ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের ১৭ তম ব্যাচের নবীন বরণ

দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অপটোমেট্রিস্ট নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের ১৭ তম ব্যাচের নবীন বরণ অদ্য ২১ মে,২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)’র ইমরান সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (চমেবি)’র অধীনে চক্ষু হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও)’র উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আলীম রিফাতের কোরআন তেলাওয়াত ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিপান্বিতা দেবীর শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠের মাধ্যমে সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সিইআইটিসি’র উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বয় থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকবৃন্দের তদারকিতে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনের আলো জ্বালাতে পারে।

সারাদেশে চক্ষু সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে দক্ষ অপটোমেট্রিস্ট ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, বিশ্বে অপটোমেট্রি বহুল প্রচলিত নাম হলেও আমাদের দেশে এটি একেবারে নতুন। একজন চিকিৎসকের সাথে চারজন অপটোমেট্রিস্ট থাকার কথা থাকলেও দেশে তার সংখ্যা একেবারে সীমিত। তাই বছরে ৫০০ অপটোমেট্রিস্ট তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে নিজেকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ অপটোমেট্রিস্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাষ্টি ডা.কিউ.এম.অহিদুল আলম বলেন, মনোযোগী, মেধা শ্রম থাকলে সব কিছুতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এদেশে যে পরিমাণ চক্ষু চিকিৎসক রয়েছে সেই তুলনায় অপটোমেট্রিস্ট নেই বললেই চলে। তিনি এখান থেকে উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে অপটোমেট্রিস্টরা যাতে সারাদেশে এমনকী বহিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অপটোমেট্রি কোর্স শেষ করে তোমরা দেশের বাহিরে গিয়ে মাষ্টার্সও শেষ করতে পারবে এটাই আমার বিশ্বাস। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনার পাশাপাশি উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

আইসিও’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা.মো.মনিরুজ্জামান ওসমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আইসিও’র সহকারী অধ্যাপক ও কোর্স কোডিনেটর (অপ্টোমেট্রি) জুয়েল দাশ গুপ্ত। অনুষ্ঠানে ৫ জন শিক্ষার্থী সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের তরুণ-তরুণী শিরোনামে কবিতাটি আবৃতি করেন ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জহুরা ও ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহিন হাসান।

দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ট্রেজারার রেজওয়ান শহিদী, মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন, চীফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, আইসিও’র অধ্যাপক ডা. জেসমিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোমা রানী রায়। বক্তব্য রাখেন, অভিভাবক আবদুল হাকিম রানা, নবীণ শিক্ষার্থী আসমা উল হুসনা তানিসা।

আইসিও’র অপটোমেট্রিস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার মোশরাফাতুল জান্নাত আঁখি ও জান্নাতুল ফেরদৌসের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের নবীন ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে বরণের পাশাপাশি ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের চুড়ান্ত পরিক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখা ১৪ জন শিক্ষার্থীকে নগদ টাকা বৃত্তি ও শিক্ষা সনদ প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন স্যারের প্রচেষ্টায় এখানে অপটোমেট্রি গ্রেজুয়েশন কোর্স অনেক বছর আগে শুরু হয়েছে। একমাত্র এই চক্ষু হাসপাতালে দেশের প্রথম এই কোর্সটি চালুর পর থেকে ক্রমান্বয়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের মত তিনি উন্নয়নশীল দেশে চক্ষু চিকিৎসা সেবায় অপটোমেট্রিস্টদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

উপস্থিত ছিলেন, সহকারী অধ্যাপক শেখ তামিমা হাসান, প্রভাষক জান্নাতুন নূর, প্রভাষক শ্রী প্রণয় রায়, প্রভাষক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস খান, টিচিং এসিসট্যান্ট নিশিতা আফরিন, অপটোমেট্রিস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার মো. মাঈন উদ্দিন খান ও সনি দাস, সিনিয়র রিসার্স অফিসার তানজিলা সুলতানা, আইসিও’র সহকারী ব্যবস্থাপক (ফিনান্স) মো. জসিম উদ্দিন, সিনিয়র এডমিন অফিসার মো. সাইফুর রহমানসহ আইসিও’র সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নোয়াখালীতে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বাড়ি দখল ও হামলার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে নিজের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্যা নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের বসতবাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা।

ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার দাবি, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। বাড়িটির নাম আজিজ টাওয়ার।

লিখিত বক্তব্যে কাজী আজিজ অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন। পরে তিনি আরো দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

কাজী আজিজ বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুর নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। পরে বাড়িটির একতলা ইউনিট দখল করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেলে তিনি পুনরায় বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, ছেলেরা এবং বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও বাড়িটিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। এ সময় তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় বাড়িটি দখল করা হয়।

কাজী আজিজের অভিযোগ, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাঁদের।

কাজী আজিজ উল্যা তার বসতবাড়ি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মতিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

নোয়াখালীতে দেশীয় বন্দুকসহ অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ মো.সাইফুল ইসলাম ওরফে শাকের (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, বন্দুকের বিভিন্ন অংশ এবং অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আকরাম উদ্দিন হাজী বাড়ির একটি কাচারি ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম দেওটি ইউনিয়নের আকরাম উদ্দিন হাজী বাড়ির মুমিন উল্লার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওসমান গনির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই কাচারিঘরে অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্র তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।

পরে তার কাচারিঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, বন্দুকের কাঠের বাট, লোহার বাট ও বডির বিভিন্ন অংশ, ট্রিগার, বোল্ট এবং এসএস স্টিলের আটটি ছোট-বড় অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি প্লাস, তারসহ একটি গ্রাইন্ডিং মেশিন ও তিনটি রেত উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন আরও বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ