ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রির অভিযোগ পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারের অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প। কিন্তু পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘর বিক্রি, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত রাখা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত উপকারভোগীদের পরিবর্তে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় অনেকেই পরে ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মোট ১০১টি আশ্রয়ণ ঘর নির্মাণ করা হয়। এসব ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা। উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চর-ভাঙ্গুড়ায় ৪১টি, চর-ভাঙ্গুড়া পূর্বপাড়ায় ২১টি, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের লামকান গ্রামে ৭টি, মণ্ডতোষ ইউনিয়নের টুনিপাড়ায় ৪টি, দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে ৫টি, পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে ৩টি, খানমরিচ ইউনিয়নে ৫টি এবং ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় ১৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নির্মিত ১০১টি ঘরের মধ্যে অন্তত ৩৫টি ঘর ৮০ হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে এসব ঘরের অনেকগুলোতেই বসবাস করছেন নতুন মালিক কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ, চর-ভাঙ্গুড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৪ নম্বর ঘরের জাহানারা, ৬৫ নম্বর ঘরের আনেছা খাতুন, ৬৬ নম্বর ঘরের রতনের মা, ৯৩ নম্বর ঘরের হোসেন চাঁদ, ৯৫ নম্বর ঘরের মজনুর প্রামাণিক, ৭০ নম্বর ঘরের সোহাগ হোসেন, ৭৭ নম্বর ঘরের জোহরা খাতুন, ১৭ নম্বর ঘরের আনোয়ারা খাতুন, ১৫ নম্বর ঘরের হাসি খাতুন, সবুরা খাতুনসহ অন্তত ৩৫ জন উপকারভোগী তাদের বরাদ্দকৃত ঘর বিক্রি করেছেন। প্রতিটি ঘর ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।এলাকাবাসীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীনদের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি কিংবা অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে অনেক সচ্ছল ব্যক্তিকেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ফলে তারা পরবর্তীতে ঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রকল্পের প্রায় ২৫টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এমন একাধিক ঘর দেখা গেছে, যেখানে নিয়মিত বসবাসের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এসব ঘরে নিয়মিত জুয়া খেলা, মাদক সেবন এবং রাতের আঁধারে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আলম বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।ঘর বিক্রি, পরিত্যক্ত থাকা এবং অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা এর সুফল পান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে পারিবারিক কলহে স্বামীকে হত্যা, ১৬ বছর পর স্ত্রীর যাবজ্জীবন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের লাভলেইন এলাকায় ১৬ বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী হেলাল উদ্দিনকে হত্যার মামলায় স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১ এর বিচারক নিষ্কৃতি হাগিদক এই রায় দেন। একই সঙ্গে আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।দণ্ডপ্রাপ্ত হোসনে আরা বেগম মহানগরের কোতোয়ালী থানাধীন লাভলেইন ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা। নিহত হেলাল উদ্দিন তাঁর স্বামী।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ জানান, আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে স্বামী হেলাল উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হোসনে আরা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।তিনি আরও জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৯ মে রাত ১টার দিকে নগরের এনায়েত বাজার বাটালী রোডের জাফর সওদাগরের কলোনিতে ভাড়া বাসায় হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক কলহ হয়। একপর্যায়ে হোসনে আরা বেগম অস্ত্র দিয়ে স্বামীর মাথায় আঘাত করেন। এতে হেলাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়।

পরে ঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে আত্মগোপন করেন হোসনে আরা বেগম। একই দিন দুপুরে খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে। তার মুখ, ডান পা ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাহাবুদ্দিন খান বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০১০ সালের ১৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

খেজুরে তেল মেখে প্যাকেটজাত চট্টগ্রামের ফলমণ্ডিতে অভিযানে জরিমানা গুনল ৫ প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বাজার তদারকি অভিযানে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।অভিযানে ফলমন্ডিতে খেজুরেৃ তেল মেখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্যাকেটজাত করার চিত্র দেখতে পায়। এছাড়া

মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণে অনিয়ম ও বাজারজাত এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণের দায়ে এসব জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহর নেতৃত্বে নগরীর ফলমন্ডি, স্টেশন রোড ও দেওয়ানহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় মেসার্স আল্লাহওয়ালা এন্টারপ্রাইজকে ২ হাজার টাকা, মেসার্স এন্ড ব্রাদার্সকে ২ হাজার টাকা এবং মেসার্স রাউজান এন্টারপ্রাইজকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এ ছাড়া মোড়কজাত বিধি অনুসরণ না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেজুর রেখে তেল মিশিয়ে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করার দায়ে তুহিন এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, দেওয়ানহাট এলাকার তায়েফ রেস্তোরাঁয় রান্নায় ক্ষতিকর উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা কাশ্মীরি মরিচ ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণের দায়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ জানান, বাজারে পণ্যের সঠিক মূল্য প্রদর্শন, খাদ্যপণ্যের মান বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়।

এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ