আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

৩ কোটি টাকার যন্ত্র ক্রয় চট্টগ্রামে চোখে পড়ছে না মশা নিধনের কর্মসূচি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কোন কর্মসূচী চোখে পড়ছেনা। যার ফলে একের পর এক বাড়ছে চট্টগ্রমে ডেঙ্গু রোগী। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার আগস্টের শেষ দিকে ও সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জুলাই-আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বর ও আগামী কয়েক মাস ডেঙ্গুর বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। গত বছর জুলাইয়ে আগাম বৃষ্টি হওয়ায় সেবার আগস্ট-সেপ্টেম্বরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ছিল। তাই মশক নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কারণ এডিস মশা ইতোমধ্যে প্রজননের ক্ষেত্র তৈরি করে ফেলেছে।
এদিকে তেমন কর্মসূচি না থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মশা নিধন কার্যক্রমের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে মশক নিধন বিভাগ। সেখান থেকে ৩ কোটি টাকা খরচও করে ফেলেছে কর্মকর্তারা। কিনেছে মশা নিধন যন্ত্রপাতি ও কীটনাশক।
চট্টগ্রাম জেলা কীটতত্ত্ববিদ মোছাম্মৎ এনতেজার ফেরদাওছ বলেন, এডিস মশার প্রজননের মূল মৌসুম শুরু হচ্ছে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। এমনকি সেটি নভেম্বরও ছাড়িয়ে যায় অনেক সময়। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে আগস্টের শেষে ও সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে। তাই ডেঙ্গুর প্রজনন বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই মশক নিধন কার্যক্রম জোর দেওয়া উচিত।
জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে মশা নিধনের কোনো কর্মসূচিই চোখে পড়ছে না নগরবাসীর। শুরু হয়নি ক্রাশ প্রোগ্রামও। চট্টগ্রামে যখন ডেঙ্গু চোখ রাঙাচ্ছে তখন সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন বিভাগ আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারকে নগণ্য বলছে। মশক নিধন বিভাগের মতে, গত বছরের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কম। আর এটিই তাদের মশা নিধন কার্যক্রমের সফলতা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছে। এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা খরচও করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফগার মেশিন কেনা হয়েছে ১০টি, একটির দাম পড়েছে ৬৫ হাজার টাকা করে। স্প্রে মেশিন কেনা হয়েছে ১০০টি, প্রতিটি ১২০০ টাকা দামের। ২০ হাজার লিটার এডাল্টিসাইড, ৪০০ লিটার মুসকোভান কেনা হয়েছে। মুসকোভানের সঙ্গে দেওয়ার জন্য ৭০০ লিটার কালো তেল কেনা হয়েছে। এর আগে মুসকোভানের সঙ্গে ডিজেল কিংবা কেরোসিন কেনা হতো। খরচে সাশ্রয়ী বলে কালো তেল কেনা হয়েছে। এছাড়া লারবিসাইড ৩ হাজার লিটার কেনা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের ওষুধ মজুদ আছে। এসব ওষুধ স্প্রে করার জন্য ৩৫০ জন লোকবল নিয়োজিত আছে।
অন্যদিকে মশক নিধনে সফল হয়েছে বলে দাবি করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন বিভাগ। তাদের দাবি, গত বছর ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করার সুফল এ বছর পাওয়া যাচ্ছে। এ বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গতবারের চেয়ে কম।
মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি আরো বলেন, আমরা মশা নিধনে অবশ্যই সফল হয়েছি। তা নাহলে গত বছর জুলাইয়ে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মৃত্যুর হার যেমন ছিল, তার ছিঁটেফোটাও এ বছর নেই।
তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে চারটি ব্লকে ভাগ করে প্রতিদিন মশার প্রজননক্ষেত্রে ওষুধ স্প্রে করা হয়। এটি রুটিন ওয়ার্ক, সারা বছরই করা হয়। আমরা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতি সুপারভিশনে রাখি। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেসব ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বাসা-বাড়ির ৪০০ গজের মধ্যে মশা মারা ওষুধ স্প্রে করে থাকি।
এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান মতে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হাজারের ওপরে ছিল। এর মধ্যে জুলাই মাসে ২৩১১ জন, আগস্টে ৩০১১ জন, সেপ্টেম্বরে ৩৮৯২ জন, অক্টোবরে ২৭৭৯ জন, নভেম্বরে ১২৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ১৯৮ জন, আগস্ট ২০২ জন এবং সেপ্টেম্বরের ১৪ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ২০৪ জন।২০২৩ সালের জুলাইয়ে ১৬ জন, আগস্টে ২১ জন ও সেপ্টেম্বরে ২১ জন ও অক্টোবরে মৃত্যু হয়েছিল ১২ জনের। সেই হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ২ জন এবং সেপ্টেম্বরে এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় আগামীতে ডেঙ্গু বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ