আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

৩ কোটি টাকার যন্ত্র ক্রয় চট্টগ্রামে চোখে পড়ছে না মশা নিধনের কর্মসূচি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কোন কর্মসূচী চোখে পড়ছেনা। যার ফলে একের পর এক বাড়ছে চট্টগ্রমে ডেঙ্গু রোগী। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার আগস্টের শেষ দিকে ও সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জুলাই-আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বর ও আগামী কয়েক মাস ডেঙ্গুর বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। গত বছর জুলাইয়ে আগাম বৃষ্টি হওয়ায় সেবার আগস্ট-সেপ্টেম্বরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ছিল। তাই মশক নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কারণ এডিস মশা ইতোমধ্যে প্রজননের ক্ষেত্র তৈরি করে ফেলেছে।
এদিকে তেমন কর্মসূচি না থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মশা নিধন কার্যক্রমের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে মশক নিধন বিভাগ। সেখান থেকে ৩ কোটি টাকা খরচও করে ফেলেছে কর্মকর্তারা। কিনেছে মশা নিধন যন্ত্রপাতি ও কীটনাশক।
চট্টগ্রাম জেলা কীটতত্ত্ববিদ মোছাম্মৎ এনতেজার ফেরদাওছ বলেন, এডিস মশার প্রজননের মূল মৌসুম শুরু হচ্ছে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। এমনকি সেটি নভেম্বরও ছাড়িয়ে যায় অনেক সময়। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে আগস্টের শেষে ও সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে। তাই ডেঙ্গুর প্রজনন বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই মশক নিধন কার্যক্রম জোর দেওয়া উচিত।
জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে মশা নিধনের কোনো কর্মসূচিই চোখে পড়ছে না নগরবাসীর। শুরু হয়নি ক্রাশ প্রোগ্রামও। চট্টগ্রামে যখন ডেঙ্গু চোখ রাঙাচ্ছে তখন সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন বিভাগ আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারকে নগণ্য বলছে। মশক নিধন বিভাগের মতে, গত বছরের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কম। আর এটিই তাদের মশা নিধন কার্যক্রমের সফলতা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছে। এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা খরচও করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফগার মেশিন কেনা হয়েছে ১০টি, একটির দাম পড়েছে ৬৫ হাজার টাকা করে। স্প্রে মেশিন কেনা হয়েছে ১০০টি, প্রতিটি ১২০০ টাকা দামের। ২০ হাজার লিটার এডাল্টিসাইড, ৪০০ লিটার মুসকোভান কেনা হয়েছে। মুসকোভানের সঙ্গে দেওয়ার জন্য ৭০০ লিটার কালো তেল কেনা হয়েছে। এর আগে মুসকোভানের সঙ্গে ডিজেল কিংবা কেরোসিন কেনা হতো। খরচে সাশ্রয়ী বলে কালো তেল কেনা হয়েছে। এছাড়া লারবিসাইড ৩ হাজার লিটার কেনা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের ওষুধ মজুদ আছে। এসব ওষুধ স্প্রে করার জন্য ৩৫০ জন লোকবল নিয়োজিত আছে।
অন্যদিকে মশক নিধনে সফল হয়েছে বলে দাবি করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন বিভাগ। তাদের দাবি, গত বছর ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করার সুফল এ বছর পাওয়া যাচ্ছে। এ বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গতবারের চেয়ে কম।
মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি আরো বলেন, আমরা মশা নিধনে অবশ্যই সফল হয়েছি। তা নাহলে গত বছর জুলাইয়ে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মৃত্যুর হার যেমন ছিল, তার ছিঁটেফোটাও এ বছর নেই।
তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে চারটি ব্লকে ভাগ করে প্রতিদিন মশার প্রজননক্ষেত্রে ওষুধ স্প্রে করা হয়। এটি রুটিন ওয়ার্ক, সারা বছরই করা হয়। আমরা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতি সুপারভিশনে রাখি। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেসব ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বাসা-বাড়ির ৪০০ গজের মধ্যে মশা মারা ওষুধ স্প্রে করে থাকি।
এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান মতে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হাজারের ওপরে ছিল। এর মধ্যে জুলাই মাসে ২৩১১ জন, আগস্টে ৩০১১ জন, সেপ্টেম্বরে ৩৮৯২ জন, অক্টোবরে ২৭৭৯ জন, নভেম্বরে ১২৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ১৯৮ জন, আগস্ট ২০২ জন এবং সেপ্টেম্বরের ১৪ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ২০৪ জন।২০২৩ সালের জুলাইয়ে ১৬ জন, আগস্টে ২১ জন ও সেপ্টেম্বরে ২১ জন ও অক্টোবরে মৃত্যু হয়েছিল ১২ জনের। সেই হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ২ জন এবং সেপ্টেম্বরে এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় আগামীতে ডেঙ্গু বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ