পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। পাহাড়ধসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করেন। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বর্ষাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। নগরবাসীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এ সময় মেয়র নগরবাসীর প্রতি পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নির্মাণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজনীতির মূল লক্ষ্য হোক জনকল্যাণ ও মানুষের সেবা: দীপ্তি-শাহেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, আজ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই গৌরবময় দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।

একই সঙ্গে যুবদলের সকল শহীদ নেতাকর্মীদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। তিনি আজ ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর স্মৃতি বিজড়িত ষোলশহর ২নং গেইটস্থ ঐতিহাসিক বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ পূর্বক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ বছরের পথচলা শুধু একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি তারুণ্যের প্রত্যয়, সাংগঠনিক ঐক্য, নেতৃত্বের বিকাশ এবং দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রতীক। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যুবসমাজের চ্যালেঞ্জও পরিবর্তিত হচ্ছে। বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সংকট, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তরুণদের দক্ষতা বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুবদলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, রাজনীতি শুধু স্লোগান কিংবা মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করা। তিনি আরো বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুবদলের নেতাকর্মীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ। দেশপ্রেম, ঐক্য, সততা ও জনকল্যাণের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুবদল অঙ্গীকারবদ্ধ। যুব-ঐক্য-প্রগতির মূলমন্ত্রে জাতীয়তাবাদী যুবদল এগিয়ে যাক আপন মহিমায়।

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, সহ-সভাপতি ফজলুল হক সুমন, নাসির উদ্দীন চৌধুরী নাসিম, মোহাম্মদ আলী সাকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশাহ, রাজন খাঁন, তানভীর মল্লিক, জমির উদ্দিন আহমেদ মানিক, মহিউদ্দিন মুকুল, সহ- সম্পাদক আতিকুর রহমান, মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম জহির, জিয়াউল হক মিন্টু, হামিদুল হক চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, মোহাম্মদ ইদ্রিস, সদস্য প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, থানা যুবদলের আহবায়ক ইসমাইল হোসেন লেদু, সদস্য সচিব মোহাম্মদ হাসান ও জাবেদ হোসেনসহ থানা ও ওয়ার্ড যুবদল নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ভিড়তে পারবে বড় আকারের জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা-উত্তর হালিশহর এলাকার সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে আড়াই হাজার একর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালে টার্মিনাল-১ এর অপারেশন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এই বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের যে অবকাঠামো রয়েছে তার চেয়েও বড় হবে এই টার্মিনাল। ভিড়তে পারবে আরও বড় আকারের জাহাজ (মাদার ভেসেল)। চ্যানেলের গভীরতা কম হওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আনা-নেওয়া করতে হয় জোয়ারের সময়।

কিন্তু বে-টার্মিনালসংলগ্ন চ্যানেলের গভীরতা বেশি থাকার কারণে ভাটার সময়ও জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এটি পুরোদমে চালু হলে আগামী একশ’ বছর আর নতুন কোনো টার্মিনালের চিন্তা করতে হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, মেগা প্রকল্পটির প্রস্তাবিত তিনটি টার্মিনালের একটি নির্মাণ ও পরিচালনায় শিগগিরই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে চলছে থ্রি-ডি সিমুলেশনের (ডিজিটাল মডেল) কাজ। সিমুলেশন শেষ হলে শুরু হবে প্রথম ধাপ অর্থাৎ, ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় ব্রেক ওয়াটার, অ্যাক্সেস নেভিগেশন চ্যানেল ও মূল অবকাঠামো নির্মাণপ্রক্রিয়া।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের কাজটি বন্দর নিজেই করবে। টার্মিনাল নির্মাণ ও হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম সংযোজন করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট সময় টার্মিনালটি পরিচালনার সুযোগ পাবে। এতে প্রয়োজন হবে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের।

এক্ষেত্রে সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে বে-টার্মিনালে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বন্দর পরিচালনাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পে পৃথক তিনটি টার্মিনাল থাকবে। এর মধ্যে একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল অর্থাৎ এখানে কনটেইনার ও খোলা পণ্য খালাস হবে।

অন্য দুটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে বে-টার্মিনাল-১ নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য সিঙ্গাপুরের পিএসএ’র সঙ্গে বোঝাপড়া বা এমওইউ হয়েছে। তাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে সম্প্রতি চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন নৌপরবিহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অন্য দুটি টার্মিনাল নির্মাণেও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বে-টার্মিনালের থ্রি-ডি সিমুলেশনের কাজ চলছে। আশা করা যায়, অল্পসময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করা হবে এবং চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তিনি জানান, নেভিগেশন চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পতেঙ্গা-উত্তর হালিশহর এলাকার সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে আড়াই হাজার একর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বে-টার্মিনালের আওতায় সাগরে ৮০০ থেকে ১২০০ মিটার প্রস্থের চ্যানেল রয়েছে। যা দিয়ে ১২ মিটার ড্রাফট ও ২৮০ মিটার লম্বা জাহাজ ভিড়তে পারবে। একসঙ্গে ছয় হাজার কনটেইনার বহন করতে পারে, এমন জাহাজও আসবে এই টার্মিনালে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ মিটার ড্রাফট ও ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ৩৪ লাখ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে থাকে। বে-টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে প্রতিবছর ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টিইউউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ