আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জিএম’র সঙ্গে সাক্ষাতকালে এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। সাক্ষাতে তিনি কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সংস্কার করা পুরনো কালুরঘাট সেতু চালু করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যানবাহন চলাচল শুরুর অনুমতি দেয়ার তাগিদ দেন। চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দফতরে মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এরশাদ উল্লাহ। পরে তিনি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরীর সাথেও সাক্ষাত করেন।

সাক্ষাতে উভয় কর্মকর্তার সঙ্গে চট্টগ্রামবাসীর জন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে কল্যাণমুখী ও যাত্রীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে কথা বলেন এরশাদ উল্লাহ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কালুরঘাট সেতু। এ সেতুর জন্য দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষকে বিশেষ করে বোয়ালখালীর জনসাধারণকে গত ৩০-৩৫ বছর ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে এবং বোয়ালখালীর মানুষ বারবার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার সেটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি। তার পরিবর্তে গালভরা বড় বড় উন্নয়নের বুলি দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প বানিয়ে লুটপাট করেছে।

এরশাদ উল্লাহ আরও বলেন, নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণের যে প্রকল্প রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে, সেটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আমরা জানতে পেরেছি, নতুন প্রকল্পে ব্যয় আগের চেয়ে আট-দশগুণেরও বেশি বেড়েছে। ব্যয় বাড়িয়ে মাফিয়া সরকার লুটপাটের কোনো ফন্দি এঁটেছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে একনেকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা চাই, নতুন সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হোক, লাখো জনসাধারণকে তাদের নিত্যকার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেয়া হোক। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা উচিৎ হবে না।

এছাড়া পুরনো যে সেতু আছে, সেটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে সেটি চালু করে যানবাহন চলাচলে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না, সেটি আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। মাসের পর মাস ধরে ফেরি দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে মানুষের যে দুর্ভোগ, সেটি এভাবে চলতে দেয়া সমীচীন নয়। আমাদের দাবি হচ্ছে, সংস্কার করা সেতুটি দ্রুত চালু করা হোক।

সাক্ষাতে এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন গোমদন্ডী স্টেশনে যাত্রী উঠা-নামার জন্য বিরতির ব্যবস্থা করা এবং গোমদন্ডী স্টেশনকে নতুনভাবে সংস্কার করার জন্য অনুরোধ করেন।

রেলওয়ের দুই কর্মকর্তা বিএনপি নেতার এসব দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আজিজুল হক চেয়ারম্যান, শওকত আলম, বিএনপি নেতা জাফর আহম্মদ, আবুল হাশেম, জাকির হোসেন, নুরুল হক নুরু, মো. বাদশাহ, সরোয়োর আলমগীর, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম শাহীন, আকতার হোসেন, এম এন করিম, রফিকুল ইসলাম, মহিউদ্দিন জনি, মো. লোকমান, এস এম সোহেল মিয়াজি, রোকন উদ্দিন, মো. মিজান প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ