বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে

চট্টগ্রামে উদ্যোক্তাদের বেস্ট এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ সম্মাননা প্রদান

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬: সেলিব্রেটিং বিজনেস লিডারশিপ’। উদ্যোক্তা, সমাজসেবা, ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি, নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বিশিষ্ট ব্যক্তি, উদ্যোক্তা ও গুণীজনদের সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়াম হলে এ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জেনিথ এমপাওয়ার (Zenith Empower)।সহযোগিতায় “রিলায়েন্স এডুকেশন” বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভিসা সহায়তায় নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় world wide soft technology আয়োজনে সাপোর্টিং হিসেবে ছিল ক্রিয়েটিভ ডিজিটাল আইটি (Creative Digital IT) এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল মিডিয়াকাস্ট২৪ (MediaCast24)।সব সময় সার্বিক সহযোগিতায় নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন; সব সময় zenith empower পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সহযোগিতায় জিএমআইটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ‘এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের (বিপিএম)।শেঠ গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. সোলায়মান আলম শেঠ; চট্টগ্রাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডি সনাল এসপি আবু সালাম চৌধুরী।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিড ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান ও জিএমআইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কামরুল কায়েস চৌধুরী; জাহিদুল ইসলাম, ফুলকলি গ্রুপ অবMediaCast24)। ইন্ডাস্ট্রিজের ডিরেক্টর এম এ সবুর; ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট, চট্টগ্রামের সাবেক সেক্রেটারি ইঞ্জি. এস.এম শহিদুল আলম; নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন;
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সিং, আইটি, ফ্যাশন, হস্তশিল্প, বিউটি ও লাইফস্টাইল, ফটোগ্রাফি, কৃষি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক উদ্যোগে অবদান রাখায় একাধিক ব্যক্তি ও উদ্যোক্তাকে অ্যাওয়ার্ড ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।Founder of Girl’s Priority তাসনুবা আনোয়ার অর্জন করেন Best Organizer Award। আইটি সাপোর্ট ও প্রযুক্তিখাতে অবদানের জন্য সম্মাননা পান ক্রিয়েটিভ ডিজিটাল আইটির সিইও মোঃ জাহিদুল ইসলাম।

অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সফট টেকনোলজির সিইও ইজারুল হক ইসু ফ্রিল্যান্সিং ও কর্মসংস্থান তৈরিতে অবদানের জন্য সম্মাননা লাভ করেন।
এ ছাড়া সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন-অ্যাডভোকেট মো. বরকত উল্লাহ খান, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ; মোহাম্মদ নূর, প্রেসিডেন্ট, এইচপিএফ; মো. আরিফ, মেম্বার সেক্রেটারি, জেনিথ এমপাওয়ার; জাহিদুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, চেন্নাই এক্সপ্রেস; মেহরাজ করিম রাজিব, ফাউন্ডার, এমআরকে; এবং লেখক ও শিক্ষাবিদ জয় দাস।সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য সম্মাননা পান মাহবুবুল আলম জনি, মো. মাহমুদ রেজা সৌরভ ও মর্জিনা সুলতানা মৌসুমী। সাবরিনা আফরোজা অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ সমাজকর্মী সম্মাননা।

এ ছাড়া কামাল হোসেন ও হানিফ মিসকাত, বায়েজিদ ফকির (স্বত্বাধিকারী, ফরায়েজী স্টোর), লিটন দাস লিটু (ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার), মো. রাকিব ও মো. সৌরভ (এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড), মো. মাহবুব (রাইজিং স্টার) এবং এমএইচ জয় দাস (উদ্যোক্তা) সম্মাননা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে আরও সম্মানিত হন নুসরাত জাহান চৌধুরী (আর্টিস্টিক পিক), মিফতাহুল জান্নাত তুপা (স্বত্বাধিকারী, মিফতা হ্যান্ডক্র্যাফট), শিরিন আক্তার (স্বত্বাধিকারী, বধূয়া বিউটি পার্লার), স্নেহা রায় (স্বত্বাধিকারী, সাজের কাব্য) এবং রাকিব হাসান (ফটোগ্রাফার, ওয়েডিং টাইমলাইন)।

কৃষি, খাদ্য, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে অবদানের জন্য সম্মাননা পান গোলাম রব্বানি ইমন (আরআর অ্যাগ্রো), জুরাইকা আফরিন (স্বত্বাধিকারী, ওয়াসিকা গ্রিনারী), আবু তাহের (খাঁটি মধু), লিজা আক্তার শিমু (স্বত্বাধিকারী, হোমমেড কেকস বাই লিজা) এবং তুহিন (স্বত্বাধিকারী, মেহেদী আর্ট বাই তুহিন)।এ ছাড়া নওরিনা বাই তানজিনা/তানজিনা ইসলাম (কো-কর্পোরেটর), মৌসুমী (নিউ স্বপ্নপুরী গার্মেন্টস), ফেরদৌসী নারগিস (স্বত্বাধিকারী, ইভান্তি ব্লোসম অরা), মিসেস আলিফা (স্বত্বাধিকারী, আলিফা বিউটি পার্লার), সিদরাতুল মুনতাহাসির (প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, ইয়ুথ পিপল অব বাংলাদেশ) এবং পবিতা জামান মালা (স্বত্বাধিকারী, পব বিডস) সম্মাননা পান।

আয়োজকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় উদ্যোক্তা ও তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা, তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখা ব্যক্তিদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উদ্যোক্তা তৈরি শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ, সামাজিক সমস্যা সমাধান এবং তরুণ প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার ক্ষেত্রেও উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তাঁরা আরও বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তি ও উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করলে নতুন প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে এবং নিজেদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহী হবে।
উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় ‘এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’পুরস্কার প্রদান, অতিথিদের বক্তব্য এবং উদ্যোক্তা ও গুণীজনদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান জেনিথ এমপাওয়ার (Zenith Empower)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সফলভাবে সম্পন্ন হয় ‘এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬: সেলিব্রেটিং বিজনেস লিডারশিপ’।আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী, প্রযুক্তিবিদ, ফ্রিল্যান্সার ও তরুণ নেতৃত্বকে উৎসাহিত করা হবে এবং তাঁদের অবদান আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বোয়ালখালী থানা পুলিশের অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ নুরুল আলমসহ পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— বোয়ালখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁন্দারপাড়ার বাসিন্দা মো. হোসেন (২৪), পোপাদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইমন (১৯) এবং একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুস সোবহান ওরফে ফোরকান (৫৫)।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মো. হোসেন বোয়ালখালী পৌর যুবলীগের নেতা, ইমন পোপাদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সেক্রেটারি এবং আব্দুস সোবহান ওরফে ফোরকান বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত।

তাঁদের মধ্যে মো. হোসেন বোয়ালখালী থানার মামলা নম্বর ০৭-এর এজাহারনামীয় আসামি। মামলাটি ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(১), ৬(২), ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। অপর দুজনকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।আইনগত ব্যবস্থা: গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সংশ্লিষ্ট মামলায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন।

চট্টগ্রামের রেল স্টেশনে যাত্রীদের বিক্ষোভ : ট্রেন ছাড়তে দেরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে ট্রেন ছাড়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে বিক্ষোভ করেছেন অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ঢুকে অবস্থান নেন এবং রেলকর্মীদের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা এই বিক্ষোভ করেন।

রেলওয়ে সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে না আসায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বেলা সাড়ে ১০টার দিকে একদল যাত্রী প্ল্যাটফর্মে জড়ো হয়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘রেল যাত্রীদের হয়রানি, চলবে না চলবে না’, ‘রেলওয়ের দুর্নীতি, চলবে না চলবে না’ এবং ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে যাত্রীরা সংঘবদ্ধ হয়ে স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান। তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে উপস্থিত রেলওয়ের কর্মীদের কাছে ট্রেন দেরিতে ছাড়ার কারণ জানতে চান এবং স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানান। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রেলওয়ের কর্মীরা যাত্রীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক জানান, সিগন্যালিং সমস্যার কারণে বুধবার সকাল থেকে কয়েকটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাতে এবং ছেড়ে যেতে বিলম্ব হয়েছে। পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটিও দেরিতে স্টেশনে পৌঁছায়। কানেকটিং ট্রেনের যাত্রীরা এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন, যার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।পরিস্থিতি পরে স্বাভাবিক হয় এবং বেলা ১০টা ৫৭ মিনিটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। স্টেশনে যাত্রীদের ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ