আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে অগ্নি দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে শতাধিক মার্কেট ও কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে শতাধিক মার্কেট এবং জনবহুল এলাকা অগ্নি দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। অগ্নি দূর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস বাহিনী দূর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই অনেকটাই ক্ষতি হয়ে যায়। প্রতি বছর নগরীর কোন না কোন মার্কেটে ঘটে চলেছে অগ্নি দূর্ঘটনা। ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় সমবায় মার্কেটে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায় এবং একজনের মৃত্যু হয়। একই বছরের ১২ জানুয়ারী রেয়াজউদ্দিন বাজারের নুপুর মাকের্টে আগুন লাগে। এর আগে চৌধুরী প্লাজা, হোটেল সফিনা, জহুর হকার মাকের্টে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আবার অনেক মাকের্টে রয়েছে পোশাক কারখানা কিংবা বিভিন্ন ক্রোকারীজ ও খাদ্য তৈরির কারখানা।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের আঞ্চলিক অফিসের দেয়া তথ্য মতে, চট্টগ্রামে অন্তত ৪৫ মার্কেটে ও ১০টি বাজার আগুনের ঝূঁকিতে রয়েছে। মার্কেটগুলো তৈরি হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। তাছাড়া অনেকদিন পূর্বে নির্মিত কিছু ভবন রয়েছে, সেগুলোর কোন মেয়াদ নেই এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভাঙ্গার জন্য সিডিএকে যে নোটিশ করা হয়েছিল তা কখনেই আলোর মুখ দেখেনি।
পরিবেশবিদরা এ ব্যাপারে বারবার সিডিএ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরে তাগাদা দিলেও কার্যত এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকী এ তালিকা অনুসারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার ফাইভস্টার গলির মুখে মোহাম্মদ মিয়ার চার তলার ভবনের নীচতলায় সেমাই কারখানা রয়েছে। এ কারখানার ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলায় আবাসিক ভাড়াটিয়া রয়েছে। যখন সেমাইয়ের চুলায় আগুন দেয়া হয়, তখন উপরে বসবাসরতরা আগুনের তাপে কষ্ট ও দূর্ভোগের শিকার হয়। এখানে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে অঘ্নিদূর্ঘটনা। ধ্বসে পড়তে পারে ভবন। এ চারতলা ভবনের নীচ তলায় সেমাই কারখানার গ্যাসের চুলার উত্তাপে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভবনের উপরের তলার বাসিন্দারা। ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল অনেক বছর পূর্বে। এ ভবনের মেয়াদ আরো অনেক বছর আগে ফুরিয়ে গেছে। সেমাই কারখানার তাপের ভবনের বিভিন্নস্থাানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
ভবনটির বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় রাজাখালী ফায়ার সর্ভিসের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ভবনটি বেশ জারজীর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ। তাই ভবন মালিককে বেশ কয়েকবার নোটিশে ভবন ভাঙ্গার তাগিদ দিয়েছি। তাছাড়া এ এলাকায় অন্যান্য ব্যবসা ও আবাসিক এলাকা থাকার কারনে সেমাই কারখানা সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সেমাই কারখানাটি আবাসিক এলাকায় হওয়ায় পরিবেশেরও বিপর্যয় হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছে এখানকার বসবাসরতরা। এদিকে আবাসিক এলাকা থেকে পোশাক ও শিল্প কারখানা শিল্পজোানে সরিয়ে নেয়ার সরকারী সিদ্ধান্ত থাকলেও ওই সকল পোশাক ও অন্যান্য কারখানা সরিয়ে না নেয়ার কারণে প্রায়ই কোন না কোন দূর্ঘটনা ঘটে চলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে কয়েকবার অভিযোগ দিয়েও কার্যত ফল আসেনি। রাজাখালী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, অবিলম্বে এ ঝূঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলা হোক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ