আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের ৭টি পাটকলসহ সরকারের নয় মিল বন্ধ সীমিত আকারে পাটকল চালু হলেই পলিথিন পুরোপুরি বন্ধ হবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমিত আকারে পাটকল চালু করা হলেই সরকার ঘোষিত পলিথিন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। একইসঙ্গে চাল, গম ও ধানে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহারও রোধ করা যাবে। পাটকল মিলের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতারা এমনটি বলেছেন। তাদের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তুঘলকি সিদ্ধান্তে দেশের সবকটি পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দলের একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সোনালি ঐতিহ্য পাটকল ধ্বংস করা হয়েছে।
শ্রমিক ও কর্মকর্তারা বলেন, পাকিস্তান আমলে স্থাপিত বেশিরভাগ মেশিনই পুরনো। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর অনেক মেশিন ও যন্ত্রণাংশ মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও জোড়াতালি দিয়ে কিছু মেশিন চালু করা যাবে। এতে সরকার ও শ্রমিক উভয়ই লাভবান হবে। জুট মিলে উৎপাদিত কার্পেট, জায়নামাজ, চটের বস্তা বিখ্যাত ছিল। বড় ক্রেতা ছিল ইরান। ইরাক-ইরান যুদ্ধের পর সেই বাজার হারিয়ে যায়। নতুন কোন বাজার আর সৃষ্টি করা যায়নি। কম্বল, কাপড়ও বিদেশে রপ্তানি করা হতো।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকার দেশের পাটকলগুলো বন্ধ ঘোষণা করে। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের অবসরে পাঠানো হয়। দেশের ২৬টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ৭টি পাটকলসহ সরকারের নয় মিল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে আমিন জুট মিল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আরিফুর রহমান বলেন, সরকার পলিথিন ব্যাগ বন্ধের ঘোষণা দিলেও পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। আরও কয়েক দফায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পলিথিনের বিকল্প চট বা কাপড়ের ব্যাগ বাজারজাত না করায় পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। পলিথিনমুক্ত দেশ গড়ার জন্য সীমিত আকারে পাটকল চালু করা খুবই প্রয়োজন।
শ্রমিক নেতা আরিফুর রহমান দাবি করেন, দেশের খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিপুল পরিমাণ চটের বস্তার প্রয়োজন হয়। বেসরকারি মিল থেকে উচ্চমূল্যে কিনে চাহিদা মেটাতে হয়। দেশের পাটকলগুলো সীমিত আকারে চালু করা হলে সরকারি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনেকটা পূরণ হতো। এতে সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হতো। ১০-১৫ বছর আগেও দেশীয় পাটকলে উৎপাদিত চটের থলে দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হতো। লিবিয়া, সুদান ও সিরিয়াসহ কয়েকটি দেশে দেশীয় চটের বস্তা রপ্তানি হতো। এতে প্রচুর পরিমাণ রপ্তানি আয় আসতো; এমনটা মন্তব্য করেন শ্রমিকেরা। পাটকল শ্রমিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় গুটিকয়েক শিল্পপতি ও প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্বার্থ রক্ষায় পাটশিল্প পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
শিল্প দেশের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে শ্রমিক নেতা আরিফুর রহমান বলেন, একসময় ভারত বাংলাদেশ থেকে চটের বস্তা আমদানি করতো। এখন পাটের কাঁচামাল আমদানি করে ভারত। এতে দেশীয় শিল্প ক্রমান্বয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একই কথা বললেন সীতাকুণ্ডের হাফিজ জুটমিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, গত সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী পাটশিল্প ধ্বংসে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। দেশীয় শিল্প ধ্বংস করে পাটের কাঁচামাল ভারতে রপ্তানি করেন। সর্বশেষ সরকারি সব পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে দেন।তিনি আরও বলেন, সরকার সীমিত আকারে চালু রাখার আশ্বাস দিয়ে মিল বন্ধ করেছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন করেনি। পলিথিন নিরুৎসাহিত করতে হলে পাটশিল্প উজ্জীবিত করতে হবে।
এ বিষয়ে পাটকল মিলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরকারকে সহায়তা করার জন্য বিকল্প সহায়ক রাখতে হয়। সরকারের বিকল্প না থাকায় বেসরকারি পাটকলগুলো ইচ্ছেমতো দামে বস্তা সরবরাহ করছে। এছাড়া কাঁচা পাটের বাজার ভারত ও ফড়িয়া-মাফিয়া চক্রের হাতে চলে গেছে। ভরা মৌসুমে কম দামে পাটের কাঁচাপণ্য কিনে মজুত করে। পরবর্তীতে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করে।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে পাটের বস্তায় প্লাস্টিকের আবরণ (লেমিনেশন) করা শুরু হয়। বাজারে এই ধরনের বস্তার ভালো চাহিদা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিলগুলোর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও রপ্তানিতে যুগোপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে অটোমেশিনের বেসরকারি পাটকলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারেনি সরকারি পাটকলগুলো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ায় ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান সংগ্রহের সময় শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে আগে আসলে আগে বিক্রয় ভিত্তিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগের নিবন্ধিত কৃষকরা কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর মূল্য সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কৃষকদের পরিচয়, কৃষি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হয়েছে। সব অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে ধান গ্রহণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব হিসাবেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সরকার চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে গত ৩ মে থেকে সারাদেশে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই বিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী মৌসুমেও সরকার একইভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এতে কৃষকরা উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ