আজঃ বুধবার ২৪ জুন, ২০২৬

প্রসূতিকে রক্তদান করে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও লালমোহন তৌহিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রসূতিকে রক্তদান করে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও । ভোলার লালমোহনের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে তাঁর সুনাম । মাটি ও মানুষের স্বজন ইউএনও তৌহিদুল ইসলাম।প্রসূতি নারী শাহিনা বেগমের বড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা বধূর বাড়ির মো. এরশাদের স্ত্রী। রোববার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৪) বিকেলে তার প্রসব বেদনা উঠে। এরপর স্বজনরা তাকে নিয়ে যান লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান শাহিনাকে এক ব্যাগ ‘ও নেগেটিভ’ রক্ত দিতে হবে। এমন দুষ্প্রাপ্য রক্তের খোঁজে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন প্রসূতি শাহিনার স্বজনরা। এরইমধ্যে তারা সন্ধান পান ‘রক্তদানের অপেক্ষায় লালমোহন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে লালমোহন উপজেলায় রক্তদানসহ রক্তের জোগান এবং নানামুখী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির সঙ্গে প্রসূতির স্বজনরা যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন জনের কাছে ‘ও নেগেটিভ’ রক্তের খোঁজ করেন। কোথাও এই গ্রুপের রক্তের সন্ধান না পেয়ে তারা যোগাযোগ করেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে। কারণ সংগঠনের সদস্যরা জানতেন ‘ও নেগেটিভ’ রক্তের বাহক ইউএনও। তিনি ঘটনা জেনে ওই প্রসূতিকে রক্ত দিতে রাজি হন। রোববার সন্ধ্যার পর স্থানীয় একটি ডায়াগনিস্টিকে গিয়ে মো. তৌহিদুল ইসলাম ‘ও নেগেটিভি’ গ্রুপের এক ব্যাগ রক্তদান করেন। এরপর রক্ত দেওয়া হয় শাহিনা বেগমকে। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর২০২৪) সকালে লালমোহন পৌরশহরের একটি ডায়াগনিস্টিকে ফুঁটফুঁটে একটি সন্তান প্রসব করেন তিনি। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলামের এমন মানবিক কাজের জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওই প্রসূতির স্বজন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রক্তদানের অপেক্ষায় লালমোহনের’ সদস্যরা। সংগঠনটির পরিচালক মো. সোহেল সর্দার বলেন, সচারচর ‘ও নেগেটিভ’ গ্রুপের রক্ত পাওয়া যায় না। এই গ্রুপের রক্ত অনেক দুষ্প্রাপ্য। তবে ইউএনও তার রক্তদান করে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার দান করা রক্তের কারণে ওই প্রসূতি মা সুন্দরভাবে সন্তান প্রসব করেছেন। আমাদের সংগঠনের ডাকে ইউএনও সাড়া দিয়ে এই মানবিক কাজ করায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা চাই ওনার মতো সকলেই এগিয়ে আসুক মানবতার কল্যাণে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমি ছাত্রজীবন থেকেই নিয়মিত রক্তদান করছি। আমার দেয়া রক্তে যদি কারো জীবন বেঁচে যায় ; এরচেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতে হতে পারে না। সুস্থ-সবল যে কেউ রক্তদান করতে পারে। সকলের কাছে আমি অনুরোধ- কারো প্রয়োজন হলে নির্ভয়ে রক্তদান করুন। রক্তদানের পূণ্যে জাগে জীবন । জেগে ওঠে মানবতার পৃথিবী ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পানিতে পড়ে নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের খাল ভাঙনে ঘর ধসে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ভেঙে পড়া ঘরের নিচ থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড়দল পুরানহাটি এলাকার মাঝের খালে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দল পুরানহাটি এলাকার বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে রুবেল মিয়া(৩০)দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে সবসময় বেঁধে রাখতেন। সোমবার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানি বড়দল মাঝের খাল দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির প্রবল স্রোতে খালের পাড় ভেঙে গেলে পাশেই থাকা বশিরুল হকের ঘর খালে ধসে পড়ে। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে সক্ষম হলেও রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি। ঘরের একটি কুটিরের সঙ্গে বাঁধা থাকায় ঘরসহ তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর বিকাল ৪টার পর দুর্ঘটনাস্থলে ভেঙে পড়া ঘরের কুটিরের নিচ থেকে রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর নিখোঁজ রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বুড়িশ্চর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম। তাঁর এই অর্জনে এলাকায় আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা ইফতেকারুল আলম সায়েম সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তাঁর মূল্যানের খবরে বুড়িশ্চর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি তরুণ সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ