আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সামেক হাসপাতালের ১৯টি ডায়ালাইসিস মেশিনের ১৬টি বিকল।। দুর্ভোগে সেবা।প্রার্থীরা

ইব্রাহীম হোসেন

জেলার শতাধিক কিডনী রোগী ঝুঁকিে রয়েছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি ডায়ালাইসিসের অধিকাংশ মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এতে হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটে জট বেঁধেছে রোগীদের।

গত মঙ্গলবার ১৯ মার্চ হঠাৎ করে সপ্তাহে দুই দিনের পরিবর্তে একদিন ডায়ালাইসিস করার ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন জেলার শতাধিক কিডনি রোগী। অভিযোগ উঠেছে, অদক্ষ ব্যক্তি দিয়ে মেশিন পরিচালনা করায় হাসপাতালের ১৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ৩টাও নষ্ট হওয়ার পথে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯টি যন্ত্রের মধ্যে ১৬টি বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনটি সচল মেশিন দিয়ে সপ্তাহে একদিন রোগীদের ডায়ালাইসিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের কিডনি ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা ছাড়াও আশপাশের রোগীদের এখানে ডায়ালাইসিস হচ্ছে। ইউনিটে ১৯টি যন্ত্র চালু ছিল। কিন্তু ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ইতোমধ্যে ১৯টির মধ্যে ১৬টি বিকল হয়ে পড়েছে। বাকি তিনটি দিয়ে একদিন কাজ চলছে। প্রতিদিন প্রতিটি যন্ত্রে দুই থেকে তিন জন রোগীর ডায়ালাইসিস হতো। ইউনিটে গড়ে ৩৫-৪০ জন রোগীর প্রতিদিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস হয়ে আসছিল। পর্যায়ক্রমে ৬০-৭০ জন সিরিয়ালে থাকতেন। একজন রোগীর সপ্তাহে দুই দিন করে ডায়ালাইসিস হয়। যন্ত্রগুলো বিকল হওয়ায় নিয়মিত রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে তারা পড়েছেন বিপাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডায়ালাইসিসের জন্য ২০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। এতে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা কম খরচে সেবা পান। জেলার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসছেন। কয়েক মাস আগেও ১৯টি যন্ত্রের সবগুলো চালু ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে একটি একটি করে যন্ত্র নষ্ট হতে থাকে। ফলে চাপ বাড়তে থাকে বাকি যন্ত্রগুলোর ওপর। অকেজো যন্ত্রগুলো সময়মতো মেরামত না করায় বর্তমানে তিনটি চালু আছে। তা দিয়ে তালিকাভুক্ত শতাধিক কিডনি রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গত মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বুধবার (২০ মার্চ) থেকে সপ্তাহে দুটির পরিবর্তে মাত্র একটি ডায়ালাইসিস করানো হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন ঘোষণায় পর বিপাকে পড়েন রোগীরা। বর্তমানে আতঙ্কে ভুগছেন তারা।

শ্যামনগর উপজেলার বংশিপুরের আজিজ মোড়লের ছেলে জয়নাল বলেন, মা ভিক্ষা করে আমার ডায়ালাইসিস খরচ চালান। এখন যদি এখানে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ করে দেয়, তাহলে যেকোনো সময় আমার মৃত্যু হবে। কারণ প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ডায়ালাইসিস করানোর সামর্থ্য আমার নেই।

সাতক্ষীরার সাংবাদিক জহুরুল কবীর জানান, তিনি জমি-জায়গা বিক্রি করে সাতক্ষীরা সামেক হাসাপাতালে কিডনি আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়ে আসছিলেন। ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই। কম খরচে এই হাসপাতাল থেকে ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে স্ত্রীকে কোনও রকমে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকে সপ্তাহে একবার কিডনি আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস করানো হবে। খবরটি শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন। বর্তমানে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

জহুরুল কবীর আরও বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে তিন সেশনে ১২ ঘণ্টা করে ডায়ালাইসিস করানোর কথা থাকলেও যন্ত্র বিকল এবং রোগীর চাপের কারণে দুই সেশনে চার ঘণ্টা করে সপ্তাহে আট ঘণ্টা করানো হতো। এখন হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, সপ্তাহে দুটির পরিবর্তে মাত্র একটি ডায়ালাইসিস করানো হবে। সপ্তাহে চার ঘণ্টা ডায়ালাইসিস করালে অধিকাংশ রোগী বাঁচবে না। খবরটি শুনে কেঁদেছি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক যোগদানের প্রায় দুই বছর হয়ে গেলো। যোগদানের পর থেকে এই সমস্যার কথা তাকে বারবার বলার পরও কোনও গুরুত্ব দেননি। ফলে এখন সবগুলো যন্ত্র বিকল হয়ে গেছে।

কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী রাবেয়া ও আসমা আক্তারের অভিযোগ, পরিচালককে দীর্ঘ দেড় থেকে দুই বছর ধরে যন্ত্রগুলো মেরামতের কথা বলে আসলেও তিনি ‘চেষ্টা করছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন। এতে সবগুলো যন্ত্র বিকল হয়ে গেছে। এখন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে আমাদের।

জেলা শহরের কিডনি রোগী মহিউদ্দিন, ব্রোজেন ও জয়নাল আবেদীন জানান, সপ্তাহে দুটির পরিবর্তে একটি ডায়ালাইসিস করানোর ঘোষণা দিয়ে তাদের মত আরও শতাধিক রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটের ইনচার্জ নমিতা রানী বলেন, ১৯টি মেশিনের মধ্যে একটি ভালো থাকলেও অপর দুটি মেশিনে জোড়াতালি দিয়ে চলছে রোগীদের ডায়ালাইসিস। ফলে এখন থেকে সপ্তাহে দুই অথবা তিনবার ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে সামেক হাসপাতালের পরিচালক শীতল চৌধুরী বলেন, আমাদের মোট ডায়ালাইসিস মেশিন ১৯টি। যার মধ্যে বর্তমানে তিনটি সচল আছে। নষ্ট হওয়ার কারন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অদক্ষ ব্যক্তি দিয়ে মেশিন পরিচালনা করায় মেশিন গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নষ্ট মেশিনগুলো মেরামত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। মেরামতের জন্য কয়েক দফায় টেকনিশিয়ান এসেছেন। কিন্তু খুচরা যন্ত্রাংশ না পাওয়া যাওয়ায় মেশিনগুলো ঠিক করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নষ্ট মেশিনগুলো দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ায় ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান সংগ্রহের সময় শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে আগে আসলে আগে বিক্রয় ভিত্তিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগের নিবন্ধিত কৃষকরা কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর মূল্য সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কৃষকদের পরিচয়, কৃষি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হয়েছে। সব অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে ধান গ্রহণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব হিসাবেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সরকার চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে গত ৩ মে থেকে সারাদেশে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই বিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী মৌসুমেও সরকার একইভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এতে কৃষকরা উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ