কালুরঘাট সেতুতে গাড়ি চলতে পারে জুন-জুলাইয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী জুন বা জুলাইয়ে কালুরঘাট সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কালুরঘাট সেতুর ৯ ও ১০ নম্বর স্প্যানে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা একটি লাইটার জাহাজ বেপোরোয়া গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে সেতুর আন্ডার স্ল্যাং গার্ডার, ওয়াকওয়ে ও রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা সারাতে আরো মাস খানেক সময় লাগবে। সব মিলিয়ে পুরো সংস্কারকাজ শেষ করে গাড়ি চলাচল শুরু করতে দুই মাস লেগে যেতে পারে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সেতু প্রকৌশলী জিসান দত্ত বলেন, কোন দিন থেকে গাড়ি চলবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জুন-জুলাই থেকে গাড়ি চলতে পারে। তবে এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-৮) আবদুচ ছালাম বলেন, আমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে। শিগগিরই সংস্কারকাজ শেষ হবে। কোরবানির ঈদের আগেই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরুর আগে বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল শতবর্ষী জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু। ২০২৩ সালের ১ আগস্ট থেকে সেতুর ওপর যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে। শুরুতে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে ৫ নভেম্বর কক্সবাজারের পথে ট্রেন চলাচল শুরু করে দেওয়া হয়। এরপর দফায় দফায় ঘোষণা দিয়েও সেতুটি যানচলাচলের উপযোগী করে তুলতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এটি নিয়ে খুব একটা ‘মাথাব্যথা’ দেখা যাচ্ছে না সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিদের।
সূত্রে জানা গেছে, কালুরঘাট সেতুর বিকল্প হিসেবে বর্তমানে দেওয়া হয়েছে তিনটি ফেরি। এর মধ্যে একটি বিকল। বাকি দুটির মধ্যে প্রায় সময় অচল হয়ে পড়ে একটি। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দুপারের চালক-যাত্রীদের। এপার থেকে ওপারে যেতে যেমন সময় বেশি লাগে, ঠিক তেমনি রোদ বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ২০১০ সালে তৃতীয় শাহ আমানত সেতু উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত কালুরঘাট সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের কারণে সেতুটি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। ২০০১ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পর ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুদফা সেতু বন্ধ রেখে সংস্কার করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। সেই সময়ও অন্যান্য যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরি চালু করা হয়েছিল। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয় ৭০০ গজ দীর্ঘ কালুরঘাট রেল সেতু। ১৯৫৮ সালে এ সেতু সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। ১৯৯০ এর দশকে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে ট্রেন চলাচল সীমিত হয়ে পড়লে কালুরঘাট সেতুতে যান চলাচলে চাপ বাড়ে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু ভেঙে গেলে কালুরঘাট সেতু হয়ে পড়ে বন্দরনগরীর সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয় উপজেলা ও কক্সবাজার-বান্দরবান জেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
এ প্রসঙ্গে ভোক্তাদের জাতীয় সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সময়ক্ষেপণ করা মানে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেওয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা উচিত। তারা যদি এভাবে কাজের সময় বাড়াতেই থাকে; তাহলে মানুষের দুর্ভোগের পাল্লাও বাড়বে। এছাড়া সময় যেভাবে বাড়বে তেমনি খরচও বাড়বে। এ প্রকল্পের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা যদি সঠিক সময়ে কাজ শেষ না করেন; তাহলে জনগণের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি রাষ্ট্রের-সরকারেরও লোকসান হচ্ছে। কেননা, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়া মানে খরচ বেড়ে যাওয়া।
সেতুর সংস্কারে জোড়াতালির কাজেও ঠিকমতো যোগান দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কালুরঘাট সেতুর দাবিতে আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, সেতু নির্মাণে যেমন দীর্ঘসূত্রতা, সংস্কার কাজেও ঠিক তেমনি দীর্ঘসূত্রতা।
বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুল মোমিন বলেন, দিনের পর দিন কাজ পেছাচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিকল্প হিসেবে যে ফেরি দেওয়া হয়েছে তাতেও কম ভোগান্তি নেই। প্রাণহানিসহ দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বছরে অন্তত ৮০ কারখানায় ৩৭০ বার শ্রমিক অসন্তোষ চট্টগ্রামে বেকার ৩০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে একের পর এক কারকানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমকি বেকার হয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই বছর পেরোলেও স্থিতিশীলতা ফেরেনি চট্টগ্রামের শিল্প খাতে। অনিবার্য পরিস্থিতি ও কাঁচামাল সংকটের কথা বলে বন্ধ হচ্ছে একের পর এক কারখানা। মাস গেলেই শিল্প পুলিশের তালিকায় যোগ হচ্ছে বন্ধ হয়ে যাওয়া নতুন নতুন কারখানার নাম।

সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ তাদের ১১টি কারখানা একযোগে বন্ধ ঘোষণা করে। সেখানে একসঙ্গে বেকার হয়েছেন সাড়ে ১০ হাজার শ্রমিক।শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত গত দুই বছরে চট্টগ্রামে ১৯০টি কারখানা বন্ধ হয়ে বেকার হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। ১৩১টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ৫৯টি কারখানা গ্যাস-বিদ্যুৎ, ক্রয়াদেশ, আর্থিকসহ নানা সংকটে সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। কারখানাগুলোর মধ্যে অধিকাংশই পোশাক খাতের বাইরের।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান বললেন, আমাদের জানা মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কারখানার পরিবেশ না থাকায় অনেক বিদেশি বায়ার কিছু প্রতিষ্ঠানে অর্ডার দিচ্ছে না। আবার বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন না করতে পারার কারণেও সংকট তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম সোনিয়া বললেন, বেতন না দেওয়া, হঠাৎ কারখানা বন্ধ করে দেওয়া, মালিক-শ্রমিক বিরোধসহ নানা সংকট চলছে। প্রায়ই কোথাও না কোথাও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। দুই বছরে অন্তত ৮০টি কারখানায় ৩৭০ বার শ্রমিক অসন্তোষ সামাল দিতে হয়েছে।

শ্রমিকদের আইনগত অধিকার নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। এ সংস্থার চট্টগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু বললেন, চালু থাকা কারখানাগুলোয়ও সমস্যা আছে। অনেক কারখানা রুগ্ন হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদে শিল্প পুলিশের কার্যালয়ের সামনে বসে আছেন পারভীন আক্তার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী। সঙ্গে আরও তিনজন। তারা আগ্রাবাদের আল-আমিন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিভিন্ন পদের কর্মী। ২০ মাস ধরে বেতন না পেয়ে শিল্প পুলিশের এসপির (পুলিশ সুপার) কাছে এসেছেন অভিযোগ জানাতে।

কারখানার মালিকপক্ষ এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিতে দিতে ক্লান্ত এসব শ্রমজীবী মানুষ।
পারভীন আক্তার বললেন, ২১ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। শ্রমিকদের পাওনা দিয়ে বিদায় করে মালিক কারখানা বন্ধ করে রেখেছেন। আমরা মেইন অফিসের ছয়জন স্টাফ। আমাদের বেতন ২০ মাস ধরে দিচ্ছে না। ঈদে বোনাসও দেয়নি। শ্রম অধিদপ্তরে অভিযোগ করার পর মালিক এখন আমাদের অফিসে ঢুকতেও দিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক সহসভাপতি এ এম চৌধুরী সেলিম বললেন, অর্ডার নেই। আর্থিক সংকটের মধ্যে আছি। ১৮ মাস ধরে কারখানা শাটডাউন। এজন্য বেতন দিতে পারিনি। আমি অস্বীকার করছি না। তাদের দাবি ন্যায্য। আমি একটু গুছিয়ে ওঠার জন্য তাদের কাছে সময় চেয়েছিলাম। তাদের পাওনা অবশ্যই দিয়ে দেব। কিন্তু তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার নামে অভিযোগ করছেন।

শিল্প পুলিশের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা। সাবেক সংসদ সদস্যও। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। এরকম যেসব কারখানার মালিকের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা আছে, সেগুলো বেশি সংকটে আছে। এমন অনেক কারখানা দখল-বেদখল হয়েছে। মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে।

শিল্প পুলিশের চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ পারভেজ তালুকদার বলেছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিল্পকারখানায় সংকট বেড়েছে। অনেক কারখানার মালিককে খুঁজে পাওয়া পাওয়া যাচ্ছে না। ম্যানেজমেন্ট কোনোভাবে ২-৩ মাস হয়তো চালিয়ে নিয়েছে। কিন্তু মালিক ছাড়া কত দিন সম্ভব। অনেক কারখানায় রপ্তানির অর্ডার নেই। লোন পরিশোধ করতে পারছে না। নতুন করে লোনও পাচ্ছে না। এলসি খুলতে পারছে না। এভাবে কী কারখানা চালানো সম্ভব!

ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ পারভেজ আরো বলেন, কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের মতো চাকরি পেয়ে গেছেন। কেউ কেউ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছেন। কেউ হকার হয়েছেন। ফুটপাতে দোকান দিয়েছেন। যাদের বয়স বেশি তারা হয়তো বেকার হয়ে ঘরে বসে আছেন।

শিক্ষার্থী সুপর্বার সাফল্যের ঝুলিতে ৫৩ পদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্জিত ৫৩টি পদক। পড়ালেখা, গবেষণা, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম- সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলেছে। সর্বশেষ দক্ষিণ এশীয় কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতে আবারও দেশের পাশাপাশি চট্টগ্রামের মুখ উজ্জ্বল করেছে সে।

সুপর্বা সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (কেমব্রিজ কারিকুলাম) অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একাডেমিক কৃতিত্বের পাশাপাশি খেলাধুলা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য সাফল্যের জন্য সে টানা তিন বছর- পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে বিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দশম ক্যাডেট, জুনিয়র, অনূর্ধ্ব-২১ ও সিনিয়র দক্ষিণ এশীয় কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দ্বিতীয় দক্ষিণ এশীয় অনূর্ধ্ব-১৪ কারাতে কাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সুপর্বা। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ আসরে অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে সে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাওয়া সুপর্বা দক্ষিণ এশীয় প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেয়। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে ১৫৪ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। সুপর্বা চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. সোমা রানী রায় এবং কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন ডা. সুজিত কুমার বিশ্বাসের মেয়ে।

এর আগে ২০২৪ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে কাতা ও কুমিতে দুই বিভাগেই স্বর্ণপদক জয় করে আলোচনায় আসে সে। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় প্রতিযোগিতায়ও একাধিকবার সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। কারাতের পাশাপাশি সে স্কুলের বাস্কেটবল ও ফুটবল দলেও নিয়মিত খেলছে।

খেলাধুলার পাশাপাশি গবেষণাতেও রয়েছে সুপর্বার উল্লেখযোগ্য অর্জন। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক একাডেমিক গবেষণা প্রতিযোগিতায় ‘নিউরোশিল্ড ব্যান্ড-অ্যানেস্থেসিয়ার ঝুঁকি হ্রাসের নতুন ধারণা’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে বিশ্বের ৩৭টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়। এছাড়া ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক অনলাইন গণিত অলিম্পিয়াডে রৌপ্য পদকও অর্জন করে।

সুপর্বা জানায়, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় নিজেকে দক্ষ করে তোলার স্বপ্ন ছিল তার। বিশেষ করে কারাতের প্রতি ভালোবাসাই তাকে নিয়মিত অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করেছে। সে বলে, প্রশিক্ষণে কখনো ফাঁকি দিইনি। বৃষ্টি-ঝড় যাই হোক, চেষ্টা করেছি অনুশীলন চালিয়ে যেতে। একই সঙ্গে পড়াশোনাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও সবসময় নজর রাখি। ভবিষ্যতে দেশকে আরও বড় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।

সুপর্বার মা ডা. সোমা রানী রায় বলেন, সাত বছর বয়স থেকে কারাতে শেখা শুরু করে সে। তার নিষ্ঠা ও পরিশ্রমই আজকের এই সাফল্যের মূল শক্তি। দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে পদক অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
বাবা ডা. সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও সমান মনোযোগ দিয়ে সুপর্বা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করে । আমরা চাই সে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনুক।

জানা গেছে, খুলশী কারাতে ক্লাবে সুপর্বার কারাতে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও জাপান-প্রশিক্ষিত কোচ তুলু উস সামসের তত্ত্বাবধানে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন থেকে দ্বিতীয় ড্যান এবং জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রথম ড্যান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে।শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের মতে, একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণামনস্কতা এবং খেলাধুলায় ধারাবাহিক সাফল্যের অনন্য সমন্বয় ঘটিয়ে সুপর্বা সুধা বিশ্বাস নতুন প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ