর মহিম হইল প্রাণহীন,
রিপু যিনি চাটি গ্রাম কৈলা নিজাধিন,
বৃক্ষ ডালে(তলে) বসি ছিলা কাফিরেরগণ,
সেই বৃক্ষ ছেদী সবে করিলাম নিধন,
তান একাদশ মিত্র করম প্রণাম,
পুস্তকভাবে এহেতু না লিখিলু নাম,
তান একাদশ মিত্র জিনিয়া চাটিগ্রাম,
মুসলমান কৈলা চট্টগ্রাম অনুপম।”
পাণ্ডুলিপিতে আরো উল্লেখ আছে যে যুদ্ধ জয়শেষে কদল খান গাজী যখন শিবিরে ফিরেছিলেন। তখন তিনি নিজের কয়েকজন বন্ধু দরবেশকে দেখলেন। তাদের মধ্যে হাজী খলিল ও শাহ বদর রাহমাতুল্লাহ আলাইহি ছিলেন সুবিখ্যাত।কদলখান গাজী তাদের নিয়ে গেলেন। হাজী খলিল কে দেখে হযরত শাহ বদর রহমাতুল্লাহ আলাইহি খুশি হলেন । বোঝা গেল বেশ বড় রকমের যুদ্ধ হয়েছিল।তাতে অমুসলিম পক্ষ সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছিল এবং এই যুদ্ধে দরবেশ বাহিনী ও যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।

এই থেকে প্রমাণ হয় যে চট্টগ্রাম সর্বপ্রথম বিজিত হয় কদলখান গাজীসহ বারো আউলিয়ার মাধ্যমে এবং আরেকটি সত্য প্রমাণিত হয় কর্তৃক চট্টগ্রাম বিজয়ের পূর্বে হযরত শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি চট্টগ্রামে অবস্থান করেন। ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জীবিত ছিলেন। তিনি কদলখান গাজীর আগে আল্লাহর নির্দেশে আরব দেশ হতে চট্টগ্রাম আসেন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি বিশাল পাথর খন্ডে (কিস্তি) অলৌকিক শক্তি বলে আরব সাগর পাড়ি দেন। তিনি বাংলাদেশে প্রবেশের আগে বার্মা অবস্থান করেন পামেলা গুড ম্যান লিখিত “বারমা’স লস্ট কিংডম” শিরোনামে যুক্ত গ্রন্থে এই বদর মোকামের পরিচয় পাওয়া যায়। পামেলা লিখেছেন বুদ্ধ আউলিয়া নামে পরিচিত পীরের সম্মানে ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানরা এটি নির্মাণ করেন। ৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে আরাকানের ব্রিটিশ কমিশনার বদর মোকাম সম্পর্কে এক বিবরণ লিখে যান। তারপর তিনি টেকনাফ শহর থেকে একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে সর্বশেষ প্রান্তের নাম বদর মোকাম নামক স্থানে বার্মা থেকে আসার পথে যাত্রা বিরতি করেন। আগের দিনে এই বদর মোকাম ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে এপ্রিল মাসে প্রলয়নকারী ঘূর্ণিঝড়ে এই স্মৃতি বিজড়িত স্থান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বর্তমানে (১৯৯১) সালে বদর মোকামের কিছু জায়গা চর আকারে পুনরায় জেগে উঠেছে। টেকনাফ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে এই মহান অলি এবাদতের উদ্দেশ্যে যাত্রা বিরতি করেন। বর্তমানে কক্সবাজার সদরে বদর মোকাম মসজিদ নামে স্থানটি পরিচিতি লাভ করে।

এরপর কক্সবাজার হতে পুনরায় যাত্রা শুরু করে চকরিয়ায় বদরখালী নামক স্থানে তিনি যাত্রা বিরতি করেন।তারপর তিনি কর্ণফুলী নদী হয়ে (বর্তমানে পাথরঘাটা) দিয়ে বক্সিরহাটে এসে পৌঁছলেন এবং বকশিবাজারস্থ মাটির মাজার (মেট্যে মাজার) নামক স্থানে তিনি উজু করেন এবং চুল, গোঁফ, দাড়ি মুবারক কেটে ছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। বর্তমানে দরগা প্রাঙ্গনে তার আস্তানা গড়ে তোলেন। তার এবাদতের নির্জনতার জন্য এবং জিন, পরীদের আর মগদের দৌরাত্ব দমন করতে বর্তমান (চারাগি পাহাড়) নামক স্থানে অবস্থান করেন এবং জিন পরীদের সাথে তার আধ্যাত্মিক যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবার একটি মাটির প্রদীপ চাটি রাখার স্থান চেয়ে নিয়ে সেখান থেকে ইসলামের ঐশী আলো ছড়িয়ে সমগ্র চট্টগ্রাম আলোকিত করেন।
চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গন বিভিন্ন তথ্য লিখে গিয়েছেন। তার মধ্যে হযরত পীর বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহির এর এই অঞ্চলে আগমন এবং চেরাগ বা চাটি জ্বালিয়ে অলৌকিক ইসলাম এর আলো ছড়িয়ে তিনি যে সভ্য জাতির বীজ বপন করে গিয়েছেন তা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য এবং স্বীকৃত।হজরত বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি কতৃক অশুভ শক্তিকে বিতাড়িত করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলের নাম চাটি গ্রাম বা চাট গাঁ নামের পরিচিত। আজও চট্টগ্রামের লোকেরা ধাতব বা মাটির তৈরি প্রদীপ কে চেরাগ বা চাটি বা চাডি বলে। মূলত ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের পর হতে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পর্যটক ও ঐতিহাসিকদের বর্ণনা থেকে চট্টগ্রাম নামের প্রমাণ মিলে।

এই মহান সাধক এক আধারে বেলায়েতের সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মাদারজাত অলি এবং মোজাদ্দেদ ছিলেন সেই সাথে তিনি যোদ্ধা অর্থাৎ গাজী হিসেবে এই অঞ্চলে খ্যাতি লাভ করেন তার জীবনের যেই সময়টুকু তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলে কাটিয়েছেন তা বহুল ঘটনার সমৃদ্ধ এবং কারামত সম্বলিত। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ পর্যন্ত তিনি মানবতার ধর্ম ইসলামের সুশীতল বাতাসে চট্টগ্রামের জমিনকে পবিত্র ভূমিতে রূপান্তরে অক্লান্ত চেষ্টা করে গিয়েছিলেন এই মহান অলি প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে আমাদের জন্য বয়ে এনেছিলেন ইসলামের আলো তার এই প্রশংসায় আল্লামা হযরত আজিজুল হক শেরে বাংলা শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি তার রচিত “দিওয়ান-ই-আজিজ” “এ উল্লেখ করেন চাটগাম আবাদ আজওয়াই গোশত বেশক মারহাবা আযদাহ মিশলে বদর বেশক মিয়ানে আউলিয়া”।
অর্থ: নিশ্চয়ই তার দ্বারা চট্টগ্রাম আবাদ হয়েছে তাকে স্বাগতম অলিগনের মধ্যে তিনি নিঃসন্দেহে পূর্ণিমা চাঁদের মতো হয়ে এসেছেন।
“মাসকানে জিন্ন ও পরীমুদাহ বেলা আসক চাটগাম এক চেরাগ আদাযাহ যুশজা গেরেফতাহলা কালাম”
অর্থ: নিঃসন্দেহে চট্টগ্রাম ছিল জিন ও পরীর বাসস্থান তিনি মাত্র একটি চেরাগ পরিমাণ জায়গা তাদের থেকে নিয়েছিলেন এতে সবাই একমত কারো দ্বিমত নেই।।
“দর বদর পাতি বেদানি রওজােয়ে পুর নূরে উ মারদুমা পুর ফায়য বা শন্দ দাইমান আযযাতে উ”

অর্থ: তার নূরানী মাজার বদর পাতিতে অবস্থিত মানুষ সবসময় তার পবিত্র সত্তা থেকে ফয়েজ প্রাপ্ত হচ্ছেন।
হযরত পীর বদর শাহ রহমাতুল্লাহ আলাইহি ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে যে কোন এক সময়ে উফাত প্রাপ্ত হন ঐতিহাসিক গবেষক এবং আউলিয়া একরাম গণের মতামত অনুসারে তিনি ১৩৪০ সালের পরে (পহেলা ছাওয়াল বা চাঁদরাতে )উফাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রয়াত মতয়াল্লি সৈয়দ দেরাযদ্দৌল্লাহ ফকিরের সময় থেকে ভক্তদের ওরশ শরীফে অংশগ্রহণের সুবিধার জন্য এবং রমজান ও ঈদুল ফিতরের কারণে প্রতিবছর (৯ সাওয়াল) এই মহান অলি আল্লার বার্ষিকী ওরশ শরীফ পালন করা হয়। ব্যাপক ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণভাবে এই মহান সাধকের মাজার প্রাঙ্গনে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় দিনটি। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই শ্রদ্ধা ভরে এই মহান ওলীকে আজও স্মরণ করেন।

লেখিকা: অ্যাডভোকেট শাহাজাদী মুক্তা, বদরপতি, বক্সহিরহাট, হজরত পীর বদর শাহ (রহঃ) মাজার শরীফ, চট্টগ্রাম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাবেক মেয়র মনজুরের সঙ্গে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আলহাজ্ব হোসনেরা মনজুর আলম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। সাক্ষাৎকালে হযরত শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান গাউসুল আজম বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর খলিফা, মাইজভাণ্ডারী গানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং ফটিকছড়ির দক্ষিণ ধর্মপুরের মহান অলি হযরত শাহসূফি সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর আধ্যাত্মিক জীবন, সাধনা ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ধর্মীয় ঐতিহ্য আধ্যাত্মিক সাধনা ও মাইজভান্ডারী সংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ মতবিনিময়ীকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ সময় প্রতিনিধিদল তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শন, মাইজভাণ্ডারী সংগীত ও সুফিবাদী ভাবধারার তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমকে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে তাঁকে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের আমন্ত্রণপত্র এবং ‘সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী গান সমগ্র’ বইটি সৌজন্য উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। সভায় হযরত শাহসূফি সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর পরিবারের সদস্য শাহজাদী ফাতেমা বেগম (খুশি), শাহজাদী আকলিমা আক্তার (পুতুল) ও শাহজাদী রাজিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক সাংবাদিক আল সিরাজ মাইজভাণ্ডারী, মো. জাভেদ হাসান, রাকিব, পিএস লিটনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ সহ উপস্তিত ছিলেন।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল ও গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন; শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল ও গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
ষষ্ঠী থেকে বিজয় দশমী পর্যন্ত,পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, আনন্দ, উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার ২১ অক্টোবর সন্ধ্যার পূর্বলগ্নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে বিদায়ের বিষাদ আর আগামী শরতে দেবী কে আবার বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা।
বুধবার দুপুর ২টা থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের পূজামণ্ডপ থেকে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিমা নিয়ে নদীর ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ভক্তদের মধ্যে একদিকে ছিল প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগ, অন্যদিকে ছিল পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়।

বড়াল নদীতে ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় মন্দির, কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির, জগাতলা দুর্গা মন্দির, পাথরঘাটা দুর্গা মন্দির ও শরৎনগর বাজার মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। অন্যদিকে চড়-ভাঙ্গুড়া ঘোষপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, কৈডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, নৌবাড়ীয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বেতুয়ান সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, দিলপাশার দুর্গা মন্দির ও অষ্টমনিষা দুর্গা মন্দিরে প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হয়।

প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে নদীর ঘাটগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তারা। বিসর্জনের সময় ভক্তরা সব অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির বিকাশ এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর তাৎপর্য শুধু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই এর অন্যতম শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর শরৎকালে দেবী দুর্গা পিতৃগৃহে আগমন করেন। কয়েক দিনের পূজা-অর্চনা ও আনন্দ-উৎসব শেষে বিজয়া দশমীতে তাকে বিদায় জানানো হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, দেবী ফিরে যান কৈলাসে স্বামী মহাদেবের গৃহে। এরপর আবারও শরতের আগমনে দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকেন ভক্তরা।
প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। দেবী দুর্গার কাছে তারা পরিবার-পরিজনের সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করেছেন। আগামী বছর আবারও উৎসবের আনন্দে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা তাদের।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল বলেন, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূরাইয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকাশের মধ্য দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে, শারদীয় দুর্গোৎসবের শিক্ষা হোক সেই মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ