আজঃ শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিভিস্থানে সংঘর্ষ, আহত-২০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটিস্থানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশব্যাপী কমপ্লিট শাটডাউন বা সর্বাত্মক অবরোধ চলাকালে এ সংঘর্ষে এতে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী, সাধারণ জনগন ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে ছিল আইন শৃংখলাবাহিনী। সকাল থেকে নগরের দুই নম্বর গেইট, মুরাদপুর ও লালদীঘির পাড়, নতুন ব্রীজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরের কয়েকটিস্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে চট্টগ্রামের তৃতীয় শাহ আমানত সেতু (নতুনব্রিজ) এলাকায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় এক কলেজছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ছাত্রশিবির সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছে। আটক ওই ছাত্রের নাম নাজমুল হাসান (২৫)। তিনি সরকারি সিটি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র

বলে জানা গেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে আন্দোলনকারীদের। জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে নতুন ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এতেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘটনাস্থলে থাকা এডিসি আশরাফুল করিম জানান, এখানে (নতুন ব্রিজ) ছাত্র শিবিরের ছেলেদের সংঘবদ্ধ হওয়ার তথ্য পেয়েছি। তাদের প্রতিহত করার জন্য আমরা মাঠে নেমেছি। একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ দাবি করেছে, যারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তাদের কেউ অবরোধে ছিলেন না। বহিরাগতরা এসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অচলের চেষ্টা করেছিল। এদের মধ্যে ‘কয়েকজনকে’ গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর বাকলিয়ায় শাহ আমানত সেতুর প্রবেশমুখ অবরোধ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অচলের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।এ সময় প্রায় ২০ মিনিট ধরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে আবারও জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে বহদ্দারহাটের দিকে চলে যায়।
এদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত ২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক)

হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হলেও চমেক হাসপাতালে ২ জন ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া দুইজন হলেন- আরেফিন শুভ ও মো. মোরশেদ। এদের মধ্যে আরেফিন সিটি কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। মোরশেদ রিকশাচালক।
চমেক হাসপাতালে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত দুইজন হাসপাতালে এসেছেন। এদের মধ্যে আরেফিন নামে একজন ছাত্র রয়েছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্যজন রিকশাচালক, টিয়ারশেলে অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
অবরোধে অংশ নেওয়া বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান বলেন, আমরা শাটডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছিলাম। পুলিশ আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের ওপর তারা টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড মেরেছে। পাঁচজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
নগর পুলিশ উপ কমিশনার (দক্ষিণ) আশরাফুল আলম বলেন, আন্দোলনকারীদের যে আক্রমণাত্মক আচরণ সেটা দেখে মনে হচ্ছে না তারা সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা একটি বাস ভাঙচুর করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সেটা করতে বারণ করে। এরপর তারা পুলিশের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বেশকিছু পুলিশ আহত হয়েছে। কয়জন আটক হয়েছে সেটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যারা আন্দোলন ডেকেছে, তাদের কাউকে আমরা নতুন ব্রিজ এলাকায় দেখিনি। এখানে বহিরাগত একটা গ্রুপ রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করেছে, মানুষজনকে আঘাত করার চেষ্টা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে, মানুষের জানমাল রক্ষার স্বার্থে, জনজীবন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আমরা তাদের এখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি। তারা পুলিশের ওপর পাল্টা আক্রমণ করেছে। প্রকাশ্যে তাদের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি আপনারা দেখেছেন। এটি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কোনো বিক্ষোভ হতে পারে না।
মোস্তাফিজুর জানিয়েছেন, অবরোধকারীদের হামলায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানালেও সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি।
এদিকে নগরীর চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোমিনুর রহমান জানান, নতুন ব্রিজ থেকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে বহাদ্দারহাট মোড়ে এসে সড়কের একপাশ আটকে বিক্ষোভ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চান্দগাঁও আবাসিক এবং বহদ্দারহাট বাড়ি এলাকা থেকে বের হয়ে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। ছোড়া হয় গুলিও। সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন ইসমাইল হোসেন (৩১) এবং মোহাম্মদ ইলিয়াছ (২০)। এর মধ্যে ইসমাইল শিক্ষার্থী এবং ইলিয়াছ শ্রমিক। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাকারীদের মধ্যে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সদস্যদের সরে যেতে দেখা যায়। প্রায় আধ ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছেন। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে বহদ্দারহাট মোড়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনে ত্রিমুখী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, দুপুর ১২টার পর থেকেই বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এবং ট্রাফিক পুলিশবক্স সংলগ্ন রাস্তায় একে একে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা। সেখানে আগে থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অবস্থান থাকলেও শিক্ষার্থীরা জড়ো হওয়ার খবরে সেখানে আরো অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। শিক্ষার্থীদের আশপাশেই অবস্থান নিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না মেধা’, ‘ছাত্রলীগের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’ এবং পুলিশকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিচ্ছেন।
দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ করেই স্থানীয় ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। প্রথমে একদল নেতাকর্মী আসেন বহদ্দারহাটের মেয়র গলি থেকে। পরে আরেক দল আসে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার সড়ক হয়ে। এ সময় তাদের হাতে কিরিচ, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অতর্কিত হামলা করেছে। আমাদের এক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ আমাদের সামনেই ছিল। অথচ তারা আমাদের প্রটেক্ট করেনি। অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমে আমাদের এভাবেই কি মার খেতে হবে?
এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলা ও শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের শাস্তি, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন শৃংখলাবাহিনী। সকাল থেকে নগরের দুই নম্বর গেইট, মুরাদপুর ও লালদীঘির পাড়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরের ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
বিজিবি চট্টগ্রাম-৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ ছিদ্দিকী বলেন, চট্টগ্রামে ৩ প্লাটুন বিজিবি ও ৩টি রায়ট কন্ট্রোল গাড়ি সহযোগে একটি বড় বিজিবি দল মাঠে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা থেকে নগরী, হাটহাজারী ও চন্দনাইশ উপজেলাসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে টহলে রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সিএমপির ১৬ থানার ৫শ পুলিশ সদস্য ও পুলিশ লাইন থেকে ১১শ সহ নগরীতে মোট ১৭শ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। র‌্যাব -৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো.শরীফ-উল-আলম বলেন, নগরে র‌্যাব-৭ এর ১৫টি টহল টিম মাঠে রয়েছে। এছাড়াও উপজেলাতেও আমাদের টহল টিম রয়েছে।
এদিকে সবশেষ পাওয়া খবরে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। অমি নামে ওই শিক্ষার্থীকে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত আহতরা হলেন আরেফিন শুভ, মোহাম্মদ মোরশেদ, সাইদ, শুভ, হিমাদ্রী, মোহাম্মদ মাহিন, মিনহাজুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, মোহাম্মদ মামুন, আদনান শরীফ, রাকিব শাহরিয়ার এবং হোসেন সোহরাওয়ার্দী। তাদের মধ্যে হোসেন সোহরাওয়ার্দী ব্যবসায়ী, মোরশেদ রিকশাচালক, হিমাদ্রী ও মোহাম্মদ ইলিয়াছ পথচারী, আদনান শরীফ ডেলিভারি ম্যান বলে জানা গেছে। বাকিরা সবাই শিক্ষার্থী।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রুপন মজুমদার, আসাদ বিন ইশকাত এবং শোভন নামে আরও তিনজনকে আনা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কালবেলার চট্টগ্রাম ব্যুরোর ফটো সাংবাদিক মোহাম্মদ সুমন টিঁয়ারসেলের আঘাত পেয়ে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন চিকিৎসা নিতে। এছাড়া বহদ্দারহাটে পেশাগত দায়িত্বপালনকালে কালবেলার ব্যুরোচিফ সাইদুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে সাগর হাওলাদার নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন চমেক হাসপাতালে।
এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর দুই নম্বর গেইট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়। এরা হলেন- দোকানকর্মী মো. ফারুক (৩২), ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম (২২) ও কলেজ ছাত্র ফয়সাল আহমেদ শান্ত (২১)। একইদিন সারাদেশে আরও তিন শিক্ষার্থী নিহত হন।সারাদেশে শিক্ষার্থী হতাহতের প্রতিবাদে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কমপ্লিট শাটডাউন বা সর্বাত্মক অবরোধের ডাক দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার ২৫ জুন, সকালে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক এর সভাপতিত্বে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জহির উদ্দিন ভূঁইয়া সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন বোয়ালখালী ইউসিসি (বিআরডিবি) র চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নুরুন্নবী চৌধুরী।আহলা কড়লডেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান। পৌরসভা বিএনপি সাবেক আহবায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব ইউসুফ চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ এম কামাল উদ্দিন।

সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় দিবসটি আগামী ৬ জুলাই সোমবার সকাল ১১টায় যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাঈম হাসান, উপজেলা সমবায় অফিসার মো. রাসেল চৌধুরী, উপজেলা স প্রা শিক্ষা অফিসার শিবলু দাশ, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাসান চৌধুরীসহবিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সমবায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিক অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মী।

চট্টগ্রাম বন্দরের অকশন শেডে অগ্নিকাণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের অকশন শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামের নিলাম শেডে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। তাদের তিনটি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ