কালুরঘাট সেতুতে গাড়ি চলতে পারে জুন-জুলাইয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী জুন বা জুলাইয়ে কালুরঘাট সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কালুরঘাট সেতুর ৯ ও ১০ নম্বর স্প্যানে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা একটি লাইটার জাহাজ বেপোরোয়া গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে সেতুর আন্ডার স্ল্যাং গার্ডার, ওয়াকওয়ে ও রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা সারাতে আরো মাস খানেক সময় লাগবে। সব মিলিয়ে পুরো সংস্কারকাজ শেষ করে গাড়ি চলাচল শুরু করতে দুই মাস লেগে যেতে পারে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সেতু প্রকৌশলী জিসান দত্ত বলেন, কোন দিন থেকে গাড়ি চলবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জুন-জুলাই থেকে গাড়ি চলতে পারে। তবে এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-৮) আবদুচ ছালাম বলেন, আমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে। শিগগিরই সংস্কারকাজ শেষ হবে। কোরবানির ঈদের আগেই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরুর আগে বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল শতবর্ষী জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু। ২০২৩ সালের ১ আগস্ট থেকে সেতুর ওপর যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে। শুরুতে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে ৫ নভেম্বর কক্সবাজারের পথে ট্রেন চলাচল শুরু করে দেওয়া হয়। এরপর দফায় দফায় ঘোষণা দিয়েও সেতুটি যানচলাচলের উপযোগী করে তুলতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এটি নিয়ে খুব একটা ‘মাথাব্যথা’ দেখা যাচ্ছে না সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিদের।
সূত্রে জানা গেছে, কালুরঘাট সেতুর বিকল্প হিসেবে বর্তমানে দেওয়া হয়েছে তিনটি ফেরি। এর মধ্যে একটি বিকল। বাকি দুটির মধ্যে প্রায় সময় অচল হয়ে পড়ে একটি। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দুপারের চালক-যাত্রীদের। এপার থেকে ওপারে যেতে যেমন সময় বেশি লাগে, ঠিক তেমনি রোদ বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ২০১০ সালে তৃতীয় শাহ আমানত সেতু উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত কালুরঘাট সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের কারণে সেতুটি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। ২০০১ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পর ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুদফা সেতু বন্ধ রেখে সংস্কার করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। সেই সময়ও অন্যান্য যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরি চালু করা হয়েছিল। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয় ৭০০ গজ দীর্ঘ কালুরঘাট রেল সেতু। ১৯৫৮ সালে এ সেতু সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। ১৯৯০ এর দশকে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে ট্রেন চলাচল সীমিত হয়ে পড়লে কালুরঘাট সেতুতে যান চলাচলে চাপ বাড়ে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু ভেঙে গেলে কালুরঘাট সেতু হয়ে পড়ে বন্দরনগরীর সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয় উপজেলা ও কক্সবাজার-বান্দরবান জেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
এ প্রসঙ্গে ভোক্তাদের জাতীয় সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সময়ক্ষেপণ করা মানে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেওয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা উচিত। তারা যদি এভাবে কাজের সময় বাড়াতেই থাকে; তাহলে মানুষের দুর্ভোগের পাল্লাও বাড়বে। এছাড়া সময় যেভাবে বাড়বে তেমনি খরচও বাড়বে। এ প্রকল্পের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা যদি সঠিক সময়ে কাজ শেষ না করেন; তাহলে জনগণের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি রাষ্ট্রের-সরকারেরও লোকসান হচ্ছে। কেননা, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়া মানে খরচ বেড়ে যাওয়া।
সেতুর সংস্কারে জোড়াতালির কাজেও ঠিকমতো যোগান দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কালুরঘাট সেতুর দাবিতে আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, সেতু নির্মাণে যেমন দীর্ঘসূত্রতা, সংস্কার কাজেও ঠিক তেমনি দীর্ঘসূত্রতা।
বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুল মোমিন বলেন, দিনের পর দিন কাজ পেছাচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিকল্প হিসেবে যে ফেরি দেওয়া হয়েছে তাতেও কম ভোগান্তি নেই। প্রাণহানিসহ দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালী আহলা শ্রীশ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গনে খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়েই শারদোৎসবের প্রস্তুতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী আহলা গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গনে দুর্গাপুজো ২০২৬-এর প্রস্তুতিতে জমজমাট হয়ে উঠল ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘ। মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হল এ বছরের দুর্গাপুজোর খুঁটি পুজো। গত শুক্রবার সকাল ১১টায় শ্রীশ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গনে খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল শারদোৎসবের প্রস্তুতি।

এ বছর ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের দুর্গাপুজো পা দিচ্ছে ৫৮তম বর্ষে। ফলে এবারের পুজোকে ঘিরে শুরু থেকেই রয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।৫৮তম বর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ আয়োজনের এবারের ভাবনা-মনের মানুষ। ভাবনা ও সৃজনে- কাল্পনিক ইভেন্টস্, মাতৃরূপায়নে- শ্যামসুন্দর স্টুডিও ও আলোক সজ্জায়: এপেক্স লাইটিং।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুমন দে ও শারদীয় দুর্গাপুজোর সাধারণ সম্পাদক নয়ন কান্তি দে, চিত্তরঞ্জন চৌধুরী, অনিমেষ বিশ্বাস (বাসু), সজল দে, তাপস চৌধুরী, স্বপ্নীল দে সৌরভ, উন্মেষ দে, আকাশ দে, শ্রীমন্ত দে, জয় দে, অর্ক দে, আদিত্য দে ও সকলের উপস্থিতিতে খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠান ও ব্যানার উম্মোচনের মধ্য দিয়ে পরিণত হয় মিলনোৎসবে।

ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের পুজো কমিটি ২০২৬-এর সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এ বছর আমাদের পুজোর ৫৮তম বর্ষ। তাই এবারের উদযাপনকে আমরা স্মরণীয় করে তুলতে চাই। পুজোর থিম প্যান্ডেল এবং দুর্গাপ্রতিমার দুটোই হবে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা আশাবাদী, এবারের পুজো সকলের নজর কাড়বে।” শুধু উৎসব উদযাপন নয়, সম্প্রীতির বার্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে উৎসব পালনই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

খুঁটি পুজোর সঙ্গে সঙ্গেই তাই শুরু হয়ে গেল ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের ৫৮তম বর্ষের দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন। থিম, প্রতিমা এবং সামাজিক উদ্যোগ সব মিলিয়ে এ বছরের পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। এখন অপেক্ষা শরতের, যখন আলো, মন্ডপ আর উৎসবের আবহে আরও একবার সেজে ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের শ্রী শ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির।

পূর্বধলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নানাবিধ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পূর্বধলা উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা তরুণ দলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।​প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরবর্তীতে দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও আনন্দঘন পরিবেশে কেক কাটার আয়োজন করা হয়।
​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার।

নেত্রকোনা জেলা তরুণ দলের সভাপতি শেখ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং পূর্বধলা উপজেলা তরুণ দলের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মিজানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, সায়েদ আল মামুন শহীদ ফকির, রুহুল আমিন ফকির, সেলিম উদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম আনার, সালাউদ্দিন আহমেদ নওয়াব ও আশরাফ উদ্দিন তালুকদার।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ ঘোষ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী তুরাগ ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ