চট্টগ্রাম নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারের মুখে সুলভমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসন সেলস সেন্টারে ভোক্তার হাতে পণ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম

চট্টগ্রামে ৮৯টি অভিযানে ২১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জরিমানা, মামলা-২৪৯টি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

৬টি পয়েন্টে খোলা হয়েছে সেলস সেন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬টি ভূমি সার্কেলের অধীন রেয়াজউদ্দিন বাজার, বক্সিরহাট, পাহাড়তলী কাঁচা বাজার, পতেঙ্গা স্টীলমিল বাজার, বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার ও ২নম্বর গেইট কর্ণফুলী কাঁচা বাজারে সুলভমূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসন সেলস সেন্টার খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এ ৬টি পয়েন্ট ছাড়া ছাত্র সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে নিত্য পণ্য নিয়ে নগরীর ৩টি পয়েন্টে সেলস সেন্টার খোলা হয়েছে। পাশাপাশি টিসিবি ২০টি পয়েন্টে সুলভমূল্যে পণ্য সামগ্রী দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর স্টেশন রোডস্থ রেয়াজউদ্দিন বাজারের মুখে ভোক্তাদের হাতে সুলভমূল্যে পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আলু, পটল, লাউ, কাঁচা পেঁপে ও ডিম তুলে দিয়ে জেলা প্রশাসন সেলস সেন্টারের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ কামরুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব শাখা) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাজীব হোসেন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আর.এম শাখা) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলাউদ্দিন, সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদ ইশরাক, স্টাফ অফিসার টু ডিসি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাকিব শাহরিয়ার, রেয়াজউদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, ছাত্র সমন্বয়কবৃন্দ, ক্যাব’র নেতৃবৃন্দ ও সিভিল সোসাইটির নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। জেলার প্রত্যেক উপজেলায়ও সুলভমূল্যের বাজার খোলা হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সেলস সেন্টারগুলো খোলা থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
নিত্য পণ্যের সেলস সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম বলেন, চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র রেয়াজউদ্দিন বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ ৬টি পয়েন্টে সুলভমূল্যের বাজার তৈরী করেছি। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি কমিয়ে আনতে জেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেলস সেন্টার উদ্বোধনের পর ক্রেতা সাধারণের লাইন পড়েছে। আমরা একটি মূল্য তালিকা করেছি, বাজারে যে মূল্য তালিকা রয়েছে সেটার তুলনায় প্রত্যেক পণ্যের মূল্য ১০ থেকে ২০ টাকা কমিয়ে দিয়েছি। বাইরে ডজন প্রতি ডিমের মূল্য ১৫০ টাকা, আমরা দিচ্ছি প্রতি ডজন ১৩৫ টাকায়।
তিনি বলেন, দ্রব্যের মূল্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে গত ১০ অক্টোবর তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। এর পর থেকে নিত্য পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে আমরা পুরোদমে বাজার মনিটরিংয়ের কাজ শুরু করেছি। ১০ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা ৮৯টি অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে ৩৫০ জনকে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৫’শ টাকা জরিমানা করেছি, মামলা হয়েছে ২৪৯টি।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য সুবিধা বঞ্চিত ও খেটে খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমিয়ে আনা আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এ জন্য সৎ ব্যবসায়ীরাসহ সবাই আমাদের পাশে আছে। আমাদের ধারাবাহিক বাজার মনিটরিং ও অভিযানের কারণে নিত্য পণ্যের মূল্য কিছুটা হলেও কমে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্নস্থানে ফসলের ফলন কিছুটা কম ছিল। প্রতিবছর এ সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। অসাধু ব্যবসায়ীরাও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বুদ্ধি করে রাখে। সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারলে অতিশীঘ্রই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের ভিতর থাকবে। যতদিন পর্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে না আসবে ততদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থা ও ছাত্র সমন্বয়কদের নিয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোক্তাদের জন্য আরও বিভিন্ন ধরণের সব্জি ও নিত্য পণ্য নিয়ে নিয়ে জেলা প্রশাসন সেলস সেন্টারের পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে লেবেলবিহীন ঘি দিয়ে খাবার তৈরি, জরিমানা গুনল বনফুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনসহ নানা অপরাধে বনফুলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। এছাড়া আরও নানা অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ।

তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন উপাদান উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে তেলাপোকা বিচরণ, বেনামি লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করায় বনফুলতে ৬০ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় এম অ্যান্ড এস মেডিকোকে ৬ হাজার টাকা, সাঈদ মেডিকেল হলকে ৩ হাজার টাকা, অপরিচ্ছন্ন অস্বাস্থ্যকর উপায় তেল সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাতকরণ, মোড়কজাত তেলে মেয়াদ মূল্য না দেওয়ায় পাঠানটুলি চৌমুহনী তেলের দোকানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কর বিরোধ, উচ্চ আদালতে যাবে চট্টগ্রাম বন্দর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) হোল্ডিং ট্যাক্স বা পৌরকর ১৫ শতাংশ কমিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দাবি করা ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে এই কর ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন। সিটি করপোরেশন এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করবে।

রায়ের বিষয়ে চসিকের আইনজীবী মঈনুদ্দিন সোহেল বলেছেন, দাবি করা কর ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। সিটি করপোরেশন এই রায়ে সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত সাজ্জাদ বলেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের আপিল আংশিক মঞ্জুর হয়েছে। মোট মূল্যায়ন ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা থেকে ২৩৩ কোটি কমানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চসিক ও বন্দরের একটি যৌথ দল ১ কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট জায়গার ওপর মূল্যায়ন সম্পন্ন করে। এর ভিত্তিতে বন্দরের ওপর ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়। এই মূল্যায়নের বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করে। তবে আইন অনুযায়ী আপিল করার শর্ত হিসেবে মোট দাবির ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা চসিকের তহবিলে জমা দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। চসিকের ইতিহাসে আগে কখনো একক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের টাকা জমা হয়নি।তবে এই জমা দেওয়া অর্থ চূড়ান্ত পৌরকর নয় বলে আগেই জানিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর।

বন্দরের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, আপিলের আইনি বাধ্যবাধকতা রক্ষার্থে ওই টাকা ‘জামানত’ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার শুনানিতে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ