আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

আইনজীবি সাইফুল হত্যা : আসামীদের দ্রুত বিচারের দাবী বিএনপি নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় সংঘর্ষে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মোঃ আসলাম চৌধুরী এসফিএ। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপি নেতা মোঃ আসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখো শহীদের মহান আত্মত্যাগ ও সহযোদ্ধা বীরঙ্গনাদের সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় দেশ মাতৃকা প্রিয় বাংলাদেশ। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শত্রুর বুলেট খুঁজেনি কে মুসলিম, কে হিন্দু, কে খ্রিস্টান বা কে বৌদ্ধ। সে দিনের সেই রক্তের বন্যাতেও কেউ খুঁজে পায়নি কোন সাম্প্রদায়িকতার চিহ্ন।তাই চার মূল নীতির অন্যতম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মান ছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেরে অন্যতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। অথচ, স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫৩ বছর পরেও আমাদের দেশ মাতৃকাকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্পে জ্বলতে দেখে সত্যিই অত্যন্ত মর্মাহত হচ্ছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মান প্রচেষ্টায় আমাদের এই দীর্ঘ পথচলায় হঠাৎ করেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কালো থাবায় প্রিয় বাংলাদেশ আজ অগ্নিগর্ভে নিমজ্জিত।
বিশ্ব মিডিয়ায় আজ বাংলাদেশ তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে মূছে দিয়ে উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গিবাদী মতাদর্শের দিকে পরিবর্তীত হচ্ছে।
আজ সারা বাংলাদেশ উত্তাল। ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী গ্রেপ্তার। চট্টগ্রামে তরুন আইনজীবি সাইফুল ইসলাম আলিফ কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি তরুন আইনজীবি হত্যা ও ঘটে যাওয়া অন্যান্য হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। দিনদিন পরিস্থিতি ক্রমশঃ ঘোলাটে হচ্ছে। কিন্তু আমরাতো এমন বাংলাদেশ চাইনি। গত স্বৈরাচারী সরকারের সময় আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ৯ টি বছর জেলে কাটিয়েছি তো এমন বাংলাদেশ দেখার জন্য নয়।
প্রিয় দেশবাসী আপনাদের অত্যন্ত বিনয়ের সহিত বলতে চাই, প্রতিটি পরিবারে বাবা মায়ের নিকট তাদের প্রতিটি সন্তান যেমন সমান অধিকার ভোগ করে থাকে একটি রাষ্ট্রের কাছেও প্রত্যেকটি ধর্মের লোক সমান অধিকার ভোগ করবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। কোন ধর্মীয় জাতীয়তাবাদে নয়, বাংলাদেশরে প্রতিটি নাগরিক পরিচিত হবেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে। এটিই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানের মূলমন্ত্র। বাংলাদেশের প্রিয় মুসলিম ভাইদের উদ্দেশ্যে বলছিঃ পবিত্র কুরআনের সূরা আল মায়িদাহ ইরশাদ হচ্ছে, হে মুমিনগণ! নিজেদের ধর্ম নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করো না। আর (ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে) তোমাদের আগে যারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়ে ও অন্যদের পথভ্রষ্ট করে সহজ-সরল পথচূত্য হয়েছে, তাদের পথ অবলম্বন করো না, (আয়াত-৭৭)।
এছাড়াও সূরা বাকারার ২২৯ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, এটি আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। সুতরাং সেটি অতিক্রম করো না। যারা অতিক্রম করে, তারাই প্রকৃত জালেম (সীমা লঙ্গনকারী)।
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি প্রসঙ্গে বোখারী শরীফে আবু হুবায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত হাদিসে উল্লেখ আছে, নবীজি বলেছেন,- আল্লাহর দ্বীন (ধর্ম) খুব সহজ। কেউ এই দ্বীনকে কঠিন করে তুললে সেটা তার উপরেই চেপে বসবে। তাই সবসময় সঠিক পন্থা অবলম্বন করো।
মুসলিম শরীফে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিত হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, (তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবড়ি করো না)। অতীতে ধর্মচর্চা নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করেছে. তারা নিহত ও ধ্বংস হয়েছে। নবীজি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) (সাঃ) তিনবার এই কথা পুনরাবৃত্তি করেন।
সুতরাং প্রিয় মুসলমান ভাইয়েরা, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে মুসলিম হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। উগ্র সাম্প্রদায়িকাতাকে পূজি করে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। দিন শেষে মনে রাখবেন, এই বাংলাদেশ আপনার, আমার ও সকলের। সকল ধর্মের, সকল বর্নের ও সকল জাতির, হোক সে পাহাড়ি কিংবা বাঙালি। নিজের ঘর অশান্ত করে কেউ সুখে থাকতে পারে না। অন্যের প্ররোচনায় নিজের ঘর অশান্ত করার চেষ্টা কারো থেকেই কাম্য নয়। এতে কেউ ভাল থাকতে পারবেন না ৷
তাই দেশের প্রতিটি নাগরিক তার একান্তই নিজের দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে প্রিয় দেশ মাতৃকাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্নত বাংলাদশে বিনির্মান প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিয়ে যাবার যুদ্ধে আমাদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। গভীর দেশপ্রেম ব্রত নিয়ে সকলকে ধৈর্য্য ধারন করার আহ্বান করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে সাড়ে তিন বছর আগে শিশুকে কেটে ছয় টুকরো, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ৩৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।সাড়ে তিন বছর আগে এই শিশুকে কেটে ছয় টুকরো করে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গুমের লোমহর্ষক ঘটনার মামলার রায় দেয়া হল। দণ্ডিত ২৩ বছর বয়সী আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জালাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। লাশ টুকরো-টুকরো করে গুমের অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার চার বছর ১১ মাস বয়সী মেয়ে আলীনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

ঘটনা জেনেই ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।২৪ নভেম্বর আয়াত হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী তরুণ আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। ২৫ নভেম্বর দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যে ৩০ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে নালাসংলগ্ন স্লুইচগেট এলাকা থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার হয়। ৬ ডিসেম্বর আবিরের সহযোগী এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

আবিরের বরাতে পিবিআই তখন জানিয়েছিল, আবির ১৫ নভেম্বর আয়াতকে তুলে নিয়ে শ্বাসরোধে খুন করেন। এরপর লাশ কেটে ছয় টুকরো করেন। ১৬ নভেম্বর সকালে লাশের তিনটি টুকরো নগরীর আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধের পর আউটার রিং রোডসংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে ভাসিয়ে দেন। ওইদিন রাতে বাকি তিন টুকরো আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইচগেটের প্রবেশমুখে ফেলে দেন।

আয়াতের বাবার করা মামলা তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবির আলী এবং তার কিশোর বয়সী বন্ধুকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় আয়াতের দাদা মনজুর হোসেনের মালিকানাধীন ভবনে ভাড়া থাকত আবিরের পরিবার। আবিরের জন্ম ওই বাসায়। তবে ঘটনার সময় তার বাবা আজাহারুল ইসলাম ওই বাসায় থাকলেও দাম্পত্য কলহের জেরে মা আলো বেগম আকমল আলী রোডে আলাদা বাসায় থাকতেন। আবির ও তার বোন মায়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে আবির তার বাবার বাসায়ও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন।

বেকার জীবনের হতাশা থেকে আবির সম্পদশালী পরিবারের শিশু আয়াতকে অপহরণ করে বড় অংকের টাকা মুক্তিপণ আদায় করার কৌশল নিয়েছিলেন। সহযোগী কিশোরকে নিয়ে তিনি আয়াতকে তুলে নিয়েছিলেন। এরপর আবির তার বাবার বাসায় নিয়ে শিশুটিকে খুন করেন। লাশ বস্তায় ভরে মায়ের বাসায় নিয়ে কেটে ছয় টুকরো করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন। ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আদালতে উপস্থিত পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানালেন, মামলার দুজন আসামির মধ্যে আবির আলীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। অপর আসামি কিশোর বয়সী হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে চলমান আছে।

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন : বিভাগীয় কমিশনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলছেন,তামাকজনিত রোগ, অকালমৃত্যু এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের আয়োজনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক” বিভাগীয় তামাক বিরোধী সেমিনার-২০২৬ এ প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুখোশ ভাঙো, আসক্তি ছাড়ো, তামাক- নিকোটিনমুক্ত জীবন গড়ো এই প্রতিপাদ্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিকল্প অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের বিস্তারকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন,সেমিনারে ইসিগারেট নিয়ন্ত্রণ, তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করা, তামাক বিক্রেতাদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এবং তামাক কোম্পানির প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারি ও বেসরকারি সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন,বর্তমান সরকার দেশের যুবসমাজকে তামাক ও মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া কার্যক্রমের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। সরকারের বিশ্বাস, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, বরং তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত তরুণরা তামাক ও অন্যান্য ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকে এবং একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সরকার একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে এবং তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর।

ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, তামাক চাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও কীটনাশক নদীর পানি এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হালদা নদীর প্রতিবেশ সংরক্ষণে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছিল।সরকারি গেজেটের ফলে হালদা নদীর তীরবর্তী নির্ধারিত এলাকায় আর কোনো ধরনের তামাক চাষ করা যাবে না।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার উন্নয়ন মোঃ মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে আয়েজিত সেমিনারে তামাকের ক্ষতিকর দিক ও আইন নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সেখ ফজলে রাব্বি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন,চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ,চট্টগ্রামের সিভিল সার্জান ডা.জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আইন বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক বিভাগীয় তামাক বিরোধী সেমিনারের পূর্বে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গন থেকে র‌্যলি শুরু করে কাজির দেউরী মোড় হয়ে আবার সার্কিট হাউজ এসে র‌্যলি শেষ হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ