চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য দিবসের র‌্যালী স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত জরুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মহিউদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের যেমন অন্যতম মৌলিক চাহিদা তেমনি বিশ্বকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব সকলের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আগামী ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। এ লক্ষ্যে জরগণের চাহিদা পূরণে চিকিৎসক-নার্স ও সংশ্লিষ্টদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে। এ লক্ষ্যে বার্গারসহ জাঙ্ক ও ফাস্ট ফুড খাওয়া থেকে বাচ্চাদেকে রক্ষা করতে হবে। পরিহারের কোন বিকল্প নেই। পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ ও মাটি দূষণসহ অন্যান্য দূষণ থেকে আমাদেরকে মুক্ত থাকতে হবে।
গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতেঃ কাজ করি একসাথে’। আলোচনা সভার পূর্বে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। এর পর দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। চিকিৎসক, নার্স, এনজিও প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সদ্য পদোন্নতি পেয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক পদে পদায়িত হওয়ায় চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক এবং সাবেক সফল সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বিকে ফুল, সম্মাননা স্মারক ‘ক্রেস্ট’ দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মহিউদ্দিন ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। সংবর্ধনা গ্রহণকালে কোভিড-১৯ মহামারীর স্মৃতিচারণ করেন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। জাতির এ দুঃসময়ে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডা. রাব্বি।
আলোচনা সভায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবানের ফলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, মা ও শিশুদের টিকা প্রদানের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। হ্রাস পেয়েছে মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যু, বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য খাতে সফল হয়েছি। স্ট্রোক, হাইপারটেনশন, এমআই, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস ও অন্যান্য জঠিল রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা বিশ্বে প্রশংসিত হবো।
আলোচনা সভায় অন্যান্য অতিথিরা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদানে আমাদেরকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। সুস্থভাবে বাঁচতে হলে সবাইকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। যারা স্বাস্থ্য সচেতন নয়, তারা বিভিন্ন ধরণের অসুস্থতায় ভোগে। তাই সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শুধু শারীরিক নয়, আমাদেরকে সামাজিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৫০ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসার ও সকলকে সুস্থ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার জন্য এই দিনটি পালন হয়ে আসছে। সবার জন্য স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরীর ক্ষেত্রেও এ দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সার্ভিল্যান্স মেডিকেল অফিসার (ম্যালেরিয়া) ডা. মুহাম্মদ আবুল কালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভায় সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এ ওয়াসিম ফিরোজ, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. মোঃ নওশাদ খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসরকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র প্রোগ্রাম অফিসার খৃষ্টপার কুইয়া, বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মকর্তা নুরুল হাশেম, মমতা’র কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দাশ, ঘাসফুল কর্মকর্তা সেলিনা আকতার, ইপসার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ফারহান ইদ্রিছ ও সীমান্তীক’র কর্মকর্তা মোঃ সলিম উল্লাহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও ডা. এফএম জাহিদ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সিডিসি) ডা. নাজমুল হাসনাইন কাউসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এসএমও ডা. আবদুল্লা-হিল রাফি অঝোর, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারী ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠাএন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হাসপাতালের সাফল্য কি শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলো, কতটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলো কিংবা কত আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব? নাকি এর পাশাপাশি দেখতে হবে, রোগী কত সহজে সেবা পেলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য কতটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন, অভিযোগ জানালে কত দ্রুত সাড়া পেলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করা হলো? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

চিকিৎসার মান নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যথাযথ রোগনির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর কাছে স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় আরও বিস্তৃত একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া, অপেক্ষা, বিলিং, চিকিৎসা-পরবর্তী নির্দেশনা—প্রতিটি পর্যায় তাঁর আস্থা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে চিকিৎসার উৎকর্ষ এবং সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

জবাবদিহির প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হলে, রোগী প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে না পারলে কিংবা অভিযোগের যথাযথ সমাধান না হলে শুধু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায় তখনই, যখন সে নিজের কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে, দুর্বলতা শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দায়িত্ব নেয়।

এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিমাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু রোগীর সংখ্যা বা সেবার পরিমাণ নয়, অপেক্ষার সময়, অভিযোগের ধরন ও সমাধান, তথ্য প্রদানের স্বচ্ছতা, রোগীর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী যোগাযোগের মতো বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে। তবে এসব সূচককে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। সংখ্যার পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা শনাক্ত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করে না। তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্ব নির্ধারণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থা কেবল আরও কিছু রিপোর্ট তৈরির মাধ্যম হয়ে থাকবে।

একই সঙ্গে জবাবদিহিকে শাস্তিমূলক সংস্কৃতি হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। ভুল বা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার কারণ বোঝা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সংশোধন করা এবং পুনরাবৃত্তি কমানো। যেখানে অবহেলা বা অনিয়মের প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে যথাযথ তদন্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। আর যেখানে সমস্যার উৎস জটিল প্রক্রিয়া, অপর্যাপ্ত সমন্বয় বা অস্পষ্ট দায়িত্ব, সেখানে ব্যবস্থাগত পরিবর্তন জরুরি। এই দুই দিকের ভারসাম্যই একটি প্রতিষ্ঠানের শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বাস্তব প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি, খরচ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য রোগীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যোগাযোগ শুধু তথ্য পাঠানোর কাজ নয়; রোগী তথ্যটি বুঝেছেন কি না, তাঁর প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা গড়ে ওঠে এমন ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই।

এই দায়িত্ব কোনো একক বিভাগ বা পেশাজীবীর নয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি প্রশাসন, রোগীসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং ব্যবস্থাপনা দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সব উন্নয়ন উদ্যোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাই শুধু অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা চিকিৎসাসামগ্রীর দিকে তাকালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিজেদের কাজের মান যাচাই করে, রোগীর অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের বিরোধী নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে তা চর্চা করতে পারলে সুনামের ভিত্তি আরও শক্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উৎকর্ষ শুধু ভালো চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতায় নয়, বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার এবং সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মধ্যেও নিহিত। এই মানসিকতাই স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও একইদিন কাটিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। চক্ষু পরীক্ষায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী ও শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেফার করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. গোলাম ফারুক, চিকিৎসক ডা. অভিক দে ইমু, ডা. পূজা চৌধুরী, ডা. উম্মায় সালমা মুমু ও ডা. জনি পাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক (আইসিও) মোশরাফাতুল জান্নাত আখি, অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি)মো. মাইন উদ্দিন খান,
অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি) সনি দাস, অপটোমেট্রি প্রশিক্ষক (আইসিও) নিশিতা আফরিন, সহকারী ফিল্ড অফিসার বোরহান উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা ও ফটোগ্রাফার মো. আবু শহীদ ফারুকী প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি চক্ষু স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করার আহ্বান জানান।

এ কার্যক্রমটি এনায়েতপুর গণ পাঠাগার ও সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও চক্ষু স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, গ্রাম চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ