আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের ৭টি পাটকলসহ সরকারের নয় মিল বন্ধ সীমিত আকারে পাটকল চালু হলেই পলিথিন পুরোপুরি বন্ধ হবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমিত আকারে পাটকল চালু করা হলেই সরকার ঘোষিত পলিথিন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। একইসঙ্গে চাল, গম ও ধানে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহারও রোধ করা যাবে। পাটকল মিলের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতারা এমনটি বলেছেন। তাদের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তুঘলকি সিদ্ধান্তে দেশের সবকটি পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দলের একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সোনালি ঐতিহ্য পাটকল ধ্বংস করা হয়েছে।
শ্রমিক ও কর্মকর্তারা বলেন, পাকিস্তান আমলে স্থাপিত বেশিরভাগ মেশিনই পুরনো। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর অনেক মেশিন ও যন্ত্রণাংশ মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও জোড়াতালি দিয়ে কিছু মেশিন চালু করা যাবে। এতে সরকার ও শ্রমিক উভয়ই লাভবান হবে। জুট মিলে উৎপাদিত কার্পেট, জায়নামাজ, চটের বস্তা বিখ্যাত ছিল। বড় ক্রেতা ছিল ইরান। ইরাক-ইরান যুদ্ধের পর সেই বাজার হারিয়ে যায়। নতুন কোন বাজার আর সৃষ্টি করা যায়নি। কম্বল, কাপড়ও বিদেশে রপ্তানি করা হতো।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকার দেশের পাটকলগুলো বন্ধ ঘোষণা করে। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের অবসরে পাঠানো হয়। দেশের ২৬টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ৭টি পাটকলসহ সরকারের নয় মিল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে আমিন জুট মিল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আরিফুর রহমান বলেন, সরকার পলিথিন ব্যাগ বন্ধের ঘোষণা দিলেও পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। আরও কয়েক দফায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পলিথিনের বিকল্প চট বা কাপড়ের ব্যাগ বাজারজাত না করায় পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। পলিথিনমুক্ত দেশ গড়ার জন্য সীমিত আকারে পাটকল চালু করা খুবই প্রয়োজন।
শ্রমিক নেতা আরিফুর রহমান দাবি করেন, দেশের খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিপুল পরিমাণ চটের বস্তার প্রয়োজন হয়। বেসরকারি মিল থেকে উচ্চমূল্যে কিনে চাহিদা মেটাতে হয়। দেশের পাটকলগুলো সীমিত আকারে চালু করা হলে সরকারি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনেকটা পূরণ হতো। এতে সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হতো। ১০-১৫ বছর আগেও দেশীয় পাটকলে উৎপাদিত চটের থলে দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হতো। লিবিয়া, সুদান ও সিরিয়াসহ কয়েকটি দেশে দেশীয় চটের বস্তা রপ্তানি হতো। এতে প্রচুর পরিমাণ রপ্তানি আয় আসতো; এমনটা মন্তব্য করেন শ্রমিকেরা। পাটকল শ্রমিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় গুটিকয়েক শিল্পপতি ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্বার্থ রক্ষায় পাটশিল্প পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
শিল্প দেশের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে শ্রমিক নেতা আরিফুর রহমান বলেন, একসময় ভারত বাংলাদেশ থেকে চটের বস্তা আমদানি করতো। এখন পাটের কাঁচামাল আমদানি করে ভারত। এতে দেশীয় শিল্প ক্রমান্বয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একই কথা বললেন সীতাকুণ্ডের হাফিজ জুটমিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, গত সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী পাটশিল্প ধ্বংসে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। দেশীয় শিল্প ধ্বংস করে পাটের কাঁচামাল ভারতে রপ্তানি করেন। সর্বশেষ সরকারি সব পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে দেন।তিনি আরও বলেন, সরকার সীমিত আকারে চালু রাখার আশ্বাস দিয়ে মিল বন্ধ করেছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন করেনি। পলিথিন নিরুৎসাহিত করতে হলে পাটশিল্প উজ্জীবিত করতে হবে।
এ বিষয়ে পাটকল মিলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরকারকে সহায়তা করার জন্য বিকল্প সহায়ক রাখতে হয়। সরকারের বিকল্প না থাকায় বেসরকারি পাটকলগুলো ইচ্ছেমতো দামে বস্তা সরবরাহ করছে। এছাড়া কাঁচা পাটের বাজার ভারত ও ফড়িয়া-মাফিয়া চক্রের হাতে চলে গেছে। ভরা মৌসুমে কম দামে পাটের কাঁচাপণ্য কিনে মজুত করে। পরবর্তীতে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করে।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে পাটের বস্তায় প্লাস্টিকের আবরণ (লেমিনেশন) করা শুরু হয়। বাজারে এই ধরনের বস্তার ভালো চাহিদা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিলগুলোর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও রপ্তানিতে যুগোপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে অটোমেশিনের বেসরকারি পাটকলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারেনি সরকারি পাটকলগুলো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালদা নদীর চার জায়গায় কার্প-জাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ প্রজনন মৌসুমের প্রথম দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র এই হালদা নদীর গড়দুয়ারা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়া এলাকাসহ কয়েকটি অংশ থেকে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেন সংগ্রহকারীরা।ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডিম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার দুপুরে এক থেকে দেড় কেজি ডিম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই এই চার মাস হালদায় কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমের যেদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নামে, সেদিন ডিম ছাড়ে মা মাছ। প্রজনন মৌসুমে মা মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকেন ৫০০ থেকে ৭০০ জন সংগ্রহকারী। তবে গত কয়েকবছর ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমে এসেছে।

হালদা-গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে অল্প পরিমাণ ডিম ছাড়ে। এর কারণ ডিমভর্তি মা মাছেরা বজ্রপাতের কারণে বা জোয়ার–ভাটার পানির চাপে কিছু কিছু ডিম ছেড়ে দেয়। এগুলোকে নমুনা ডিম বলি আমরা। নমুনা ডিম পাওয়া গেলে বোঝা যায় পুরোদমে ডিম ছাড়ার সময় আসন্ন।
মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই নদী থেকে গত বছর ১৪ হাজার কেজি মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে আহরণকারীরা। এর আগে ২০২০ সালে রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার কেজি ডিম পাওয়া যায়।

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ