জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে: আবু সুফিয়ান।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পদ পদবী নয়, দলের আদর্শ ধারণ করে জনগণের সেবাই প্রকৃত রাজনীতি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, পদ পদবী বড় বিষয় নয়, দলের আদর্শ ধারণ করে জনগণের পাশে থাকাই প্রকৃত রাজনীতি। আজকে এখানে কারো পদবী আছে, কারো নেই, এটা বড় কথা নয়। আমরা শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। এই দলকে ভালোবেসেই আমরা রাজপথে থেকেছি। হতাশ না হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।তিনি শুক্রবার (৮ মে) বিকালে নগরীর লাভ লেইনস্থ স্বরনিকা কমিউনিটি সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ৯ আসন বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম ৯ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, জাহাঙ্গীর আলম, এম এ সবুর।

ডা. শাহাদাত হোসেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মনের মধ্যে হতাশা রাখবেন না। হতাশা মানুষকে দুর্বল করে দেয়। দল ক্ষমতায় এসেছে মাত্র দুই মাস হয়েছে। ধৈর্য ধরতে হবে।তিনি বলেন, অনেকে সুবিধার জন্য একসময় আওয়ামী লীগ, আবার বিএনপি কিংবা অন্য দলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসব সুবিধাবাদীদের থেকে দূরে থাকতে হবে। নৈতিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, যারা চাঁদাবাজি করবে, সন্ত্রাস করবে কিংবা দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন, জেল জুলুম সহ্য করেও দল ত্যাগ করেননি। সেই ত্যাগের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নগরে চলমান খাল নালা সংস্কার ও পরিষ্কার কার্যক্রমের কারণে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে। তবে এই কাজের সুফল আগামী ছয় মাসের মধ্যে নগরবাসী পাবে। ইনশাআল্লাহ, এবার চট্টগ্রাম শহরের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা কমে যাবে।তিনি আরও বলেন, গত বছর মানুষ জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রামের আংশিক সুফল দেখেছে। এবার আরও বড় পরিবর্তন আসবে। এজন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রতিটি ইউনিটকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে টিম গঠন করে কোথাও ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে কিনা তা মনিটরিং করতে হবে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধেও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। তবে দলের নাম ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন অপকর্মে জড়ানোর চেষ্টা করছে। এসব প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করা এখন আমাদের দায়িত্ব। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে।

আবু সুফিয়ান বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি দলের নাম ব্যবহার করে প্রবাসীদের জমিতে ঘর নির্মাণের সময় জোরপূর্বক ইট বালু সরবরাহের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারেক রহমান যতদিন দলের দায়িত্বে থাকবেন, ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশাজনক স্ট্যাটাস না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও ঐক্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

বক্তব্যে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোরবানির আগে ওয়ার্ডভিত্তিক অসচ্ছল সাধারণ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে। এই সহায়তা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ করতে হবে। দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও মানুষের কল্যাণে সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এতে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মোবিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এম এ হান্নান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, একে খান, মাহবুব রানা, ইসমাইল বালি, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মান্নান, শাহেদ বক্স, ইয়াসিন চৌধুরী আসু, শাহ আলম, হাজী মোহাম্মদ বেলাল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ তৈয়ব, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, বাকলিয়া থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আই চৌধুরী মামুন, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আনাস সহ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিববৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নোয়াখালীতে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বাড়ি দখল ও হামলার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে নিজের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্যা নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের বসতবাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা।

ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার দাবি, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। বাড়িটির নাম আজিজ টাওয়ার।

লিখিত বক্তব্যে কাজী আজিজ অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন। পরে তিনি আরো দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

কাজী আজিজ বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুর নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। পরে বাড়িটির একতলা ইউনিট দখল করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেলে তিনি পুনরায় বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, ছেলেরা এবং বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও বাড়িটিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। এ সময় তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় বাড়িটি দখল করা হয়।

কাজী আজিজের অভিযোগ, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাঁদের।

কাজী আজিজ উল্যা তার বসতবাড়ি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মতিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

নোয়াখালীতে দেশীয় বন্দুকসহ অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ মো.সাইফুল ইসলাম ওরফে শাকের (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, বন্দুকের বিভিন্ন অংশ এবং অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আকরাম উদ্দিন হাজী বাড়ির একটি কাচারি ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম দেওটি ইউনিয়নের আকরাম উদ্দিন হাজী বাড়ির মুমিন উল্লার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওসমান গনির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই কাচারিঘরে অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্র তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।

পরে তার কাচারিঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, বন্দুকের কাঠের বাট, লোহার বাট ও বডির বিভিন্ন অংশ, ট্রিগার, বোল্ট এবং এসএস স্টিলের আটটি ছোট-বড় অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি প্লাস, তারসহ একটি গ্রাইন্ডিং মেশিন ও তিনটি রেত উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন আরও বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ