আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

শিল্প-সাহিত্যে অবদানের জন্য জিজেইউএস সম্মাননা ২০২৪ পেলেন কবি আমেনা ফাহিম ♦️♦️

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভোলার দৌলতখান উপজেলার চারগুণীকে সম্মানিত করেছে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা – জেজেইউএস । সংস্হাটির নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মুহিন স্বাক্ষরিত সম্মাননা স্মারক, সনদ ও অর্থসম্মানী এক প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে দৌলতখান জেজেইউএস মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হয়েছে নির্বাচিত চার গুণীজনের হাতে । উপজেলার শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে মূল্যবান ভূমিকার জন্য জেজেইউএস সম্মাননা ২০২৪ লাভ করেছেন- জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার সদস্য ও দৌলতখান উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কবি আমেনা ফাহিম ।

বিবি ফাহিমা। আমেনা ফাহিম নামেই সমধিক পরিচিত- আমেনা ফাহিম একাধারে একজন কবি, গীতিকার, ছড়াকার, গল্পকার ও বাচিক শিল্পী। তিনি পেশায় বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের গর্বিত একজন শিক্ষক।

বাংলাদেশেের বৃহত্তম দ্বীপজেলা ভোলার দৌলতখান উপজেলার সন্তান কবি আমেনা ফাহিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম এবং মা জাকিয়া বেগম।
তিন বোন দুই ভাই সহ মোট পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তিনি প্রথম সন্তান। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিপ্রেমী পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। মা বাবা দু’জনেই তাকে সকল কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা যুগিয়েছেন।

দৌলতখান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে, দৌলতখান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন ২০০৪ সালে। ভোলার দৌলতখান সরকারি আবি আবদুল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন ২০০৬ সালে । এইচএসসি পাশের পর মামা মোশাররফ হোসেন সেলিমের কাছে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্যে বাড়ি থেকে চলে যান চট্রগ্রাম। আমেনা ফাহিম এর জীবনের সফলতায় তার মামা সেলিম এর অবদান তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। চট্রগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে অনার্স করে ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে বিএড ও ডিপিএড প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন।
২০১৪ সালে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অধীনে আইসিটি ট্রেনিং কোর্স সম্পন্ন করেন এবং সার্টিফিকেট অর্জন করেন। চাকুরির পূর্বে তিনি ঢাকায় সেল এন্ড কর্নেল নামক একটি সফটওয়্যার কম্পানিতে প্রায় দুবছর কন্টেন্ট ডেভলপার পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে দক্ষতা ও সুনামের সাথে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি করোনা কালীন সময়ে অনলাইন পাঠদানের জন্য করোনা যোদ্ধা শিক্ষক সম্মাননা পান শিক্ষার আলো ডট কম সংগঠন থেকে। শিক্ষক বাতায়নের একজন নিবেদিত শিক্ষক। মুক্তপাঠ এর বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন।
তিনি মাইক্রোসফট এডুকেটর সেন্টার এবং উই স্কুল টিচ ফর গুড থেকে মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর সার্টিফিকেট অর্জন করেন। এছাড়াও লিড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন সহ করোনাকালীন সময়ে দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে ট্রেনিং গ্রহন করেন এবং সার্টিফিকেট অর্জন করেন। শিক্ষক বাতায়ন ও শিক্ষক সংস্কৃতি আয়োজিত যৌথ অনুষ্ঠানে তিনি সেরা আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে সম্মাননা পান। ভোলা পিটিআইতে ডিপিএড প্রশিক্ষণ কালীন সময়ে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নজরুল সঙ্গীতে প্রথম স্হান, নৃত্যে প্রথম স্থান এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্হাগার অধিদপ্তরের তিনি একজন নিবন্ধিত কবি। গীতিকার হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভিতে প্রকাশিত তার প্রথম গান রুপকথার গল্প। গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
কলকাতার বই মেলায় হার্টবিটে কবিতার আনাগোনা নামক একটি যৌথকাব্যে তার ‘ভালোবাসি’ কবিতাটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালেও কলকাতা বই মেলায় হার্টবিটে কবিতার আনাগোনা ২ বইতে তার আরও একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। এছাড়া অসংখ্য যৌথ কাব্য এবং ম্যাগাজিনে তার প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য কবিতা।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২২ এ প্রকাশিত হয়েছে আমেনা ফাহিম-এর প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ “গোধূলীর আত্মকথন।” বইটিতে ৪৭ টি কবিতা রয়েছে। কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, দেশাত্মবোধ, সমসাময়িক এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রচিত লেখাগুলো স্থান পেয়েছে। ইতিমধ্যে বইটি পাঠক মহলে স্থান করে নিয়েছে। কলকাতা বইমেলা ২০২৪ প্রকাশিত হয়েছে দ্বিতীয় একক ধারাবাহিক কাব্যগ্রন্থ অন্তদর্শন। একুশে বইমেলা ২০২৪ ছোটদের সময় প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত হয়েছে শিশুতোষ ছড়ার বই “ঙ গেলো ব্যাঙের বাড়ি।”

আমেনা ফাহিম এর লেখা অন্যান্য কাব্যগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু একটি মানচিত্র, আমি সেই মহাকাল, নারী তুমি রক্তাক্ত সেই পতাকা, একটা দ্রোহের কবিতা লিখলাম, আমিও মানুষ..।

শিক্ষক আমেনা ফাহিম দৌলতখান উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ২০২২ ও ২০২৩ নির্বাচিত হয়েছেন।
ভোলা জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ২০২৪ নির্বাচিত হয়ে কবিকূলের সম্মান বাড়িয়েছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের শাশ্বত মূল্যবোধে উজ্জীবিত শিল্পী কবি আমেনা ফাহিম দেশ ও দশের কল্যাণে লিখে যেতে চান আজীবন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ