আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে অগ্নি দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে শতাধিক মার্কেট ও কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে শতাধিক মার্কেট এবং জনবহুল এলাকা অগ্নি দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। অগ্নি দূর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস বাহিনী দূর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই অনেকটাই ক্ষতি হয়ে যায়। প্রতি বছর নগরীর কোন না কোন মার্কেটে ঘটে চলেছে অগ্নি দূর্ঘটনা। ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় সমবায় মার্কেটে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায় এবং একজনের মৃত্যু হয়। একই বছরের ১২ জানুয়ারী রেয়াজউদ্দিন বাজারের নুপুর মাকের্টে আগুন লাগে। এর আগে চৌধুরী প্লাজা, হোটেল সফিনা, জহুর হকার মাকের্টে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আবার অনেক মাকের্টে রয়েছে পোশাক কারখানা কিংবা বিভিন্ন ক্রোকারীজ ও খাদ্য তৈরির কারখানা।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের আঞ্চলিক অফিসের দেয়া তথ্য মতে, চট্টগ্রামে অন্তত ৪৫ মার্কেটে ও ১০টি বাজার আগুনের ঝূঁকিতে রয়েছে। মার্কেটগুলো তৈরি হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। তাছাড়া অনেকদিন পূর্বে নির্মিত কিছু ভবন রয়েছে, সেগুলোর কোন মেয়াদ নেই এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভাঙ্গার জন্য সিডিএকে যে নোটিশ করা হয়েছিল তা কখনেই আলোর মুখ দেখেনি।
পরিবেশবিদরা এ ব্যাপারে বারবার সিডিএ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরে তাগাদা দিলেও কার্যত এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকী এ তালিকা অনুসারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার ফাইভস্টার গলির মুখে মোহাম্মদ মিয়ার চার তলার ভবনের নীচতলায় সেমাই কারখানা রয়েছে। এ কারখানার ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলায় আবাসিক ভাড়াটিয়া রয়েছে। যখন সেমাইয়ের চুলায় আগুন দেয়া হয়, তখন উপরে বসবাসরতরা আগুনের তাপে কষ্ট ও দূর্ভোগের শিকার হয়। এখানে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে অঘ্নিদূর্ঘটনা। ধ্বসে পড়তে পারে ভবন। এ চারতলা ভবনের নীচ তলায় সেমাই কারখানার গ্যাসের চুলার উত্তাপে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভবনের উপরের তলার বাসিন্দারা। ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল অনেক বছর পূর্বে। এ ভবনের মেয়াদ আরো অনেক বছর আগে ফুরিয়ে গেছে। সেমাই কারখানার তাপের ভবনের বিভিন্নস্থাানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
ভবনটির বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় রাজাখালী ফায়ার সর্ভিসের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ভবনটি বেশ জারজীর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ। তাই ভবন মালিককে বেশ কয়েকবার নোটিশে ভবন ভাঙ্গার তাগিদ দিয়েছি। তাছাড়া এ এলাকায় অন্যান্য ব্যবসা ও আবাসিক এলাকা থাকার কারনে সেমাই কারখানা সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সেমাই কারখানাটি আবাসিক এলাকায় হওয়ায় পরিবেশেরও বিপর্যয় হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছে এখানকার বসবাসরতরা। এদিকে আবাসিক এলাকা থেকে পোশাক ও শিল্প কারখানা শিল্পজোানে সরিয়ে নেয়ার সরকারী সিদ্ধান্ত থাকলেও ওই সকল পোশাক ও অন্যান্য কারখানা সরিয়ে না নেয়ার কারণে প্রায়ই কোন না কোন দূর্ঘটনা ঘটে চলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে কয়েকবার অভিযোগ দিয়েও কার্যত ফল আসেনি। রাজাখালী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, অবিলম্বে এ ঝূঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলা হোক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতের চট্টগ্রামস্থ সহকারী হাইকমিশনের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন আজ বুধবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘ চার বছর বাংলাদেশে কর্মরত থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ডা. রাজীব রঞ্জনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় মেয়র বলেন, “বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। ভারতের এক একটি রাজ্য থেকে আরেকটি রাজ্যের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ভিন্নতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশকে ঐক্যবদ্ধ করে চলতে পারার কারণেই ভারত বিশ্বের বুকে একটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমি ব্যক্তি জীবনে অনেকবার ভারতে গিয়েছি, এমনকি পড়াশোনার জন্যও গিয়েছি।তিনি আরও বলেন – বাংলাদেশের অনেক মানুষ ধর্মীয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যান। তাদের ভিসা প্রসেসিং সহজ হলে এবং ভিসা প্রদানের গতি বাড়লে উভয় দেশের মানুষই উপকৃত হবে।”

বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, “চট্টগ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি নগরী। কারণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনো অনেকটাই সংরক্ষিত আছে। বিশেষ করে ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা ও ফয়’স লেক এলাকা অত্যন্ত নয়নাভিরাম। চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় এবং নদীও অপূর্ব সুন্দর। পর্যটনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান।সাক্ষাৎকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মেয়র মহোদয় বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনারকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ