বসতবাড়ির বাহিরে গাছতলায় ৮০ বছরের বৃদ্ধ মায়ের আশ্রয়, সন্তানের ঘরে ঠাঁই নাই

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রায় ৮০ বৎসর বয়সী এক বৃদ্ধা ‘মা’ এর বসতবাড়ির বাহিরে গাছতলায় মানবেতর জীবনযাপনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃদ্ধার অভিযোগ, তার আপন ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি আর ছেলে ও পুত্রবধূর’র সাথে বাড়িতে থাকতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মোছা. হালিমা খাতুন, পিতা: মৃত আলিমুদ্দিন মোল্লা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি নিজের সন্তান কে লালন-পালন করে বড় করেছেন এবং ছেলের সংসার গড়ে দিতে ঘর নির্মাণ ও বিয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

বর্তমানে তিনি তার ভাইদের বাড়ির সামনে একটি গাছের নিচে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হেদায়েতুল্লাহ মাস্টার বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার(ভূমি) মহোদয় কে জানানো হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে যাব। এসিল্যান্ড মহোদয়ও সেখানে আসবেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


অভিযুক্ত ছেলে মো. রবিউল করিম কে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা আমার শাশুড়িকে বাড়ি থেকে বের করে দিইনি। তিনি নিজ ইচ্ছায় চলে গেছেন। তাকে ফিরিয়ে আনতে আমি কয়েকবার গিয়েছি, কিন্তু তিনি আসতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, বাবার সম্পত্তিতে যে অংশ পাবেন, সেখানে একটি ছাপড়া তুলে থাকবেন।”

বৃদ্ধার ভাই ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির দাবি, প্রায় এক মাস ধরে তারা তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি সেখানে থাকতে বা খাবার গ্রহণ করতে রাজি হননি। তার একমাত্র দাবি, বাবার সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশে একটি ছোট ঘর তুলে বসবাস করবেন।

বৃদ্ধা হালিমা খাতুনও একই কথা জানান। তিনি বলেন, তিনি আর ছেলের বাড়িতে ফিরে যেতে চান না; বাবার সম্পত্তিতে নিজের জায়গায় থাকতেই চান।উল্লেখ্য, ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে গাড়িচালক হত্যা মামলায় তিন জনের ফাঁসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী থানার গাড়িচালক মো. সজিব হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় দেন। একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মো. নুরুল আমিন, কুমিল্লার দেবিদ্বারের মো. শাহজাহান এবং ফেনী সদর উপজেলার মো. নুরুল আলম টুটুল। তাদের মধ্যে টুটুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।অপর দুই আসামি পলাতক।

চট্টগ্রাম আদালত সূত্র জানা গেছে, পাহাড়তলী থানাধীন টোল রোডের পূর্ব পাশে শিল্প পুলিশের অধিগ্রহণ করা জমির পশ্চিম পাশে সেকান্দরের কৃষিজমি থেকে ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে লাশটি নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা মো. সজিবের বলে শনাক্ত করা হয়। সজিব পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জেলায় মালামাল পরিবহনের কাজ করতেন। ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। ২৭ অক্টোবর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে গাড়িচালক মো. সজিব হত্যা মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো.নুরুল আমিন, মো.শাহজাহান ও মো.নুরুল আলম টুটুলকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি নুরুল আলম টুটুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে নুরুল আলম টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পলাতক নুরুল আমিন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

শাহ আমানতে দুবাইফেরত ফ্লাইটে মিলল অর্ধ কোটি টাকার সিগারেট-আইফোন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট ও আইফোনের চালান জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে পরিচালিত অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল। তিনি বলেন, দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের তিন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৭৮২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন পাওয়া যায়। এ ছাড়া ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

তিন যাত্রীর বিষয়ে ইব্রাহীম খলিল বলেন, তাদের ব্যাগেজ থেকে পণ্যগুলো জব্দ করা হয়েছে। পরে বিমানবন্দরের কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও কাস্টমস শাখা তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বিমানের দুবাইফেরত বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিন যাত্রী হলেন মঈনুল আবদিন, আব্দুল মান্নান ও নুরুল আলম রিয়াদ। মঈনুল আবদিন ও আব্দুল মান্নানের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায়। নুরুল আলম রিয়াদের বাড়ি ফেনী সদর এলাকায়।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল আরো বলেন, তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৭৮২ কার্টন বিদেশি সিগারেট পাওয়া যায়। পাশাপাশি ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে সিগারেটের পরিমাণ ১ হাজার ৮০২ কার্টন। এ ছাড়া ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক মূল্য ৩৬ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং আইফোনের মূল্য ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা।জব্দ করা পণ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হবে বলে জানান বিমানবন্দরের এই কর্মকর্তা।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ