চট্টগ্রামে মা-মেয়ে হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে আসামি একজন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা মামলায় গ্রেফতার তেজপ্রিয় বড়ুয়া রিমনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ২২ জনকে। ঋণের টাকা নিয়ে মতবিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের আরেকটি নজির সৃষ্টি হয়েছে। আনোয়ারায় এই মা-মেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত মাত্র ১০ দিনে শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এর আগে নগরীর বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলা মাত্র ১৩ দিনে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিয়েছিল পুলিশ।

আনোয়ারা থানার ওসি মোহাম্মদ জুনায়েত চৌধুরী জানালেন, গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম আদালতে জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জুয়েল অভিযোগপত্র জমা দেন।
এর আগে গত ১৩ জুন আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের পূর্ব কন্যারা গ্রামের বড়ুয়াপাড়ায় ছুরি মেরে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত হয় এনির ছেলে পিয়াস বড়ুয়া (৫)। ঘটনার সময় এনির স্বামী সুজন বড়ুয়া কর্মস্থলে ছিলেন। নগরীর খাতুনগঞ্জে একটি ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত তিনি।
সুজনের বাড়ি ও আসামি তেজপ্রিয়র বাড়ি পাশাপাশি। দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। ঘটনার পরদিন ১৪ জুন রাতে তেজপ্রিয়কে পুলিশ পটিয়া থেকে গ্রেফতার করে। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য, আসামির স্বীকারোক্তি ও নিহত এনি বড়ুয়ার মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ভিডিও, ময়নাতদন্ত ও

মেডিকেল প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে৷অভিযোগপত্রে হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অটোরিকশা কেনার জন্য সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে সুদে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তেজপ্রিয়। ওই ঋণের বিপরীতে স্বাক্ষর করা একটি স্ট্যাম্প এনি বড়ুয়ার কাছে সংরক্ষিত ছিল। ঋণ পরিশোধ নিয়ে সুজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
এর জেরে স্ট্যাম্পটি এনির কাছ থেকে নিয়ে ঋণের প্রমাণ নষ্ট করতে চেয়েছিলেন তেজপ্রিয়। স্ট্যাম্প নিতে বাধা দেওয়ায় এনি ও প্রিয়ন্তীকে হত্যা করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে মিলল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে সদরঘাট নৌ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নগরের নতুন ফিশারিঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহ থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। মরদেহটি কীভাবে নদীতে এসেছে এবং ওই নারীর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার পুলিশ জানায়, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা মরদেহটি নদীর তীরে আটকে ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব বলেন, উদ্ধার হওয়া নারী মধ্যবয়সি। এখন পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার বাম পা ভাঙা এবং গোড়ালিতে আঘাতের চিহ্নের মতো দেখা গেছে।

কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে আতংকে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিদিন ঘটছে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা। এসব কিশোর গ্যাংয়ের কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছেন। গত ছয় মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে উঠতি বয়সী এসব কিশোর। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য মোকাবিলা করতে হবে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে।
বিশেষ করে জেলার হাটহাজারীতে কিশোর গ্যাংয়ের কারণে মানুিষ আতংকে রয়েছে।

এখানকার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকদলের সদস্য বাইক ব্যাবসায়ী ইমন( ৩০) কে সম্প্রতি অস্ত্র মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতবর নির্যাতন করে মোবাইল বাইক ও দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। ঠিক দুইদিন পর কিশোর গ্যাং লিডার আরাফাত এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে সংঘর্ষের জেরে গুলিবিদ্ধ হয় আরাফাত। এখানকার কিশোর গ্যাং লিডার এর মধ্যম বুড়িশ্চর ফতেহ মো. তালুকদার বাড়ির আরাফাত প্রকাশ ডন আরাফাত। স্থানীয়রা জানান, সে চুরি চিন্তায় মাদক কারবারি সাথে যুক্ত। স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ ও তাদের ক্ষোভ তুলে ধরেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং বুড়িশ্চর আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলাল উদ্দিন বিজয়ের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি, মাদক সংশ্লিষ্টতা, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং এলাকার তরুণদের বিপথে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এলাকায় ‘আরডিএক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের কথাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই গোষ্ঠীর কিছু সদস্য মাদক, মারামারি, ভয়ভীতি, হুমকি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত।

তাদের কারণে বহু পরিবার আতঙ্কে রয়েছে এবং অনেক তরুণ পড়াশোনা ছেড়ে বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। এদের অপরাধের কারণে একটি পুরো এলাকার শান্তি নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ভয় ও অনিশ্চয়তা।স্থানীয়দের মতে এখনই সময় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে দাঁড়ানোর। নীরবতা অপরাধীদের আরও সাহসী করে।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ