চট্টগ্রামে  সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকি দিলেন ইউপি সদস্য

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে  সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকি দিলেন ইউপি সদস্য
এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বোয়ালখালীর ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ইকবাল হোসেন (৩২) ও আতিকুর রহমান আকিজ (২৮) নামের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনার পর রাতে নিজের নিরাপত্তার জন্য বোয়ালখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও জাতীয় দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকা ও চট্টগ্রাম নিউজের বোয়ালখালী প্রতিনিধি এস এম শাহেদ হোসাইন ছোটন ।
বোয়ালখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সূত্রে জানা যায়, বিবাদীরা দীর্ঘ দিন থেকে এলাকার খারাপ ছেলেদেরকে নানা রকম অপরাধ করার কাজে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।এলাকার অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনার জন্য গত (১৮এপ্রিল)বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক এস এম শাহেদ হোসাইন ছোটনের বাড়ীতে এলাকার গণ্যমান্য লোকজন নিয়ে সামাজিক বৈঠক হয়।উক্ত বৈঠক বসাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল)বিকাল ৫টা ৪৭মিনিটে ০১৮১৯-৪২৪২১২ মোবাইল নাম্বার আতিকুর রহমান আকিজ এবং ৪টা ৪৯ মিনিটে
০১৮১৪-১৩৭৩২৫ মোবাইল নাম্বার থেকে ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাংবাদিক শাহেদ হোসাইন ছোটনকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ,
মিথ্যা মামলা, এলাকায় মারধর করে এলাকা ছাড়া করবে এবং প্রাণে হত্যা করার হুমকি প্রদান করে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস এম শাহেদ হোসাইন ছোটন বলেন, আমাদের নিজ এলাকায় কিছু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনার জন্য এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের  সাথে বৈঠক হয়।সেখানে আমিও তাদের সাথে উপস্হিত ছিলাম।বৈঠকটি আমার নেত্বত্বে হওয়ার কথা শুনে ইকবাল হোসেন ও আতিকুর রহমান আকিজ ফোন করে আমাকে আমার বাবা-মায়ের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।এক পর্যায়ে ইকবাল হোসেন আমাকে মারধরসহ এলাকা ছাড়া ও হত্যার হুমকি প্রদান করে।সাংবাদিক ছোটন আরো বলেন গত দুই বছর আগেও ইকবাল হোসেন আমাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি এবং এক বছর আগেও সে এলাকার কিছু অবৈধ মাস্তানদেরকে নিয়ে আমার উপর হামলা করতে চেয়েছিলো।কিন্তু আমি এক আমার সাংবাদিক বন্ধুর কারণে রক্ষা পেলাম।বিষয়টি আমি ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বেলাল হোসেনকে জানানোর পর আমি আমার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য বোয়ালখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।
এছাড়াও ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকায় বয়ষ্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা করে দেওয়ার নামে ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়াও ইকবাল বোয়ালখালীর বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও
ইউনিয়নের মেম্বারের ক্ষমতা ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্ন প্রকার অবৈধ কাজে প্রভাব বিস্তার করার এলাকাবাসীর অনেক অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃইকবাল হোসেন বলেন,বাড়ীর একটি রাস্তা নিয়ে সমস্যা হয়েছে।থানায় জিডি হয়েছে এটা আমার জন্য কোন বিষয় না।আইন আমার হাতের মুটোই। আইনকে আমি চালাই।
বোয়ালখালী থানার (ওসি)তদন্ত মোঃসাইফুল ইসলাম বলেন,ইকবাল হোসেন ও আতিকুর রহমান আকিজের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী (জিডি)নেওয়া হয়েছে।তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত -সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

চট্টগ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন, যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যায় আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। দণ্ডিত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিঠুর (৩২) বাড়ি হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জাপুর গ্রামে।একই রায়ে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের খিল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছোট্ট মিয়ার মেয়ে মোছাম্মৎ কলি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হন। পরদিন সন্ধ্যায় তার লাশ বাড়ির অদূরে পুকুরপাড়ে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়।অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করে রাখার অভিযোগে ১৮ অক্টোবর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তাতে বলা হয়, নজরুল ও কলি তালতো ভাই-বোন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন নজরুল তাকে পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে রেখে যায়।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী জানালেন, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। তবে একই আইনের ৭ ধারায় অপহরণের অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছেন। লাশ গুমের অভিযোগ প্রমাণ হলেও একই ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় আদালত দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আসামিকে কোনো সাজা দেননি।

তিনি বলেন, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হলেও আসামিকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার বিষয়টি আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, আদালতের কাছে ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পিত মনে হয়নি। আসামি ছিলেন নিরস্ত্র। ঘটনার সময় বয়স ছিল মাত্র ২৪। গ্রেফতারের পরদিনই দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। আগের কোনো সাজাও নেই। ইতোমধ্যে আসামির আট বছর হাজতে কেটেছে। ভবিষ্যতে সংশোধনের অযোগ্য এমন কিছু রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করেননি আসামি।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ