দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হবে বাংলাদেশ: নাহিদ ইসলাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান বাংলাদেশ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে একটা নির্বাচন হয়েছে।বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে আমরা এজন্য কোনো কথা বলতে চাই না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি হলে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তবে আমরা দেখেছি নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ ছিল মুসলমান এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের।তিনি বলেন, আমি সংসদেও এটা বলেছি, সেখানে (পশ্চিমবঙ্গে) মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, এটার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে।

নির্বাচনের পরেও সেখানে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটা কথা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের ফলাফলের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শত্রুপক্ষ যারা বাংলাদেশবিরোধী, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, তারা নানা উসকানি দিবে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে, নানা প্রোপাগান্ডা করবে। আমাদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আমরা এটা দেখিয়ে দেব, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হবে এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে বাংলার মুসলমান, দলিত, মতুয়া সম্প্রদায়সহ সকলের দায়িত্ব নিতে হবে এবং তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজ যারা নতুন করে যোগদান দিচ্ছেন এবং যারা আগে থেকেই আছেন, সবাইকে একটাই প্রতিজ্ঞা করতে হবে- আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখব না। যে যেখান থেকেই আসুন না কেন, এনসিপির পতাকাতলে সবাই যোগ্যতা অনুসারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। কারণ ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশে আবার সংকট তৈরি হয়েছে।

এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।বাংলাদেশে জুলাই গণহত্যা ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি এনসিপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটি সংসদ এবং রাজপথে। আন্দোলনে আমাদের অনেক বোন রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। তাদের অধিকার রক্ষায় আমাদের কাজ করতে হবে।নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দেখতে চায় না আর একটি শিশুও হামের কারণে মৃত্যুবরণ করুক। সরকারকে বলবো, আপনারা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধি করুন।এনসিপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার বলেছেন, ঢাকা বিজয় হয়েছে। আজকে চট্টগ্রাম বিজয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে। যারা জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করেছে তাদের সঙ্গে জনগণের কোন সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করছে। সনদ বাস্তবায়নে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেছে।সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আমরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি আদায় করে নিবো । জুলাইয়ে আমার ভাই হত্যার বদলা আমরা নিবোই। বিএনপি ক্ষমতায় এসে আজকে আমাদের সঙ্গে বেইমানি করছে। ইসহাক সরকার বলেন, হাসিনা ভারতে আশ্রয় পেয়েছে, আপনারা কোথায় যাবেন? জুলাইয়ে সঙ্গে বেইমানি করবেন না। জুলাইয়ে সঙ্গে বেইমানি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রাম আন্দোলন সংগ্রামের শহর। চট্টগ্রাম থেকেই আন্দোলনের সূচনা হবে।

সরকারকে হুশিয়ারি করে বলতে চাই আপনারা জুলাইয়ের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করুন। জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করবেন না। শত শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। ক্ষমতায় গিয়ে রক্তস্নাত জুলাইকে ভুলে যাবেন না। যদি ভুলে যান তাহলে রাজপথ থেকে কঠোন ভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।এলডিপি, সোস্যাল এক্টিভিস্ট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা এনসিটিতে যোগদান করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ বছরের সংগ্রামী পথচলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

৬৮ হাজার গ্রাম, ৫৬ হাজার বর্গমাইল মানচিত্রের বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল গৌরবময়” সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে ইতিহাসের পাতায়’ অংশীদারিত্বে সংগ্রামী ইতিহাস। ১৯৮০ সালের ১৯ আগস্ট’ কাজী সিরাজ প্রকাশ সাংবাদিক সিরাজকে আহ্বায়ক করে ২৩ সদস্যের বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম কমিটি গঠন এবং পরবর্তী দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৮৫ সালের- ১৯ আগস্ট’ কাজী আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি এস এম জিলানী এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান প্রতিমন্ত্রী নেতৃত্বে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সহ -বিগত দিনে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে” নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ইতিহাসের

এক ভয়ানক অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে কঠিন ‘ক্রান্তিকাল দুঃসময় পার করেছিলাম দীর্ঘ ১৭টি বছর। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলীয়ান মামলার স্তুুপের নিচে নিষ্পেষিত ছিলেন দেশনেত্রী সদ্য প্রয়াত মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, স্বৈরাচারী মুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জবাবদিহিতামূলক, গণতান্ত্রিক সরকারের বৈষম্যহীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সফল

সভাপতি ও ছাত্রদলের সাবেক সোনালী ফসল মরহুম শফিউল বারী বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, আমি চট্টগ্রামের সাজ্জাদ হোসেন খাঁনসহ লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর জীবন। বহু নেতৃবৃন্দ দূর্বিসহ জীবনযাপন করতে হয়েছে জেলহাজতে। প্রতিনিয়ত স্বৈরাচারিনী পালিয়ে যাওয়া’ হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া তৎকালীন সময়ে ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রশিক্ষিত প্রোডাকশন” জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শতশত সৈনিকরা।

তারপরও দেশের সার্বভৌমত্বের কথা চিন্তা করে প্রিয় মাতৃভূমির দিকে তাকিয়ে সত্যনিষ্ঠ কর্তব্যপরায়ণ যে কেউ বলবে.. সাবাস বাংলাদেশ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার, তবুও মাথা নোঁওয়াবার নয়। আর এই যে মাথা না নোঁওয়ানোর শিক্ষা’ এই শিক্ষাই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দিয়ে গেছেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা’ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান “বীর উত্তম। আজ এই সুন্দর গণতন্ত্রিক একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে করবো কাজ গড়বো দেশ- সাবার আগে’ বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শহীদ জিয়ার উত্তরসূরী- বৈষম্যহীন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রাণ’ তারেক রহমান। পিতার নীতি করছে লালন- দেশের জন্য শহীদ জিয়ার সুখ ছিল মন’ মাটি মানুষের দুঃখ বুঝতে” হেঁটেছেন জিয়া মেঘ পথ- দোল খাওয়া ধানের শীষে’ জিয়ার স্বপ্ন আছে মিশে। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এ মহানায়কের নাম। তিনি আমাদের আদর্শ, তিনি আমাদের পাথেয়। তাঁরই আদর্শের পতাকাতলে আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকবো, ঐক্যবদ্ধ সংগঠনে, ঐক্যবদ্ধ দেশ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

আজকের এই দিনে কেন্দ্রীয় কমিটি ও দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা, থানা, ওয়ার্ড, ইউনিটের এবং বিশেষ করে আমার বন্দর নগরী চট্টগ্রাম মহানগরের প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক মিলে ৪৭ টি ওয়ার্ড, ১৫ থানার সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণকে জানাচ্ছি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাণঢালা জিয়ায়ী শুভেচ্ছা। লেখক- আহ্বায়ক কমিটি, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, চট্টগ্রাম মহানগর, সহ-প্রচার সম্পাদক-জিয়া স্মৃতি পাঠাগার চট্টগ্রাম।

সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমানের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সারাদেশে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিরসনে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ