আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

আইনজীবি সাইফুল হত্যা : আসামীদের দ্রুত বিচারের দাবী বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় সংঘর্ষে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মোঃ আসলাম চৌধুরী এসফিএ। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপি নেতা মোঃ আসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখো শহীদের মহান আত্মত্যাগ ও সহযোদ্ধা বীরঙ্গনাদের সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় দেশ মাতৃকা প্রিয় বাংলাদেশ। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শত্রুর বুলেট খুঁজেনি কে মুসলিম, কে হিন্দু, কে খ্রিস্টান বা কে বৌদ্ধ। সে দিনের সেই রক্তের বন্যাতেও কেউ খুঁজে পায়নি কোন সাম্প্রদায়িকতার চিহ্ন।তাই চার মূল নীতির অন্যতম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মান ছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেরে অন্যতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। অথচ, স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫৩ বছর পরেও আমাদের দেশ মাতৃকাকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্পে জ্বলতে দেখে সত্যিই অত্যন্ত মর্মাহত হচ্ছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মান প্রচেষ্টায় আমাদের এই দীর্ঘ পথচলায় হঠাৎ করেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কালো থাবায় প্রিয় বাংলাদেশ আজ অগ্নিগর্ভে নিমজ্জিত।
বিশ্ব মিডিয়ায় আজ বাংলাদেশ তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে মূছে দিয়ে উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদী মতাদর্শের দিকে পরিবর্তীত হচ্ছে।
আজ সারা বাংলাদেশ উত্তাল। ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী গ্রেপ্তার। চট্টগ্রামে তরুন আইনজীবি সাইফুল ইসলাম আলিফ কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি তরুন আইনজীবি হত্যা ও ঘটে যাওয়া অন্যান্য হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। দিনদিন পরিস্থিতি ক্রমশঃ ঘোলাটে হচ্ছে। কিন্তু আমরাতো এমন বাংলাদেশ চাইনি। গত স্বৈরাচারী সরকারের সময় আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ৯ টি বছর জেলে কাটিয়েছি তো এমন বাংলাদেশ দেখার জন্য নয়।
প্রিয় দেশবাসী আপনাদের অত্যন্ত বিনয়ের সহিত বলতে চাই, প্রতিটি পরিবারে বাবা মায়ের নিকট তাদের প্রতিটি সন্তান যেমন সমান অধিকার ভোগ করে থাকে একটি রাষ্ট্রের কাছেও প্রত্যেকটি ধর্মের লোক সমান অধিকার ভোগ করবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। কোন ধর্মীয় জাতীয়তাবাদে নয়, বাংলাদেশরে প্রতিটি নাগরিক পরিচিত হবেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে। এটিই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানের মূলমন্ত্র। বাংলাদেশের প্রিয় মুসলিম ভাইদের উদ্দেশ্যে বলছিঃ পবিত্র কুরআনের সূরা আল মায়িদাহ ইরশাদ হচ্ছে, হে মুমিনগণ! নিজেদের ধর্ম নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করো না। আর (ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে) তোমাদের আগে যারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়ে ও অন্যদের পথভ্রষ্ট করে সহজ-সরল পথচূত্য হয়েছে, তাদের পথ অবলম্বন করো না, (আয়াত-৭৭)।
এছাড়াও সূরা বাকারার ২২৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, এটি আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। সুতরাং সেটি অতিক্রম করো না। যারা অতিক্রম করে, তারাই প্রকৃত জালেম (সীমা লঙ্গনকারী)।
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি প্রসঙ্গে বোখারী শরীফে আবু হুবায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত হাদিসে উল্লেখ আছে, নবীজি বলেছেন,- আল্লাহর দ্বীন (ধর্ম) খুব সহজ। কেউ এই দ্বীনকে কঠিন করে তুললে সেটা তার উপরেই চেপে বসবে। তাই সবসময় সঠিক পন্থা অবলম্বন করো।
মুসলিম শরীফে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিত হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, (তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবড়ি করো না)। অতীতে ধর্মচর্চা নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করেছে. তারা নিহত ও ধ্বংস হয়েছে। নবীজি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) (সাঃ) তিনবার এই কথা পুনরাবৃত্তি করেন।
সুতরাং প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে মুসলিম হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। উগ্র সাম্প্রদায়িকাতাকে পূজি করে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। দিন শেষে মনে রাখবেন, এই বাংলাদেশ আপনার, আমার ও সকলের। সকল ধর্মের, সকল বর্নের ও সকল জাতির, হোক সে পাহাড়ি কিংবা বাঙালি। নিজের ঘর অশান্ত করে কেউ সুখে থাকতে পারে না। অন্যের প্ররোচনায় নিজের ঘর অশান্ত করার চেষ্টা কারো থেকেই কাম্য নয়। এতে কেউ ভাল থাকতে পারবেন না ৷
তাই দেশের প্রতিটি নাগরিক তার একান্তই নিজের দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে প্রিয় দেশ মাতৃকাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্নত বাংলাদশে বিনির্মান প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিয়ে যাবার যুদ্ধে আমাদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। গভীর দেশপ্রেম ব্রত নিয়ে সকলকে ধৈর্য্য ধারন করার আহ্বান করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালদা নদীর চার জায়গায় কার্প-জাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ প্রজনন মৌসুমের প্রথম দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র এই হালদা নদীর গড়দুয়ারা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়া এলাকাসহ কয়েকটি অংশ থেকে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেন সংগ্রহকারীরা।ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডিম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার দুপুরে এক থেকে দেড় কেজি ডিম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই এই চার মাস হালদায় কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমের যেদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নামে, সেদিন ডিম ছাড়ে মা মাছ। প্রজনন মৌসুমে মা মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকেন ৫০০ থেকে ৭০০ জন সংগ্রহকারী। তবে গত কয়েকবছর ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমে এসেছে।

হালদা-গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে অল্প পরিমাণ ডিম ছাড়ে। এর কারণ ডিমভর্তি মা মাছেরা বজ্রপাতের কারণে বা জোয়ার–ভাটার পানির চাপে কিছু কিছু ডিম ছেড়ে দেয়। এগুলোকে নমুনা ডিম বলি আমরা। নমুনা ডিম পাওয়া গেলে বোঝা যায় পুরোদমে ডিম ছাড়ার সময় আসন্ন।
মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই নদী থেকে গত বছর ১৪ হাজার কেজি মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে আহরণকারীরা। এর আগে ২০২০ সালে রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার কেজি ডিম পাওয়া যায়।

প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, প্রবাসীরা অকুতোভয় যোদ্ধার মতো পরিবার থেকে দূরে থেকে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান। তাঁদের পাঠানো অর্থেই দেশের অর্ধেকের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো হয়।তাঁদের এই ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানাতেই আমরা এই গণশুনানির আয়োজন করেছি।বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্যোগ ‘প্রবাসীদের জন্য অনলাইন গণশুনানি’ আয়োজন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।গণশুনানিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

এতে বিদেশে অবস্থানরত ১১ জন প্রবাসী সরাসরি অংশ নিয়ে জমিজমা বিরোধ, অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক জটিলতা, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

অভিযোগ শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যেসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন, সেগুলোতে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি খাত-গার্মেন্টস, প্রবাসী আয় ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে বসবাসরত দেড় কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।গণশুনানিতে কাতারপ্রবাসী রাঙ্গুনিয়ার রানা সুশীল আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের আবেদন জানান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের পরও অনেক প্রবাসী পরিবার ও সম্পত্তি–সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এসব সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ আগেই সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

শুধু অভিযোগ শোনা নয়, দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে প্রবাসীরা দূরে থেকেও আমাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন। আমরা তাঁদের জানাতে চাই—তাঁরা দূরে নন, আমরা তাঁদের পাশেই আছি।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতি বুধবার নিয়মিত গণশুনানির পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হবে।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত। অনেক প্রবাসী দেশে থাকা সম্পত্তি দখল ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ওমানপ্রবাসী নুর মোহাম্মদ সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ আনোয়ার নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির কথা জানান। সৌদি আরব, দুবাই ও আবুধাবিপ্রবাসী আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন।এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাঁদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এ সময় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ