আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চালু রাখতে সচেতন নাগরিক সমাজের আকুতি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের মে মাসের শেষদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনের চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অথচ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন স্থায়ী করা এবং নতুন আরেকটি ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ পরিষদ। কিন্তু ইঞ্জিন ও লোকোমাস্টারসহ (ট্রেনচালক) জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এই দাবি পূরণ না করে উল্টো বিশেষ ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজসহ যাত্রীদের মধ্যে। যাত্রীবাহী এই ট্রেন বন্ধের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে করেছে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক সমাজ।সম্মেলনে পুনরায় ট্রেন চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুনরায় ট্রেন চালুর আহবান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সচেতন নাগরিকের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কক্সবাজারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৯৫৭ সালে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেললাইনটির জন্য তৎকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন। ইতিহাসের সেই সূর্য সন্তানের পথেই আপনার সাহসী অগ্রযাত্রায় বনাঞ্চল, জমি, বাড়িঘর ভেদ করে মানুষের ক্ষতি পুষিয়ে প্রায়ই বিশ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আমাদের জন্য বিশাল এক পাওনা। ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’ ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ নামক দুটি ট্রেন ঢাকা থেকে আগমন করছে যার ফলে মানুষ তার গন্তব্যে নিরাপদে ও নির্ভয়ে যাওয়া-আসা করছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুবিধা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় যে, একটি ট্রেন বহু অনুরোধে বিশেষ ট্রেন হিসেবে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার লাইনে চলাচল করছিল।
নাজনীন সরওয়ার কাবেরী বলেন, রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানতে পারি এই বিশেষ ট্রেনটি ঈদে বাড়তি যাত্রী বহনে সুবিধা দিয়েছে মাত্র। গত ২৪ মে থেকে এই ট্রেনটি খুবই খোড়া যুক্তিতে বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে যার ফলে টিকেট বিক্রয় এরই মধ্যে বন্ধ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, দোহাজারী-কক্সবাজার ট্রেন চলাচলের ওয়ার্কিং টাইমটেবিল ৫৩ নম্বর অনুসারে এখানে তূর্ণা এক্সপ্রেস, মহানগর গৌধুলী এক্সপ্রেস ও মেঘনা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাত্রী সেবা দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। পরে জনস্বার্থ অনুসন্ধানে জানতে পারি যে, প্রায়ই এক লাখ যাত্রী প্রতিদিন ট্রেন টিকেট পেতে ইচ্ছুক হয়েও অনলাইনে ব্যর্থ হচ্ছেন। চট্টগ্রামে বসবাসরত কমজীবী, সাধারণ নাগরিক, মেডিকেল সেবায় আগত রোগী, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তে নির্বাক। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে রেলওয়ে জনগণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম ও লাভজনক খাত, যেখানে ৭২ থেকে ১৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত হাজার হাজার কিলোমিটার ট্রেন চলাচল হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা যারা সচেতন মহল আমরা বুঝতে পারছি যে বাংলাদেশ রেলওয়েকে অর্থনৈতিক ‘লাভহীন’ প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করবার জন্য রেলওয়েতে অবস্থানরত একটি ঘাপটি মারা কুচক্রিমহল যারা দেশের উন্নয়ন ও নাগরিক স্বার্থের বিরুদ্ধে নিজ স্বার্থ হাসিলে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন প্রাইভেট পরিবহন সংস্থার সাথে আঁতাত করে এডিবির সাড়ে আঠারো হাজার কোটি টাকার প্রকল্পকে অলাভজনক ও অকার্যকর করার কাজে মেতে আছে। অথচ ৫৩ নম্বর টাইম টেবিলের এই তিনটি ট্রেন চট্টগ্রামে নয় ঘণ্টা করে বিরতিতে রয়েছে এবং বিশেষ ট্রেনের টিকিট বিক্রি প্রতিদিন এক ট্রিপে তিন লাখ টাকা। এই চক্রান্তকারীদের হাত থেকে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে চুক্তি অনুসারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের যাত্রীদের জন্য ট্রেন সেবা চালু করলে আমরা উপকৃত ও কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ হবো।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মাহফুজুর রহমান বলেন, কক্সবাজার ট্রেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল। সেটা তার মেয়ে শেখ হাসিনা পূরণ করেছে। রেলে কিছু মানুষ আছে, যারা এ প্রকল্পকে বন্ধ করে দিতে চায়। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের স্বার্থের জন্য এটা করছে। সাংবাদিকসহ সবাই মিলে রেলওয়ে ভবন গিয়ে স্মারকলিপি দিতে পারে। যদি এ ট্রেন বন্ধ হয় আমরা রেললাইনে গিয়ে বসব। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিম রেজা বলেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ট্রেন। কক্সবাজার রেললাইনের প্রকল্প বেশ ব্যয়বহুল। যদি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে রেল কর্তৃপক্ষ আয় থেকে বঞ্চিত হবে। আয় না হলে ঋণের সুদ কীভাবে দেবে। এটা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে সোমবার (২৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক দেব দুলাল ভৌমিক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার এ কে এম সারয়ার কামাল, স্থপতি আশিক ইমরান ও নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো. ইদ্রিস উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে চলাচলরত যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করার কারণে দেশের অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের মানুষ আনন্দিত। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল করলেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উক্ত রুটে ট্রেন বন্ধ করার সিদ্ধান্তে এ অঞ্চলের জনগণের মাঝে হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই রেললাইন কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করেছেন। যেখানে উক্ত লাইনে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর কথা সেখানে ঘটছে তার উল্টো। আর তুলনামূলকভাবে ট্রেনে ভ্রমণ সুবিধা হওয়ায় স্বতস্ফূর্তভাবে মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় এনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ না করার জোর দাবি জানান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ।
জানা গেছে, গত বছরের ১১ নভেম্বর চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মিত নতুন রেললাইনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যটক এক্সপ্রেস নামের আরেকটি ট্রেন চালু করে রেল। শুধু ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দুটি ট্রেনের প্রতিটিতে ১১৫টি করে আসন বরাদ্দ রাখা হয় চট্টগ্রাম স্টেশনের জন্য। ঢাকা থেকে পরপর দুটি ট্রেন চালু করলেও চট্টগ্রাম থেকে কোনো ট্রেন দেওয়া হয়নি। রেলওয়ের এমন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজ ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল। এই পরিস্থিতিতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেল। গত ৮ এপ্রিল এই ট্রেন চলাচল শুরু হয়। চালুর পর থেকে এই ট্রেন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যাত্রীদের চাপে এরপর দুই দফায় বিশেষ ট্রেনের সময় বাড়িয়ে ১০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। কিন্তু ইঞ্জিন ও লোকোমাস্টারের সংকট থাকার কারণ জানিয়ে বন্ধ ঘোষণার প্রায় ১০ দিন (৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত) ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ