আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জিএম’র সঙ্গে সাক্ষাতকালে এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। সাক্ষাতে তিনি কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সংস্কার করা পুরনো কালুরঘাট সেতু চালু করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যানবাহন চলাচল শুরুর অনুমতি দেয়ার তাগিদ দেন। চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দফতরে মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এরশাদ উল্লাহ। পরে তিনি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরীর সাথেও সাক্ষাত করেন।

সাক্ষাতে উভয় কর্মকর্তার সঙ্গে চট্টগ্রামবাসীর জন্য রেলওয়ের পক্ষ থেকে কল্যাণমুখী ও যাত্রীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে কথা বলেন এরশাদ উল্লাহ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কালুরঘাট সেতু। এ সেতুর জন্য দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষকে বিশেষ করে বোয়ালখালীর জনসাধারণকে গত ৩০-৩৫ বছর ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে এবং বোয়ালখালীর মানুষ বারবার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার সেটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি। তার পরিবর্তে গালভরা বড় বড় উন্নয়নের বুলি দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প বানিয়ে লুটপাট করেছে।

এরশাদ উল্লাহ আরও বলেন, নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণের যে প্রকল্প রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে, সেটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আমরা জানতে পেরেছি, নতুন প্রকল্পে ব্যয় আগের চেয়ে আট-দশগুণেরও বেশি বেড়েছে। ব্যয় বাড়িয়ে মাফিয়া সরকার লুটপাটের কোনো ফন্দি এঁটেছিল কি না, সেটা খতিয়ে দেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে একনেকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা চাই, নতুন সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হোক, লাখো জনসাধারণকে তাদের নিত্যকার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেয়া হোক। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা উচিৎ হবে না।

এছাড়া পুরনো যে সেতু আছে, সেটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে সেটি চালু করে যানবাহন চলাচলে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না, সেটি আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। মাসের পর মাস ধরে ফেরি দিয়ে নদী পার হতে গিয়ে মানুষের যে দুর্ভোগ, সেটি এভাবে চলতে দেয়া সমীচীন নয়। আমাদের দাবি হচ্ছে, সংস্কার করা সেতুটি দ্রুত চালু করা হোক।

সাক্ষাতে এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন গোমদন্ডী স্টেশনে যাত্রী উঠা-নামার জন্য বিরতির ব্যবস্থা করা এবং গোমদন্ডী স্টেশনকে নতুনভাবে সংস্কার করার জন্য অনুরোধ করেন।

রেলওয়ের দুই কর্মকর্তা বিএনপি নেতার এসব দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আজিজুল হক চেয়ারম্যান, শওকত আলম, বিএনপি নেতা জাফর আহম্মদ, আবুল হাশেম, জাকির হোসেন, নুরুল হক নুরু, মো. বাদশাহ, সরোয়োর আলমগীর, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম শাহীন, আকতার হোসেন, এম এন করিম, রফিকুল ইসলাম, মহিউদ্দিন জনি, মো. লোকমান, এস এম সোহেল মিয়াজি, রোকন উদ্দিন, মো. মিজান প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ