আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

কোরআন অবমাননা : আফগানিস্তানে সুইডেনের কার্যক্রম বন্ধ 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সুইডেনের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এক খৃষ্টান যুবক পুলিশের সামনে পবিত্র কোরআন শরীফের কয়েকটি পাতায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় সারাবিশ্বের মুসলিমরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এবার তালেবান সরকার আফগানিস্তানে সুইডেনের সব ধরণের কার্যকম বন্ধ ঘোষণা করেছে।

পবিত্র কোরআনে আগুন দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান প্রশাসন। এই ঘটনার বিরোধীতা করে আফগানিস্তানে সুইডেনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঈদুল আজহার দিনে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি মসজিদের বাইরে পবিত্র কোরআনে আগুন দেয় এক ইরাকি খ্রিষ্টান অভিবাসী যুবক। দেশটির আদালত তাকে কোরআন পোড়ানোর অনুমতি দেয়। এই ঘটনার পর নিন্দার ঝড় ওঠে বিশ্বে।

তালেবান প্রশাসন মঙ্গলবার বলেছে যে, গত মাসে সুইডেনের রাজধানীতে মসজিদের বাইরে কোরআন পোড়ানোর পর আফগানিস্তানে সুইডেনের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘পবিত্র কোরানের অবমাননা এবং মুসলিম বিশ্বাসের অবমাননার অনুমতি দেওয়ার পর … আফগানিস্তানে সুইডেনের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আফগানিস্তানে সুইডেনের দূতাবাস বন্ধ রয়েছে। তবে দেশটির বেসরকারি সংস্থা আফগানিস্তানের বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গ্রামীন উন্নয়নে কাজ করছে হাজার হাজার কর্মী। তালেবানের এই নির্দেশের পর এই সংস্থাগুলোর ওপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে তালেবান প্রশাসনের আদেশের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সুইডেন। এছাড়া এই আদেশের আওতায় কাদের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে সেটিও বিস্তারিত বলেনি তালেবান।

নারী কর্মীদের উপর বিধিনিষেধের কারণে আফগানিস্তানের সাহায্য খাত ইতোমধ্যেই গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন বার্ষিক মানবিক পরিকল্পনার তহবিল হ্রাস প্রস্তাব করেছে। দাতা দেশগুলো সাহায্য কমিয়ে দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইরানের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লায় নি’হ’তদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার অনুদান  দেবে চীন।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইরানের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লায় নি’হ’তদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার অনুদান  দেবে চীন।

আমিরাতে ‘আটকে পড়া’ প্রবাসীদের নিয়ে দেশের সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর: ক্ষোভে ফুঁসছেন


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ‘অতিরঞ্জিত’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ খবরে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বিশেষ করে ‘দুবাইয়ে আটকে পড়া ৩৭৮ জন প্রবাসীকে ফিরিয়ে আনলো ইউএস-বাংলা’ এমন শিরোনামের সংবাদকে প্রবাসীরা ‘নাটক’ এবং ‘স্বাভাবিক যাত্রীদের আটকে পড়া শ্রমিক’ হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন।​এই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একে অত্যন্ত বিব্রতকর ও অসম্মানজনক বলে অভিহিত করছেন।

​আরটিভি আরব আমিরাত প্রতিনিধি সাফাওয়াত উল্লাহ তার ফেসবুকে একটি নিউজ পোর্টালের ফটোকার্ড শেয়ার করে লিখেছেন, দেশের মিডিয়ায় যা প্রচার হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত। ১২ লাখের বেশি বাংলাদেশি যে দেশে থাকে, সেখানে ১৮৯ জন কোথায় আটকে পড়েছিল? নিয়মিত যাত্রীদের নিয়ে প্রথমে ভারত নাটক দেখালো, এখন আপনারা দেখাচ্ছেন। মানুষ যেখানে টিকিট না পেয়ে দেশ থেকে দুবাই আসতে পারছে না, সেখানে আপনারা ফেরার হিড়িক দেখাচ্ছেন।

​প্রবাসী মুহাম্মদ মোরশেদ বিন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, আটকা পড়া’ মানে কী? আমরা কি কোথাও বন্দি হয়ে আছি? আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটে সামান্য বিলম্ব হওয়াকে ‘আটকা পড়া’ বলে প্রচার করা সম্পূর্ণ ভুল। এ ধরনের খবরে আমাদের পরিবার-পরিজন দেশে অযথা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।

​প্রবাসী শিল্পী বঙ্গ শিমুল বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে তিনি লিখেন, ৩৭৮ জন প্রবাসীকে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে যে নিউজ করা হচ্ছে, আমার প্রশ্ন হলো এরা কোন জঙ্গলে আটকা পড়েছিল? আমরা ১২ লাখ প্রবাসী এখানে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপন করছি। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক নিউজ আমাদের দেশের ইমেজ নষ্ট করছে।

​অন্যদিকে, মাসুদ মল্লিক নামের এক প্রবাসী এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে প্রবাসীদের নিয়ে এমন ‘আদিক্ষেতা’ বন্ধের অনুরোধ জানান।

​আমিরাতের প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা মনে করেন, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার অত্যন্ত দক্ষতা ও কঠোরতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বর্তমানে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা নিয়মিতভাবে তাঁদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

​নেতারা দেশের গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কয়েকশ নিয়মিত যাত্রীকে ‘আটকে পড়া’ তকমা দিয়ে ১২ লাখ প্রবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো সাংবাদিকতার নৈতিকতা পরিপন্থী। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে প্রবাসীদের পরিবারকে আশ্বস্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ